আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে : ওবায়দুল কাদের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে আরেক ডিসেম্বর। আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রতিপক্ষ কারা? আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতৃত্বে জয়বাংলা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি।’ কাদের বলেন, ‘জয়বাংলা বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি, বিজয়ী শক্তি বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো আমরা বিজয়ী হব।’

ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র‌্যালির উদ্বোধনী বক্তবে এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিজয় র‌্যালী পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জয়বাংলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি, এই মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয়বাংলাকে যারা অস্বীকার করে, জয়বাংলাকে ধারণ করে না, উচ্চারণ করে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।

বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে যেমন গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তেমনি সারাদেশে গণজাগরনের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি মোকাবেলা করে দেশে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ।

তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ভেদ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সকলকে শপথ গ্রহন করতে হবে।

বিজয় র‌্যালীকে সফল করতে দুপুর ১২ টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতা কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের বাধ্যযন্ত্র বাজিয়ে সমাবেশে যোগদান করতে থাকে। বিজয় র‌্যালীতে আসা নেতা-কর্মীরা অনেকটাই ছিল উৎসবের আমেজে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে অনেককে এ সময় নেচে গেয়ে আনন্দ করতেও দেখা যায়। লাল-সবুজ শাড়ী পড়ে দলের মহিলা নেতা-কমীরাও বিজয় র‌্যালীতে যোগদান করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হলেও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতারাও রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে বিজয় র‌্যালীতে যোগদান করে।

বিজয় র‌্যালী বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত বিজয় র‌্যালীর বিস্তৃতি লাভ করে।

বিশাল আকারের জাতীয় পতাকা, হাতির পিঠে তৈরি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিক নৌকা, বিজয় দিবসের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকারকে ধরে নিয়ে যাওয়া ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে তৈরি দৃশ্য বিজয় র‌্যালিকে অনন্য নান্দনিক করে তুলে। -বাসস

 

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৯:০৯