শরণার্থী শিশুদের দায়িত্ব পুরো পৃথিবীকে নিতে হবে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
রোহিঙ্গা বাবা-মায়েদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা ও শেখার সুযোগ না পেলে রোহিঙ্গা শিশুরা হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে। শিক্ষা কোনো পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। বললেন ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত এবং বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির ঘুরে এসে বৃহস্পতিবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, শরণার্থী শিশুদের দায়িত্ব পুরো পৃথিবীকে নিতে হবে। কারণ তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নাই। হৃদয় খুলে দিন। আপনারা মনে সহমর্মিতা আনুন। আমাদের নিজেদের শিশুদের মতো এই শিশুদের দেখুন। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সোমবার বাংলাদেশে আসেন প্রিয়াঙ্কা, বলিউড ছাড়িয়ে যার পদচারণা এখন হলিউডেও।

গত চার দিনে তিনি উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি শরণার্থী ক্যাম্প এবং সীমান্তের কাছের রোহিঙ্গা আগমনের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তাদের বাস্তবতা, তাদের সঙ্কট। সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছে, তাদের প্রতি মানবিকতার জন্য। যে মানবিকতা সারা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৫-৬ বছরের শিশুদের চিত্রকর্ম দেখার কথা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, তারা দেখেছে মাথার উপরে রকেট লঞ্চার, পায়ের তলায় মাইন। তারা সেটা মনে রেখেছে এবং এঁকেছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎরা খুব বাজে অবস্থায় আছে। যারা আগামীতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে তারা আজ পরিবারের সঙ্গে ঘুমোতে পারছে না, তাদের সামনে এমন নৃশংসমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে। যেগুলো তারা মুছে ফেলতে পারছে না, ঘুমের মধ্যেও তারা ভয় পাচ্ছে এমন পরিস্থিতি কী ভাবা যায়। আমাদের এ বিষয়ে এখনই সোচ্চার হতে হবে। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার এই ট্রিপ ছিল শিশুদের জীবন বদলের ট্রিপ। সেই বার্তা নিয়েই বাংলাদেশে এসেছি। নিরাপদে-নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার অধিকার প্রতিটি শিশুর রয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের এই সংকটের জন্য যে সব দেশ দায়ী তাদেরকে আপনি কোনো চাপ দিবেন কি না? সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মী নই। আমি অভিনেত্রী এবং আমি আমার জায়গা থেকে শিশুদের জন্য কাজ করছি।

 

 

 

২৫ মে, ২০১৮ ০০:২৩:০১