পুলিশ পরিদর্শক মামুন হত্যা
আফরিন জানান, সেখানে তাঁর বান্ধবীরা ছাড়া আর কেউই থাকবে না
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
এসবির পুলিশ পরিদর্শক মামুন এমরান খান (ইনসেটে) হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
টাকা হাতানোর জন্য জন্মদিনের পার্টিতে অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে জিম্মি করে পিটিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন এমরান খানকে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার দিবাগত রাতে ডিবি পূর্ব বিভাগের সদস্যরা বাড্ডা ও হাজারীবাগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মিজান শেখ, মেহেরুন্নেছা স্বর্ণা ওরফে আফরিন ওরফে আন্নাফি, সুরাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া ও ফারিয়া বিনতে মীম। গ্রেপ্তারকৃতরা মামুনকে কীভাবে এবং কেন হত্যা করেছে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বর্ণনা করেছেন।  বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।

আব্দুল বাতেন জানান, মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না। তাঁরা মূলত মামুনের বন্ধু রহমত উল্লাহকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে চেয়েছিলেন। ‘ব্ল্যাক মেইলে’র পর তাঁরা রহমতের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু রহমতের সঙ্গে মামুন ঘটনাস্থলে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সেখানে মামুন পুলিশের কর্মকর্তা পরচিয় দিলে তারা বিপদে পড়ার ভয়েই তাকে মারধর করে। ওই মারধরই মারা যান মামুন। পরের দিন সকালের দিকে তাঁরা গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় একটি বনে মামুনের লাশটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। পুড়িয়ে দেওয়ার আগে মামুনের মুখটি বিকৃত করে দেন তাঁরা। মামুনের লাশ কোথাও ফেলে দেবে নাকি আগুনে পুড়ে ছাই করে দেবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তাঁরা।

আব্দুল বাতেন জানান, নিহত মামুনের বন্ধু রহমত, মডেল অভিনেত্রী আফরিনসহ আরো কয়েকজন কয়েক বছর ধরে টিভির একাধিক ‘ক্রাইম সিরিয়াল গোয়েন্দা’ নাটকে অভিনয় করছিলেন। ওই সুবাদে তাঁদের মধ্যে পরিচয় ছিল। বছর খানেক আগেও রহমত ও আফরিন একটি নাটকে অভিনয় করেন। ঘটনার দিন রহমতকে হঠাৎ করেই ‘ক্রাইম সিরিয়ালের অভিনেত্রী’ আফরিন ফোন করে জানান তাঁর আজ ‘বার্থডে পার্টি’। সেখানে তাঁর তিন-চারজন বান্ধবী ছাড়া আর কেউই থাকবে না। এ কথা শোনার পর রহমত তাঁর বন্ধু মামুনকে ফোন করেন এবং সেখানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। মামুনও রাজি হন। বনানীর এক বাসায় ছিল ওই আয়োজন। মামুন নিজের মোটরসাইকেল ও রহমত প্রাইভেটকারে করে রওনা হন। ওই বাসায় প্রবেশের সময় তাঁরা আফরিনকে ফোন দেন। আফরিন তাঁদের ফোন ধরেন।

বাসার দ্বিতীয় তলায় প্রবেশের খানিক পরই তিন-চারজন যু্বক এসে বলে, তোরা (মামুন ও রহমত) খারাপ ও এই মেয়েরাও খারাপ। তোদের ছবি তুলে পত্রিকায় দিয়ে দেব। এ কথা শোনার পর মামুন বলে আপনারা কারা। তখন ওই চার যুবক (মিজান, দিদার, স্বপন ও আতিক) নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দেন। এ সময় মামুনও নিজেকে পুলিশের সদস্য বলে তাঁর পরিচয়পত্র দেখান। এতে তাদের মাথা বিগড়ে যায়। তারা মামুন ও রহমতের মুখে কসটেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তারা মামুনকে ব্যাপক মারধরও করে।

রহমত দেখতে পান মামুন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানে তিনি মারা যান। মামুন মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখে ওই চার যুবক ভয় পান এবং তাঁরা লাশটি কীভাবে গুম করবে তার পরিকল্পনা করতে থাকেন। মামুন যখন মারা যান তখন রাত ১২টা। পরের দিন তাঁরা ভোরে রহমতের মাইক্রোবাসে করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে গাজীপুরের দিকে রওনা হন। মাইক্রোবাসটি চালান রহমত নিজেই। আর মাইক্রোবাসে ছিলেন ওই বাসার ম্যানেজার রবিউল, মিজান ও রহমতসহ পাঁচজন। গাজীপুর যাওয়া ও লাশ গুম করার পরিকল্পনায় ছিলেন মিজান শেখ।

আব্দুল বাতেন আরো জানান, তাঁরা মামুনের লাশটি মাইক্রোবাসে নেওয়ার পর পথে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ঢুকে নাস্তা খান। পরে পেট্রল নিয়ে কালীগঞ্জের দিকে রওনা হন এবং উলুখোলা জায়গার একটি জঙ্গলে লাশটি ফেলে দেওয়ার পর তা পুঁড়িয়ে দিয়ে তারা ঢাকায় চলে আসেন। এর আগে ৮ জুলাই সবুজবাগ থানায় মামুনের পরিবার তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। বিষয়টি তদন্ত করছিল পুলিশের কয়েকটি টিম। লাশ ফেলে ঢাকার আসার পরই রহমতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে রহমত আফরিন, মিজান, দিদার, স্বপন ও আতিকের সম্পৃক্ত থাকার কথা জানান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

       

 

২১ জুলাই, ২০১৮ ০৯:৫৮:০৯