সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যায় শিল্পপতি শ্বশুর গ্রেফতার
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
পাবনায় সাংবাদিক সুবর্ণা নদী হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধান আসামী ও নিহতের সাবেক শ্বশুর শিল্পপতি আবুল হোসেনকে। পুলিশ আশাবাদী, শিগগিরই মামলার সুরাহা হবে। নিহত নদীর স্বজনরা ও সহকর্মীরা চান, দ্রুত দোষীদের শাস্তি। মঙ্গলবার রাতে পাবনা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাসায় দুবৃর্ত্তদের হামলায় নিহত হন বেসরকারি টিভি চ্যানেল আনন্দ-এর পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী। বাসার কলিং বেল চেপে গেটের সামনেই সুবর্ণাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আলোচিত এই হত্যাকান্ডের জন্য সাবেক স্বামী ও শ্বশুরের সাথে বিরোধকেই কারণ মনে করছেন স্বজনরা। বুধবার দুপুরে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার/পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন নিহত নদীর মা মর্জিনা খাতুন। 

বিকেলে নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন থেকে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। বুধবার দুপুরে রাজীবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা করেন নিহতের মা। এর আগে সকালে শহরের শালগাড়িয়া এলাকায় শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, 'সুবর্ণা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। এমনকি সুবর্ণার পরিবারও একই ধারণা করছে।'

স্বজনরা জানান, পাবনা পৌরসভার রাধানগর এলাকায় ভাড়া থাকতেন সুবর্ণা নদী। মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন তার বাসার কলিং বেল টিপলে দরজা খোলেন নদী। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় নদীর সাবেক স্বামী রাজিব জড়িত বলে অভিযোগ তাদের।

ব্যবসায়ী রাজিব নিহত নদীর দ্বিতীয় স্বামী। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে এবং সম্প্রতি বিচ্ছেদও হয়। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলছে। প্রথম স্বামীর ঘরে নদীর ৯ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আনন্দ টিভিতে কাজ করার পাশাপাশি জাগ্রত বাংলা নামে একটি অনলাইন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

এদিকে সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বুধবার সকালে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এতে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা, 'আনন্দ টিভি'র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৪৩:২৫