আজ সমাবেশে কী বার্তা দেবেন খালেদা জিয়া
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আজ রোববার। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হবে। এতে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি দেশবাসীকে নতুন বার্তা দিবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমনটাই নিশ্চিত করেছেন। তবে সমাবেশ করতে হলে ২৩টি শর্ত পালন করতে হবে বিএনপিকে এমনটাই জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে মিছিল না করা, সময় বেধে দেয়া ও নিজেদের সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তার নিশ্চিত করার মতো কিছু শর্তও রয়েছে।  যে কোনো শর্ত মেনে সমাবেশ করার কথা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গেলো উনিশ মাস পর রাজধানীতে জনসভার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থনের বিষয়টি জানান দিতে চায় দলটি। সবশেষ ২০১৬ সালের ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ করে বিএনপি। এর আগে ওই বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সুযোগ পায় দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সেই সমাবেশ করে বিএনপি। শ্রমিক দল এর আয়োজন করে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর জনসভা করার সুযোগ পেয়ে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আর এ জনসভার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে চায় বিএনপি।

ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরাও এতে উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর ঢাকায় কোন জনসভায় বক্তব্য নিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া। এর আগে গত বছর ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ জনসভা হয়েছিল ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি। তার ১৫ দিন আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। বিএনপি নেতারা মনে করছেন এতে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি ঘটিয়ে জনসম্মুখে দলের জনপ্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করা হবে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেই খালেদা জিয়ার ডাকে যে মানুষ সাড়া দেয় জনসভা সফল করে সেটাই প্রমাণ করতে চাইবে বিএনপি।

এদিকে জনসভা সফল করতে গত ক’দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রাতদিন বৈঠক করেছে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বসে নেই ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে মহল্লায় মহল্লায় বৈঠক করা হয়েছে। কোন এলাকা থেকে কোন নেতা বেশি লোক নিয়ে জনসভায় আসবে সে প্রতিযোগিতার জন্যও কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এভাবে এ জনসভাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছে বিএনপি হাইকমান্ড।

 

 

 

 

 

 

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:১২:৩৭