পয়লা বৈশাখের একাল-সেকালের পাঁচালি
গোলাম মাওলা রনি
অ+ অ-প্রিন্ট
ফরিদপুরের যে অঞ্চলে আমার জন্ম তাকে আপনি অনায়াসে ভাটির দেশ বলতে পারেন। পদ্মা, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি নদ-নদী প্রতি বছর বর্ষাকালে রাক্ষুসে রূপ নিয়ে সমগ্র এলাকা এমনভাবে প্লাবিত করত যাতে মনে হতো আমরা সবাই নীল দরিয়ার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছি। বর্ষার ঠিক মাসখানেক আগে প্রথম যেদিন কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে মুষলধারে ভারি বৃষ্টি হতো সেদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত হাজার হাজার কোলা ব্যাঙ তাদের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকাডাকির মাধ্যমে বর্ষায় বন্যার প্রচণ্ডতার পূর্বাভাস দিত। আমাদের মুরব্বিরা অনায়াসে ব্যাঙের ডাকের ধরন ও প্রকৃতি দেখে বলে দিতে পারতেন আগামী বর্ষায় কী পরিমাণ পানির তোড়ে কতটুকু বন্যা হবে!

আমার জীবনে বর্ষার গুরুত্ব এবং বর্ষাকালের মোহময় আনন্দ বলেকয়ে শেষ করা যাবে না। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দু-একটি বাড়ি, দু-একটি স্থান ও একটি মাত্র রাস্তায় কোনো দিন বন্যার পানি উঠতে দেখিনি। বাকি এলাকা বানের পানিতে তলিয়ে যেত। ঘরের মধ্যে একহাঁটু পানি, উঠানে কোমরপানি এবং বাড়ির সামনের সমতল ভূমিতে অথৈ পানির মধ্যে ছোট্ট ডিঙি নৌকা নিয়ে সিন্দাবাদের মতো ভাবসাব করা দুরন্ত কিশোর বেলার স্মৃতি আজও আমায় তাড়িয়ে বেড়ায়। বর্ষাকালের হিজল-তমাল ও কদমফুলের বাহারি রং; শত শত প্রজাতির দেশি মাছের সমারোহ এবং বর্ষাকেন্দ্রিক অর্থনীতির হাঁকডাক আমরা আগেভাগে টের পেয়ে যেতাম চৈত্রের আবহাওয়ার গতি ও প্রকৃতি দেখে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে চৈত্র মাসকে বসন্তের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও গ্রাম বাংলায় আমরা চৈত্র বলতে ভয়াবহ কিছু বুঝতাম। চারদিকে কাঠফাটা রোদ্দুর। বাতাসে আগুনের হল্কা ও অনাবৃষ্টির কারণে জমি ফেটে চৌচির হওয়ার মধ্যে আমরা কবির বর্ণনার মনোরম বসন্তের কোনো সন্ধান পেতাম না। চৈত্রের দুপুরে তৃষ্ণার্ত কাক যেভাবে পানির জন্য হাঁ করে থাকত কিংবা কুকুরগুলো জিব বের করে যেভাবে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিত তাতে প্রকৃতির রুক্ষতার এক নিদারুণ দৃশ্য ফুটে উঠত। বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকার মতো আমাদের ফরিদপুরেও চৈত্র মাসে প্রায়ই বৃষ্টি হতো না। গ্রামের যুবক-যুবতীরা দলবেঁধে বৃষ্টিবন্দনা করে গান গেয়ে বেড়াত। মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা হতো। কৃষক নিত্যকার আলোচনায় শুধু বৃষ্টি নিয়ে কথাবার্তা বলত। তারপর একদিন সেটা অলৌকিকভাবে কিনা জানি না হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া কিংবা কালবৈশাখী রূপে বৃষ্টির অঝর ধারা প্রবাহিত হতো ঠিক চৈত্রসংক্রান্তির দিন বিকালে নতুবা পয়লা বৈশাখের দিন বিকালে।

আমার জন্মভূমির ২০-২৫ বর্গমাইলের মধ্যে পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে অনেক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কোথাও হতো ষাঁড়ের লড়াই, কোথাও মেলা। সত্তর দশকের দুঃখী বাংলার অভাবী মানুষের হাড্ডিসার দেহ, ছিন্ন বসনের অর্ধ উলঙ্গ চলাফেরা এবং রোগবালাইতে পরিপূর্ণ একটি শরীরের মধ্যে হাসি হাসি মুখ এবং রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে জ্বলজ্বল করা দুটি আঁখির মায়াভরা চাউনির কথা মনে হলে তাদের জন্য পরম মমতায় আজও বুকের মধ্যখানে হাহাকার করে ওঠে। শত শত অভুক্ত মানুষ ছিন্ন বসন নিয়ে দশ-বারো মাইল পথ হেঁটে অভুক্ত অথবা ক্ষুধার্ত পেটে গান শুনতে যেত। তারা সেখানে নবী-রসুলদের অভাবের কথা শুনে কেঁদে কেটে জারেজার হয়ে নিজের ক্ষুধা-যন্ত্রণা ভুলে যেত। গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে কোনো বুনো ফল, পাথরকুচি পাতা কিংবা রাস্তার পাশে জন্ম নেওয়া কাইস্যা যা কিনা অনেকটা আখের মতো স্বাদযুক্ত তা চিবোতে চিবোতে রাস্তা পাড়ি দিত স্বর্গের অফুরন্ত মধু মেওয়া এবং দুধ-মাখনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে। সেকালের পয়লা বৈশাখ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তবে চৈত্রসংক্রান্তি অর্থাৎ চৈত্রের শেষ দিনটিতে অনুষ্ঠিত হালখাতা নিয়ে মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস, তোড়জোড় ইত্যাদির কমতি ছিল না। আমার শৈশবের পয়লা বৈশাখের দিনগুলোয় বাংলায় শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। বেশির ভাগ লোক লেখাপড়া জানত না। অনেকে শিখতেও চাইত না। ধনাঢ্য ও অভিজাত পরিবারের মেয়েদের কেবল কোরআন পড়ার জন্য যতটুকু আরবি দরকার ঠিক ততটুকুই শিক্ষা দেওয়া হতো। আমার দাদি ও মা-চাচিদের আমলে বড় গৃহস্থঘরের মেয়েদের স্কুল-কলেজ দূরের কথা, বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তারা টাকাপয়সার হিসাব দূরের কথা, কোনটা কত টাকার নোট কিংবা কোন মানের মুদ্রা তাও জানতেন না। তাদের স্বামী-সন্তানরা অর্থকড়ি এনে যেভাবে তাদের কাছে রাখতেন ঠিক সেভাবেই তারা যক্ষের ধনের মতো অতীব বিশ্বস্ততার সঙ্গে সেগুলো সংরক্ষণ করতেন চাহিবা মাত্র অবিকলভাবে ফেরত দেওয়ার জন্য।

লেখাপড়া না জানা পুরুষরাও অর্থকড়ির ব্যাপারে অনেকটা মহিলাদের মতো সরল-সোজা ছিলেন। তারা পণ্য কেনাবেচায় পাইকার, ফড়িয়া ও মহাজনের প্রতি ষোলআনা নির্ভর করতেন। কখনো ঋণ গ্রহণ, সম্পত্তি বন্ধক বা বড় কোনো লেনদেনের প্রয়োজন হলে তারা আগামাথা চিন্তা না করেই বুড়ো আঙ্গুল এগিয়ে দিতেন মহাজনের কথামতো দলিল-দস্তাবেজে টিপ দেওয়ার জন্য। যারা বাকিতে কিনতেন তারা কোনো দিন মহাজনকে অবিশ্বাস করতেন না। বছর শেষে হালখাতার দিন তারা মহাজনদের দোকানে গিয়ে সাধ্যমতো পুরনো দেনা পরিশোধ করে নতুন খাতায় নতুন বছরের জন্য নতুন হিসাব খুলতেন। তারা মনের আনন্দে মহাজনের দোকানে গিয়ে দায় মিটিয়ে একটা কিংবা দুইটা রসগোল্লা খেয়ে মনের তৃপ্তিতে বাড়ি ফিরতেন। অনেকে আবার মহাজনের দোকানে হালখাতা উপলক্ষে মাগনা মিষ্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে গঞ্জে নিয়ে যেতেন।

পয়লা বৈশাখের সেকালের অন্যতম আকর্ষণ গাঁও-গেরামের মেলা এবং ষাঁড়ের লড়াই নিয়ে আমি ইচ্ছা করলে একখানা মহাভারত রচনা করে দিতে পারি। সদরপুরের বাবুর চরের স্কুলমাঠের ষাঁড়ের লড়াই কিংবা টেউখালীর মেলার বাহারি পণ্যের কথা স্মরণ হলে আমি আজও একধরনের নস্টালজিয়ায় ভুগি। আমাদের বাড়ি থেকে দুটো স্থানের দূরত্ব গড়ে দশ মাইলের কম হবে না। আমার শৈশবকালের ছয়-সাত বছর বয়স থেকে গ্রামের আরও ১০-১২ জন দস্যি বালক-বালিকাকে নিয়ে সদলবলে চলে যেতাম ষাঁড়ের লড়াই দেখার জন্য কিংবা মেলায় গিয়ে মিঠাইমণ্ডা খেয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন পাখির মূর্তি কেনার জন্য। আজ পরিণত বয়সে এসে শৈশবের সেই সোনালি দিনের দুরন্তপনা এবং ইদানীংকালের শহুরে জীবনের বন্দীদশা বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের খাঁচাবন্দী অবস্থার তুলনামূলক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে নিজের অজান্তেই হারানো দিনের জন্য বড্ড আফসোস হতে থাকে। আবহমান বাংলার ষাট কিংবা সত্তর দশকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একালের পয়লা বৈশাখেও ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। মানুষের হাড় জিরজিরে শরীর, বাসন্তীর জাল মার্কা বস্ত্রহীনের নগ্নতা কিংবা অর্ধনগ্নতা আজ আর নেই। সেই আমলের খোসপাঁচড়া, উকুন, ছারপোকা যেমন নেই— তেমনি ম্যালেরিয়া, রক্ত আমাশয়, হলদে জ্বর, কালাজ্বর, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত এবং কলেরার প্রকোপ নেই। নেই দলবেঁধে ফসলের ময়দানে বসে প্রাকৃতিক কর্ম করা ছেলে-বুড়োদের সেই দৃশ্য। নেই বর্ষার জলে ভেসে আসা মানুষের লাশ-মল কিংবা নদী ভাঙনের কবলে পড়া কোনো ঘরের গুপ্তধনের কলসের দুঃস্বপ্ন। ছাই-কয়লা-বালি দিয়ে দন্ত মাজন, এঁটেল মাটি দিয়ে কেশচর্চা কিংবা ছাইয়ের খার দিয়ে কাপড় ধোয়ার দৃশ্য। এখনকার গ্রাম বাংলার দুরন্ত শিশুরা মগডালে উঠে প্রাকৃতিক কর্ম সারার মতো দুরন্তপনা যেমন করে না তেমনি কর্মটি সম্পন্ন করে দূর্বাঘাস, নুয়ে পড়া কোনো সুপারি গাছ অথবা বৃহৎ গাছের মসৃণ ক্ষুদ্র ডালপালার সঙ্গে পশ্চাদেদশ ঘষে শৌচকর্মের অভিসার রচনার রঙ্গ-তামাশা করে না।

একালের পয়লা বৈশাখে বাঙালির নবতর রুচি ও আভিজাত্যের পরিচয় বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিত্যনতুন আনুষ্ঠানিকতা, উৎসব, আনন্দ, সংগীত, বিনোদন ও খানাপিনার মাধ্যমে একের পর এক নানন্দিক ইতিহাস রচনা করে চলেছে। অতীতের হালখাতার প্রাবল্য কমে গেছে অনেকাংশে। কিন্তু উৎসবের আয়োজনে যে মাত্রা যোগ হয়েছে তা সমসাময়িক দুনিয়ায় অন্য কোনো বরণে সচরাচর হয় না। আমাদের গ্রাম বাংলা, মফস্বল শহর, বন্দর, নগর এবং মহানগরে বাঙালির নববর্ষের অনুষ্ঠানের বাহারি ধরন, প্রকৃতি এবং জাঁকজমকতা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, স্বতন্ত্র, চিন্তা, ব্যতিক্রমী অভিরুচি এবং শক্তি-সামর্থ্যের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয়। আমরা যারা দুনিয়ার মানুষের মতো যেমন ইংরেজি বর্ষকে বরণ করি তেমনি দেশীয় ঐতিহ্য ও জাতিগত স্বতন্ত্র সত্তাকে উঁচুতে তুলে ধরার জন্য জাঁকজমকের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন করি।

বর্তমানে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে রচিত সংগীত, নববর্ষের পোশাক-পরিচ্ছদ, খানা-খাদ্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আমাদের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পান্তা-ইলিশ, সমুদ্রসৈকতে বিশেষ সংগীত অনুষ্ঠান, রমনার বটমূলের অনুষ্ঠানমালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে উৎসবের আমেজ ফুটে ওঠে তা সমসাময়িক দুনিয়ার অন্য কোনো জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায় না। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ব্যতিক্রমী ইতিবাচক জাতীয়তাবোধের কারণে আজ আমরা অতীতের দুঃখ-কষ্ট, যাতনা ইত্যাদি ভুলে উৎসব করতে পারছি।

বাঙালির ইদানীংকালের পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন নিয়ে দেশের মধ্যে নানামুখী বিতর্ক ও সমালোচনার পরিমাণও কোনো অংশে কম নয়। কট্টরপন্থি ধর্মীয় গ্রুপগুলো পয়লা বৈশাখের বিভিন্ন উৎসব বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে সমালোচনার ফুলঝুরি ছিটাতে থাকে। কেউ কেউ পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ দিয়ে কাঁচা মরিচ ও পিয়াজ মিশিয়ে মাটির বাসন বা সানকিতে করে খাওয়ার মধ্যে কোনো ঐতিহ্য খুঁজে পান না। তারা মেয়েদের হলুদ কিংবা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরিধান, ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ির বাঁশি ফুকানো বা মুখোশ পরে উল্লাস করার মধ্যে একধরনের আদিখ্যেতা এবং ছেলেদের রংবেরঙের পাঞ্জাবির মধ্যে কিছুই খুঁজে পান না। তারা পয়লা বৈশাখের সংগীতানুষ্ঠান, যুবক-যুবতীদের হৈ-হুল্লা এবং নারীনিপীড়নের বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে গজবের নমুনা খুঁজে বেড়ান এবং দশমুখে আয়োজকদের অভিসম্পাত করতে থাকেন।

পয়লা বৈশাখ নিয়ে বহুমুখী আলোচনা ও সমালোচনা সত্ত্বেও উৎসবপ্রিয় বাঙালির মধ্যে অনুষ্ঠানটি নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পয়লা বৈশাখকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়ছে সমানতালে। দিনটির জন্য দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিরাট অংশ সারা বছর চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে বাংলা বর্ষপঞ্জির দিকে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ব্যতিক্রমী এই দিনটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি হলো— এটি আমাদের সুদীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিক উপাখ্যান, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতির দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান-স্থান-কাল পাত্র ভেদে কখন, কীভাবে এবং কতটুকু পরিবর্তিত হলো তার নির্ভুল ইতিহাস রচনা করতে পারি। লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট।

-বাংলাদেশ প্রতিদিন

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:২২:৩২