খালেদার ক্ষতি হলে দায় সরকারের: ফখরুল
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
খালেদা জিয়াকে স্যাঁতস্যাতে ও পরিত্যক্ত কক্ষে একা কয়েদী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শনিবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবদের সাথে বিএনপি মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এ অভিযোগ করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আজ সন্ধ্যায় বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। খালেদার গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৈঠক চলাকালে খালেদা জিয়া না থাকলেও তার আসনটি যথাস্থানে যত্নসহকারেই রেখে দিয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। শুধু আসনই নয়, যথাস্থানে রাখা ছিল মাইক্রোফোনটিও। আর খালি আসনটিই সবার মনে বাজিয়ে বেদনার সুর।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ কারাগারে রাখা হয়েছে। তার কোনো ক্ষতি হলে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে গণতান্ত্রিক অন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিএনপি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। মিথ্যা মামলায় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাদণ্ড দেয়ায় সরকারকে ধিক্কার দিচ্ছে দেশবাসী।

এ সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘিরে সারাদেশে সাড়ে ৩ হাজার নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়াসহ সবার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।

খালেদার অনুপস্থিতিতে নিয়মানুযায়ী বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। কিন্তু তিনিও দীর্ঘদিন যাবত দেশের বাইরে থাকায় শূন্যই পড়ে ছিল চেয়ারপারসনের চেয়ারটি। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই এই বৈঠক করেছেন দলটির নেতারা।

খালেদার গুলশান কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান জানান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং খায়রুল কবির খোকন, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালামসহ ৬০ জনের বেশি নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:০৯:৪৯