প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবককে খুন : লাশের খোঁজে মেঘনায় তল্লাশী
কুমিল্লা সংবাদদাতা
অ+ অ-প্রিন্ট
কুমিল্লায় কামরুল হাসান খন্দকার নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। নিহত কামরুল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার নেউরা সৈয়দপুর গ্রামের আবদুর রহমান খন্দকারের ছেলে এবং সে কুমিল্লা ক্লাবের কর্মচারী ছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলো— জেলার তিতাস উপজেলার ছোলাকান্দি গ্রামের মোশারফ হোসেন মুকুল মেম্বারের ছেলে আল-মামুন ও তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার।

এদিকে গত বুধবার গ্রেফতারকৃত আল-মামুন ও নার্গিস হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুল হাসানের মরদেহের সন্ধানে গত ৩দিন ধরে মেঘনা-গোমতী নদীতে তল্লাশি শুরু করেছে দাউদকান্দি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিতাস উপজেলার ছোলাকান্দি গ্রামের মোশারফ হোসেন মুকুল মেম্বারের ছেলে আল-মামুনের নামে অস্ত্র, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিল। আদালতে তার যেদিন হাজিরা থাকত, সেদিন স্ত্রী নার্গিস আক্তার তাকে দেখতে আসত। গত রমজান মাসে নার্গিস তার স্বামী আল-মামুনকে আদালতে দেখতে এসে কামরুল হাসান খন্দকারের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে কামরুল ও নার্গিস শহরের কান্দিরপাড়ে একটি হোটেলে বসে খাওয়া-দাওয়া করে এবং একে অপরের মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করে। পরে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে নার্গিসকে ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদ পেতে কৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত স্থানীয় একটি চক্র। এ চক্রের আরো দুই সদস্য হলো— তিতাসের মেহেদী মামুন ও টুটুল।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ আরো জানায়, কামরুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নার্গিস ৬ সেপ্টেম্বর রাতে তিতাসে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কামরুল ঘরের ভেতর ঢোকার পর মেহেদী মামুন ও টুটুল তাকে (কামরুল) চড়-থাপ্পড় মেরে টাকা দাবি করে। এতে কামরুল তার স্ত্রীকে ফোন করে টাকার জন্য বলে। ওই দিন রাতে তারা কামরুলকে বেদম মারধর করে। পরে গভীর রাতে তারা কামরুলকে একটি ট্রলারে উঠায়। সেখানে পানি চাইলে কামরুলকে নদীর পানি খাওয়ানো হয়। এর পরই সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ট্রলারে করে তারা দাউদকান্দি ব্রিজ থেকে কিছুটা দক্ষিণে নিয়ে কামরুলকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

এর আগে কামরুল নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রী সালমা আক্তার ৬ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আল-মামুন ও নার্গিস আক্তারকে দাউদকান্দি এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি তারা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:৫৬:৫৭