সাইবার ক্রাইমের শিকার ৫২ শতাংশই নারী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন যত দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে, তত দ্রুতেই দেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তর সুবিধা। এতে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে গেলেও এটি ব্যবহার করে সাইবার অপরাধের প্রবণতাও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে দেশের নারীরা এই সমস্যার শিকার হচ্ছেন অনেক বেশি। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের আইন থাকলেও তা জানা না থাকায় এবং এর সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় অনেক নারীই পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সুবিচার।

বিবিসি বাংলা তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের ৫২ ভাগ অভিযোগই আসে নারীদের কাছ থেকে৷ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরা। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৭৪ শতাংশ।

অভিযোগের একটি বড় অংশের অভিযোগ ফেসবুক সংক্রান্ত ৷ যার মধ্যে আইডি হ্যাক থেকে শুরু করে সুপার ইম্পোজ ছবি এবং পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে৷ হয়রানির শিকার হলেও ভুক্তভোগীদের ৩০ শতাংশই এর বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে জানেন না। বাকীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে অভিযোগ করেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিকারের উপায় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়-ভীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নারীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তেমনি ব্ল্যাক-মেইল ও হুমকির কারণে তাদের ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে৷

প্রতিকারে যা করণীয়

বাংলাদেশে ২০০৬ সালে প্রথম সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) প্রণয়ন করা হয়৷ এরপর ২০১৩ সালে এই আইন সংশোধন করা হয়। সে বছরই ঢাকায় স্থাপন করা হয় দেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনালটি। এই আইনে কারো অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তোলা এবং তা প্রকাশ করার অপরাধে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের সঠিক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন করার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ করা হলে সাইবার অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে একটি সাইবার হেল্প ডেস্কও রয়েছে ৷ এই হেল্পলাইন (০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮) সপ্তাহের সাতদিন, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ হেল্পলাইনে সরাসরি ফোন করে অথবা এসএমএসের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে হটলাইন '৯৯৯' চালু করেছে সরকার। যে কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হলে এই হটলাইনে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাইবার অপরাধ তদন্ত বিষয়ক সেল রয়েছে।  সূত্র : বিবিসি বাংলা


২০ মে, ২০১৮ ১৭:৫৭:৪৯