বিএনপি নির্বাচনে না আসলে কিছু করার নেই : প্রধানমন্ত্রী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে কিছু করার নেই। খালেদা জিয়াকে আদালত সাজা দিয়েছে, আমরা তো দিইনি। এ কারণে যদি তারা নির্বাচনে না আসেন, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের করার কী আছে! আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময় মতোই অনুষ্ঠিত হবে, এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন কারো জন্য বসে থাকবে না। নির্বাচনে কে আসবে, কে আসবে না এটা যার যার দলের নিজস্ব বিষয়।  

রোম সফর শেষে দেশে ফিরে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দুটি সুসংবাদ দেন। এসময় তিনি বলেন, আগামী মার্চে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ করা হবে। এছাড়াও আজ থেকে আমরা ফোরজির যুগে প্রবেশ করছি। আগে মোবাইল ফোনই সহজলভ্য ছিল না। ১৯৯৬ সালে আমরা এসে মোবাইল ফোন সহজলভ্য করি। ইতোমধ্যে আমরা থ্রিজির যুগে প্রবেশ করেছি। আর আজ থেকে আমরা ফোরজির যুগে প্রবেশ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, এবারও সময় মতো নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন সময় মতো হবে, কেউ আটকাতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে আমাদের কিছু করার নেই, নির্বাচন করা না করা যার যার দলীয় সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির কাছের লোকেরাই মামলা দিয়েছে, রায় দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে সরকারের কিছু করার নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আছেন শুধু দিতেই পারে। আমরা দুই বোন, আমাদের একটা মাত্র বাড়ি। আমার আব্বা সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন, ওই বাড়িটি তাই জনগণের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমরা ট্রাস্ট করে ১৭০০ থেকে ১৮০০ জনকে সহায়তা করি। আমরা এটা নিয়ে খুব একটা প্রচারও করি না। কেউ যদি এতিমের টাকা আসার পরও মায়া ত্যাগ করতে না পারে, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি বলতে গেলেই তো সমস্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আমাকে শ্যাওলা ধরা একটি ভবনে রাখা হয়েছিল, খাট ছিল ভাঙা। তাকে (খালেদা জিয়া) রাখা হয়েছিল স্পিকারের বাড়িতে, তার সঙ্গে এই ফাতেমাকে দেয়া হয়েছিল। এটা গোপন ছিল। ডিআইজি হায়দার (সামছুল হায়দার সিদ্দিকী)  সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেই জানতে পারবেন।  আদালত দিয়েছেন। বেশি কিছু তো দেওয়ার নেই, একজন মেইড সার্ভেন্ট দিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার নানা টালবাহানা করেছে। তারা আট হাজার নিতে বলেছে এখন, আমরা বলছি আট হাজার আগে নিক। তারপর আমরা দেখব, তারা এদের সঙ্গে কী ব্যবহার করে। শেখ হাসিনা বলেছেন, নেওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ভাসানচরে ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। প্রথমে এক লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা বলছি, সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার, সমাধান তাদেরই করতে হবে। যখন রোহিঙ্গাদের এদেশে ঢোকা শুরু হল, তখনই প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে টাকা দিয়ে তালিকা, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছি। যারাই ঢুকেছে, তাদের ছবি নিয়ে তাদের আইডি কার্ড করিয়ে রেখেছি। এখন মিয়ানমার অস্বীকার করতে পারবে না যে এরা তাদের না।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, কোনো দিকে দোষ না পেয়ে একটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি।তাইলে বলেন যে টিক মার্কটা (নৈব্যক্তিক) বন্ধ করে দেব, আপনারা লেখেন আমরা বন্ধ করে দেব। পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেয়, এটা তো  জানা কথা। এখন সবার হাতে ফোন, কেউ ছবি তুলে দিতে পারে। কিন্তু আমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দেন, কেউ কি এটা দেখে উত্তর পড়ে লিখে দিতে পারবে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? মন্ত্রী কি নিজে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করতে গেছে, না কি সচিব গেছে? কে ফাঁস করেছে খুঁজে দেন আমরা শাস্তি দিয়ে দেব।


১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৯:২৮:১৬