'নাবালিকা ধর্ষণে ফাঁসির সাজার অর্থ সাবালিকা ধর্ষণে উৎসাহ!'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
দেশে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় কড়া শাস্তির বিধান আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। যেখানে বলা হয়েছে অনূর্ধ্ব ১২ বছরের কোনও নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হলে সেই ধর্ষককে ফাঁসির সাজা দেওয়া হবে। এই আইন কার্যকর হওয়ার অর্থ কি ১২ বছরের উর্ধ্বে মেয়েদের ধর্ষণে পুরুষদের উৎসাহিত করা! আশংকা প্রকাশ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে ঝড় উঠেছে সমালোচনার। এই অবস্থায়, শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ২০১২ (পকসো) পরিবর্তনের জন্য অধ্যাদেশ আনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। যেখানে একগুচ্ছ বদল নিয়ে আসা হয়েছে অভিযুক্তদের শাস্তিবিধানে।

নয়া শাস্তি বিধান অনুসারে, মহিলাদের ধর্ষণের ঘটনায় ন্যূনতম সাজা ১০ বছর। ১২ বছরের কমবয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করলে ন্যূনতম সাজা ২০ বছরের জেল, সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। ১২ বছরের কমবয়সীকে গণধর্ষণ করলে সাজা যাবজ্জীবন কারাবাস বা মৃত্যুদণ্ড। ১৬ বছরের কমবয়সীদের ধর্ষণ করলেও ন্যূনতম সাজা ১০ বছরের বদলে ২০ বছরের কারাদণ্ড। সর্বোচ্চ শাস্তি আমৃত্যু কারাবাস। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের নীচের কাউকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করলে অভিযুক্তরা আগাম জামিনও পাবেন না। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে।

এই আইন সংশোধন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর কথায়, “অনুর্ধ্ব ১২ বছরের কোনও মহিলাকে ধর্ষণ করা হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আমার চিন্তা হচ্ছে, এই আইন কি ১২ বছরের উর্ধ্বে মহিলাদের ধর্ষণে উৎসাহিত করবে না তো!” রবিবার এমনই ট্যুইট করেছেন লজ্জার লেখিকা।

মৃত্যুদণ্ড দিলেই যে ধর্ষণ বা অন্য কোনও অপরাধ কমে যাবে না বলেও দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন। ট্যুইটার পোস্ট এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেও এই মত ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিশ্বের ১৪০টি দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মৃত্যুদণ্ড। খুব শীঘ্রই বাকি সকল দেশ এই একই পথে হাঁটবে বলেও জানিয়েছেন তসলিমা।

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:৩০:২৮