মোবাইল ফোনে পরিচয়, প্রেম-বিয়ে অতঃপর শেষ পরিণতি লাশ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
ভারত-বাংলাদেশের কাঁটাতারের বেড়া ওদের সম্পর্কে বাধা হতে না পারলেও বিয়ের পর সর্বনাশা যৌতুকই কাল হলো সুমির জন্য। মোবাইল ফোনে পরিচয়, প্রেম-বিয়ে অতঃপর শেষ পরিণতি লাশ হয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন কুমিল্লার সুমি। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে পারিবারের ও স্বজনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভারতে গিয়ে বিয়ে করেন সেখানকার নাজমুল হাসান নামের এক যুবককে। কিন্তু বিয়ের মাস শেষ হতে না হতেই লাশ হয়ে স্বজনদের বুকে ফিরেছেন সুমি। 

রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার আন্তর্জাতিক সীমারেখায় শশীদল বিওপির বিজিবি ও ভারতের আশাবাড়ী বিএসএফ’র পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ব্রাহ্মণপাড়া ও ভারতের কলমচুড়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সুমির লাশ বিজিবির নিকট হস্তান্তর করে বিএসএফ।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী আশাবাড়ীর এলাকার লোকজন ও সুমির স্বজনরা জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলমচুড়া থানার রহিমপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে নাজমুল হাসানের সাথে গত এক মাস পূর্বে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার সুজানগর এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তার (২২) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে উভয়েই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পারিবারিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সুমি। বিয়ের এক সপ্তাহ পরে নাজমুল সুমিকে যৌতুকের জন্য মারধর ও যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে সুমি স্বামী সংসারের সুখের কথা ভেবে স্বজনদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে স্বামী নাজমুল হাসানকে দেয়। তারপরও সুমির স্বামী নাজমুল আরও যৌতুকের জন্য সুমির উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে সুমি স্বামীর সাথে ঝগড়া করে আশাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর তার স্বামী ও তার মামা শ্বশুর আব্দুল জলিল বাংলাদেশের সীমানা থেকে সুমিকে ধরে নিয়ে ভারতের সীমানায় বেধড়ক মারধরের পর তাকে বস্তাবন্দী করে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমানায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। 

বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র দৃষ্টিগোচর হয়। এসময় ভারতের সীমান্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামী নাজমুল ও মামা শ্বশুর আব্দুল জলিল পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিএসএফ সুমিকে উদ্ধার করে ভারতের বক্সনগর সরকারি হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। পরে তার মরদেহ ভারতের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দিয়ে সুমির লাশ রোববার দুপুরের দিকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করে বিএসএফ। 

এসময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির নন কমিশনার অফিসার মেহেদী হাসান, শশীদল বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার টিপু সুলতান, ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস.আই সুনীল। অপরদিকে ভারতের আশাবাড়ী বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডার এস কে মিতু ও কলমচুড়া থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার টিপু সুলতান জানান, ভারতে ময়নাতদন্তের পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ আমাদের নিকট সুমির মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে সুমির মরদেহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকালে তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। 

 

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৪১:০৪