নেপালে বিমান দুর্ঘটনা : আরো তিন বাংলাদেশীকে দেশে আনা হয়েছে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘ইউএস বাংলার’ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত আরো তিনজন বাংলাদেশীকে আজ বিকেলে কাঠমান্ডু থেকে দেশে আনা হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

গত সোমবার ত্রিভুবন আন্তর্জতিক বিমান বন্দরের সন্নিকটে বিধ্বস্ত ‘ইউএস বাংলার’ উড়োজাহাজ থেকে বাংলাদেশী ১০ জন যাত্রীকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধারের পর কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে আহত মেহেদী হাসান, সৈয়দা কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলিমুন্নাহার অ্যানি এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বিানবন্দরে আহতদের গ্রহণ করেন।

ওবায়দুল কাদের এসময় সকলের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমান দুর্ঘটনা বেদনার ঘটনা এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের বিমানমন্ত্রী দুর্ঘটনার পর-পরই নেপাল গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল, এ কারণে ডিএনএ টেস্টের প্রক্রিয়া ধীর ছিলো। আমাদের এখান থেকে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে, এখন দ্রুত ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে। যখনই ডিএনএ টেস্ট শেষ হবে আমরা দেরি করবো না। নিহতদের লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ শুরু করবো।’ তিনি এসময় পাইলট ও কো-পাইলটসহ নিহত তিনজনের পরিবারের সঙ্গে তার দেখা করার কথাও জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে সে সস্পর্কে তদন্তের আগে কিছু বলা ঠিক হবে না। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ নিহতদের পরিবারের কাছে লাশ ফিরিয়ে দেওয়া। ইউএস-বাংলা সবকিছুর ব্যবস্থা করবে। যদি তারা ব্যর্থ হয় শেখ হাসিনার সরকার সেটি করবে। এ দুর্ঘটনার পর যা যা করণীয় শেষ পর্যন্ত সরকার তা করে যাবে। আমরা দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের পাশে থাকবো।’

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, ‘আহতরা চাইলে ঢাকা বা পছন্দমত স্থানে যেতে পারবে। এ ব্যাপারে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ এম্বাসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। মৃতদের মধ্যে যাদের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব তাদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব গোলাম ফারুক এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৮ নং গেট দিয়ে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার আহত শেহরিন আহমেদকে নেপাল থেকে ঢাকা আনা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

১৬ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৩৫:৪০