দু'বছরে চট্টগ্রামের জন্য কী করতে পেরেছেন মেয়র আ. জ. ম. নাছির?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
চট্টগ্রামের মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামের মেয়রের কাজটা কী?  উত্তরটা খুব সহজ। মেয়র আ.জ. ম. নাছিরউদ্দীনের ভাষায়, "নালা-নর্দমা পরিস্কার, ময়লা-আবর্জনা সরানো আর সড়ক বাতি লাগানো।"  সিটি কর্পোরেশন কী কাজ তার চেয়ে বরং কোনটা তাদের কাজ নয় সেই তালিকাটাই অনেক দীর্ঘ। সাক্ষাৎকারের একেবারে শুরুতেই সেই দীর্ঘ তালিকাটাই তিনি দিয়ে দিলেন।

"যেমন ধরেন বিদ্যুৎ। এটার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। পানি সরবরাহের দায়িত্ব ওয়াসার। নগর পরিকল্পনা, নতুন ভবন বা স্থাপনার নকশা অনুমোদন-এসবের দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। টেলিফোন সেবার দায়িত্ব টিএন্ডটির। আরও বিভিন্ন সেবা দেয় আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান। অথচ নগরবাসীর ধারণা এসব কাজের দায়িত্ব বুঝি সিটি কর্পোরেশনের।"

দু বছরের কিছু বেশি হয় চট্টগ্রামের মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছেন আ. জ. ম. নাছির। কিন্তু এর মধ্যে তিনি তার ক্ষমতা আর কাজের সীমাবদ্ধতা বুঝে গেছেন। "আমাদের কাছে কিন্তু নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তারা চান সব কাজ মেয়র করবেন। কিন্তু যেটা অনেকেই জানেন না, তা হলো, উন্নত বিশ্বে সিটি কর্পোরেশনের হাতে যে ক্ষমতা, বাংলাদেশের বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন।

লন্ডন সফরে এসে বিবিসির স্টুডিওতে এসেছিলেন মেয়র আ. জ. ম. নাছির। মেয়র হিসেবে তার কাজের নানা দিক নিয়ে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে।

"আমরা পরিচালিত হই সিটি কর্পোরেশন ম্যানুয়েল দ্বারা। আমাদের কাজ তিনটি। নালা নর্দমা সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা, এবং শহর আলোকিত করা। আইন অনুযায়ী এই তিনটি সেবা আমরা নগরবাসীকে দিতে বাধ্য।"

কিন্তু এই দায়িত্বও কি তিনি ঠিক মত পালন করতে পারছেন? এক সময় ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামকে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন নগরী বলে গণ্য করা হতো। সেই চট্টগ্রামের এমন হাল কেন? সেই প্রশ্ন অনেক নগরবাসীর। বেশ জোরালো গলায় প্রতিবাদ জানালেন মেয়র।

"চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম এখন অনেক বেশি ময়লা আবর্জনামুক্ত। আমরা এখন বাড়ি বাড়ি ওয়েস্ট কালেকশনে যাচ্ছি।"

চট্টগ্রামের নাগরিকদের আরেকটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সেটা নিয়ে কী করছেন তিনি? এটা যে বড় সমস্যা স্বীকার করলেন মেয়র। কিন্তু এটা যে বহুদিনের পুরোনো সমস্যা সেটা মনে করিয়ে দিলেন।

"এটা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। একেক জায়গায় একেক কারণে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। চট্টগ্রামে ৩৪টি খাল গেছে নগরীর ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশের আর কোন শহরে এমন নেই। অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলে অনেক খাল ভরাট করে ফেলা হয়েছে।"

কিন্তু এত বড় একটা সমস্যা সমাধানে কী মেয়রের কিছুই করার নেই? স্বল্প আর দীর্ঘ-মেয়াদী নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। নগরীর নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিস্কার করা, যাতে দ্রুত পানি নিস্কাশন করা যায়। দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানো।কিন্তু দখলদারদের বেশিরভাগই যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো এবং ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদপুষ্ট, সেখানে এরকম অভিযানের সফলতা নিয়ে তো অনেক সংশয় আছে।

মেয়র আ. জ. ম. নাছির বললেন, "বিতর্কে যাব না। কিন্তু আপনারা সবাই জানেন, চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য বিল বোর্ডে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। আমরা সেগুলো অপসারণ করেছি। এরা কিন্তু সবাই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কারও বাধা আমলে না নিয়ে আমি শতভাগ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছি। উচ্ছেদ চলমান আছে। আরও ব্যাপকভাবে করবো এটা।"

"আমি থামবো না। এখন কেউ যদি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সেখান থেকে নির্দেশ নিয়ে আসে, সেটা আমার কিছু করার নেই। কিন্তু আমাকে কেউ থামাতে পারবে না, সেটা আমি জোর দিয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারি।"

মেয়র আ. জ. ম. নাছিরের একটি মন্তব্য নিয়ে গত বছর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের বড় আমলাদের ঘুষ না দিলে প্রকল্প পাশ হয় না, তাঁকে উদ্ধৃত করে এমন একটা মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছিল আলোচনা। কী ধরণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এটা বলেছিলেন?

"আসলে এটা একটু টুইস্ট করা হয়েছে। আমি সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। একটা একাডেমিক আলোচনা হিসেবে আমি প্রশ্নটা তুলে ধরেছিলাম। এরকম কথা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র্, এমন কথা দুদকের প্রধানও বলেছেন।"

"যারা অনিয়ম করেন, দুর্নীতি করেন, সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করেন, আমি তাদের দিকেই ইঙ্গিতটা করেছি।"

কিন্তু এ নিয়ে কি সরকারের সঙ্গে তাঁর কোন ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল, যেটি সেসময়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছিল? মেয়র আ. জ. ম. নাছির স্বীকার করলেন, প্রথম দিকে এরকম চেষ্টা কেউ কেউ করেছেন।

"এরকম চেষ্টা তো আমাদের দেশের রাজনীতিতে আছে। অনেকে এটাকে পুঁজি করার চেষ্টা করেছে। পারেনি।"

মেয়র হিসেবে চট্টগ্রামে এ বছর দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবেন বলে ঘোষণা দিলেন তিনি।

""চট্টগ্রামকে আমি একটি সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি পুরো শহরকে সড়ক বাতির আওতায় আনতে চাই। শহরে এখনো অনেক কাঁচা রাস্তা এবং ইট বিছানো রাস্তা আছে। আমার মেয়াদের মধ্যেই সব রাস্তা পাকা করতে চাই। আর রাস্তার মানও ভালো করতে চাই।"

এসব কাজে নগরবাসীর সাহায্য চান তিনি। -বিবিসি বাংলা

 

 

 

 

 

 

 

 

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:৫৪:২৬