সেপ্টেম্বরে আন্দোলনে যাচ্ছেন ড.কামাল-বি. চৌধুরী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন রাজনৈতিক মোর্চা যুক্তফ্রন্ট। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যুক্তফ্রন্টের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিন রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠকে বসেন যুক্তফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। খবর বিডি জার্নাল'র।

দেড় ঘণ্টা ব্যাপী চলা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহম্মদ মনসুর, নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, সহ সভাপতি শাহ আহমেদ বাদল, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বৈঠকের শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ৫ জানুয়ারির মতো সরকার নির্বাচন করতে চায়। যেভাবে নির্বাচন করতে চাইছে তা কোনোভাবেই হতে দেয়া যাবে না। দেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা নিতে পারি তা এখনই ঠিক করতে হবে। সেপ্টেম্বরের আন্দোলন সফল করার জন্য চার সদস্যের উপকমিটিও করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, আবদুল মালেক রতন, মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও ডা. জাহিদুর রহমান। আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় শহর সফর এবং সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠক শেষে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে, তারা আজ্ঞাবহ ভূমিকায় নেমেছে। তাই তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। সেপ্টেম্বরে আমরা আন্দোলনে যাচ্ছি। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেব। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে যদি আমাদের রাখা হয় তবে আমরা থাকতে রাজি আছি। তবে নিরপেক্ষ প্রশাসন ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে এই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে হবে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় ঐক্য গঠনের ব্যাপারে সমমনা দলগুলো একমত হয়েছে। তবে ঐক্যের বিষয়টি এখনও পাকাপোক্ত হয়নি। ঐক্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।সূত্র আরও জানিয়েছে, দুই রাজনৈতিক দল নেতাকর্মীদের নামে মামলা প্রত্যাহার ও তাদের কারামুক্তির দাবির বিষয়টি তুলেছিলেন। এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

ড. কামাল হোসেন বৈঠকে বলেন, ‘ঐক্য প্রক্রিয়ার এজেন্ডায় এই বিষয়টি রাখা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক নেতাদের নামে চলমান মামলাগুলো আইনিভাবে মীমাংসা করতে হবে।’বৈঠকে এক পর্যায়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমানের মৃদু বাক্য বিনিময় হয়। বৈঠকে ড. কামাল হোসেন জিজ্ঞাসা করেন, ‘মান্না আপনার দলের আর লোক কোথায়?’তখন মাহমুদুর রহমান মান্না বিব্রত অবস্থায় পড়েন এবং তিনি বিষয়টি সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর ড. কামাল হোসেন মাহমুদুর রহমান মান্নাকে কাছে ডাকেন। তবে মান্না এ সময় ড. কামালের কাছে না এসে দূরত্ব বজায় রাখেন।

বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের চৌধুরীকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তফ্রন্টে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে কাদের চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে কাদের সিদ্দিকী যুক্তফ্রন্টে আসতে চাইলে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন নেতারা।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন বি চৌধুরী, রব ও মান্না। সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে যুক্তফ্রন্টে যুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে গত ২০ আগস্ট বিকল্পধারা মহাসচিব মান্নানের গুলশানের বাড়িতে গণফোরামের নেতারা বৈঠক করতে যান। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ওই বৈঠকের পর যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়ার ব্যাপারে নিজের সম্মতির কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তফ্রন্টের নেতারা ড. কামালের বাসায় বৈঠকে বসেন।

 

 

 

 

 

 

২৮ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৪০:১৪