আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো: প্রধানমন্ত্রী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
আমরা বিজয়ী জাতি এ কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলবো। কারো কাছে মাথা নত করবো না। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শনিবার রাত ৭টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বিজয়ের এই দিনে লাখো শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, তাদের সহযোগিতা করেছেন, তাদেরসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানাই। আর ঘৃণা জানাই তাদের প্রতি, যারা পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছে, আমাদের মা-বোনদের তাদের কাছে তুলে দিয়েছে। আর যারা আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী মানুষের উপর গণহত্যা চালিয়েছিল, অগ্নিসংযোগ করেছিল, লুঠপাট করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করার পর ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। আজকে তাই সারাদেশে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস পালন হচ্ছে। আজকে আমাদের যুবসমাজ উৎসাহিত হচ্ছে। তাই সকলে মিলে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালন করছে।

১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে বন্দি করে রাখে। ১৬ ডিসেম্বর যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে সারা ঢাকা শহর তখন জয় বাংলা স্লোগানে মুখর। আমরা ১৮ নম্বর বাড়িতে বন্দি কয়েকটি মানুষ। ওই বন্দি অবস্থা থেকে গেরিলা কায়দায় নিজেকে মুক্ত করে জামাল মুক্তিযু্দ্ধে যায়। আমার ছোট ভাই রাসেল, শেখ রেহানা, আমি ও আমার মা আমরা কয়েকজন মানুষ ওই বন্দিখানায়। চারিদিকে জয়বাংলা স্লোগান। বাংলাদেশ মুক্ত। আমরা কয়েকজন রুদ্ধদ্বার, মুক্তপ্রাণ। বাইরে থেকে জয়বাংলা স্লোগান আসে, আমরা ভেতর থেকে স্লোগানের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বন্দিখানায় স্লোগান দিয়েছি। আমরা সেদিনের কথা আজো ভুলতে পারিনি।

আবেগঘন বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ভেবেছিল জাতির পিতার রক্ত নিয়ে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা এদেশের ইতিহাস বিকৃতি করবে। কিন্তু তারা তা পারেনি। সেইজন্যে বাংলার মানুষকে আমি অভিনন্দন জানাই, সালাম জানাই। তারা আমাকে দেশের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আজকে তাই বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে একটি রোলমডেল হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমাদের যে মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল আজকে আমরা তা ফিরিয়ে এনেছি। আজকে সারাবিশ্ব বাঙালির দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।

যুবসমাজকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, লাখো শহীদের যে ত্যাগ সেই ত্যাগের মহিমায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে। গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশকে। আমরা বিজয়ী জাতি এ কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলবো। কারো কাছে মাথা নত করবো না। এটাই হোক আমাদের আজকের দিনের প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই অনুষ্ঠানে লাখো জনতা অংশগ্রহণ করে।

 

 

 

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১০:৩৯