রোকেয়ার নির্দেশে কক্সবাজারে একাধিক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হন তানিয়া
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাম পাশ থেকে রোকেয়া ও তানিয়া
সিলেটের মা ও ছেলের খুনের ঘটনার পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়াবা থেকে নিয়ে দেহ ব্যবসার মত তথ্য বেরিয়ে আসছে। গত ১ এপ্রিল সিলেট নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের নিচতলার কক্ষ থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয় তানিয়া নামে এক তরুণীকে। সিলেটের পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই জানায় খুনের ঘটনায়  তানিয়া জড়িত। খবর বিডি জার্নাল'র।

তানিয়া পুলিশকে জানায়, তাকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন নিহত রোকেয়া বেগম। সেখানে থ্রি-স্টার হোটেলে তানিয়াকে পর পুরুষের হাতে ঠেলে দিয়েছিলেন রোকেয়া। কিন্তু এতে রাজি ছিলেন না তানিয়া। একপর্যায়ে তাকে বাধ্য হয়ে কক্সবাজারে গিয়েও ওই পুরুষদের মনোরঞ্জন করতে হয়। শয্যাসঙ্গী হতে হয় একাধিক পুরুষের। 

পিবিআই সূত্র জানায়, সুন্দরী হওয়ার কারণে তানিয়ার চাহিদা ছিল সবার কাছে। আর সেই সুযোগটি নিয়েছে রোকেয়া বেগম। সিলেটের কয়েক যুবক রোকেয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারে আগেই যোগাযোগ করেন। এরপর তানিয়াকে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে যান। রোকেয়া ওই সময় বলেছিল, কক্সবাজার বেড়ানের খরচ তুলতে হবে। বেড়ানোর খরচ তোলার জন্য তানিয়াকে ব্যবহার করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, রোকেয়া ও তার ছেলে রূপম খুন হয় মার্চ মাসের ৩০ তারিখ। আর ওই মাসের প্রথম দিকে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন তানিয়াও। তবে কারা রোকেয়াকে কক্সবাজার নিয়ে গিয়েছিল- সেটি তানিয়ার মুখ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়নি। জানা গেছে রোকেয়ার সঙ্গে সিলেটের কয়েকজন যুবক ছিল।

পুলিশ জানায়, রোকেয়া ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। কক্সবাজার থেকে তিনি ইয়াবা কিনে নিয়ে আসে। সেদিন রোকেয়া শুধু বেড়ানোর জন্যই নয়, ইয়াবার চালান নিয়ে আসার জন্য কক্সবাজার গিয়েছিল। এ বিষয়টি পুলিশ বিশদ তদন্ত করছে। 

পুলিশ তদন্ত করে জানায়, তানিয়া রোকেয়াকে ‘বড় আপা’ বলে ডাকতো। কিন্তু নিহত রোকেয়ার ছেলে রূপমের বাড়াবাড়ি তানিয়ার কাছে ছিল অসহনীয়। ঘরের মধ্যে সবার সামনে তানিয়াকে ঝাপটে ধরতো সে। সেটি রোকেয়া দেখলেও কোনো বাধা দিত না। তানিয়ার কাছে বিষয়টি ছিল বিরক্তিকর ছিল। 

তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত রোকেয়ার বাসা ছিল সেক্স স্পট। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের পুরুষদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। বাসা ছাড়াও হাই-প্রোফাইল কয়েকজন পুরুষদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই সব ব্যক্তিদের সঙ্গে রোকেয়ার মোবাইল কথা হতো। তার কললিস্ট ঘেঁটে এসব তথ্য জানা যায়। শুধু তাই নয়, ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দিলারা নামে আরেক নারীর সঙ্গে ছিল তার দন্দ্ব। কিন্তু রোকেয়া খুনের পর দিলারা আড়ালে চলে যায়।

এদিকে, সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশের রিমান্ডে থাকা নিহত রোকেয়ার প্রেমিক নাজমুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে নাজমুলসহ একটি চক্র সহযোগী হিসেবে ছিল। খুনের ঘটনার দিনও রোকেয়ার ঘরে দীর্ঘসময় একান্তে কাটিয়েছে নাজমুল।

১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:২৬:৫২