‘অসুস্থ’ খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়লো
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (১০ জুলাই) খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল। একইসঙ্গে তাকে আদালতে হাজির করার কথাও ছিল। তবে আদালতে জমা দেওয়া কাস্টডিতে বলা হয়েছে, অসুস্থ থাকায় খালেদা জিয়াকে  আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় নাই। এজন্য তার আইনজীবীরা জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত মঞ্জুর করেন। এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়াউর রহমানসহ প্রমুখ। আর দুদুকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজন।

শুনানি শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ১৭ জুলাই পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ান এবং একই সঙ্গে ওইদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন দিন ধার্য করেন। এদিন সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়ে ১১টা ১৩ মিনিটে শেষ হয়।

এদিকে, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে আদালতের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া থেকে ১৫০ দিন এই মামলার উপস্থিত হননি।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে চান না। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত না করতে পারলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা যাবে না।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়  খালেদা জিয়া ছাড়া আরো তিনজন আসামি রয়েছেন। এরা হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

প্রসঙ্গত, দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসান খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

১০ জুলাই, ২০১৮ ১২:৫০:২৪