‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে সংঘাত বাড়বে’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি৷ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে তারা৷ কিন্তু সেখানেও আসছে বাধা৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দিলে সংঘাত বাড়বে, যা কারুর জন্যই ভালো নয়৷ মানববন্ধন, লিফলেট বিলির মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সরকারের পতন হয় না৷ তাহলে এ সব কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকারের লাভ কী? বরং সরকারের উচিত বিএনপিকে তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়া৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন করছে, সেটার জন্য তারা প্রশংসা পেতে পারে৷ তাদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার কাজটা ঠিক করছে না৷ যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে আমরা দেখব যে সামনের দিনে সংঘাত বেড়ে গেছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা দেখছি, এখনো দুই দলের জন্য মাঠ সমান না৷ বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না৷ এক্ষেত্রে সরকারের উচিত তাদের সেই সুযোগ দেয়া৷ নাহলে মানুষ সরকারকেই অভিযুক্ত করবে৷ বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে হলে এই সুযোগ-সুবিধা তো তাদের দিতেই হবে৷ আবার বিএনপিরও উচিত, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করা৷ তারা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, একাত্তর নিয়েও তাদের অস্পষ্টতা আছে৷ এছাড়া তাদের জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে৷ এ সব বিষয় তারা পরিষ্কার না করলে মানুষও তাদের সঙ্গে থাকবে না৷ আবার সরকারও যেটা করছে, সেটা করে প্রকারন্তরে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে৷''

খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘‘যদি জামিন পেয়েও খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হন এবং নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে পারেন, তাহলে কোনো সমস্যা নেই৷ তিনি নিজে অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি নির্বাচনে জিতলে তাঁর মামলা প্রত্যাহার হয়ে যাবে৷ তিনি কোনো একটি আসন থেকে উপ-নির্বাচন করে দায়িত্ব নিতে পারবেন৷ তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যদি খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেন, তাহলে দেশ সংঘাতের দিকেই যাবে৷ সেটা কারো কাম্য না৷'' -ডয়েচেভেলে

 

০৯ মার্চ, ২০১৮ ২২:৪১:০৮