সুন্দরবন দখল যাদের নিত্যদিনের লড়াই
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বনে এক সময় রাজত্ব করেছে দুটি শক্তি - রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর প্রায় এক ডজন জলদস্যু দল।

জনবল এবং অস্ত্রবল নির্ধারণ করেছে দলের কাঠামো এবং প্রভাব। পাশাপশি সুন্দরবনসহ দেশের পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের মধ্যে সীমানা ভাগাভাগি করে এই জলদস্যুরা দাপটের সাথে তৎপরতা চালিয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক সুন্দরবনের জলদস্যুদের প্রধান দলগুলো সম্পর্কে:

১. মাস্টার বাহিনী:

সদস্য সংখ্যা, অস্ত্রশক্তি আর ভাবমূর্তির দিক থেকে শক্তিশালী দলগুলোর অন্যতম মাস্টার বাহিনী। দলনেতার ছদ্মনাম কাদের মাস্টার। আসল নাম মোস্তফা শেখ। বয়স ৪৮ বছর। দলে সদস্য সংখ্যা ৪৮। খুলনার মধ্যাঞ্চল অর্থাৎ পশুর ও শিবসা নদীর মাঝের এলাকায় ছিল মাস্টার বাহিনীর তৎপরতা।

পাশপাশি সাগরের জেলেদের ওপর জলদস্যুতা চালায় এই দল। কাদের মাটার নয় জন সহযোগীকে সাথে নিয়ে ৩১শে মে, ২০১৬ সালে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় থেকে দলের বার্ষিক আয় ছিল আনুমানিক ছয় কোটি টাকা।

কাদের মাস্টার জলদস্যু দলে যোগদান করে দলের প্রধান নোয়া মিয়ার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং দলের নেতৃত্ব দখল করেন। ডাবল ও সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান, ১২ গেজ পাম্প-অ্যকশন শটগান, নাইন মি.মি. পিস্তল ছিল দলের মূল অস্ত্রশক্তি।

২. জাহাঙ্গীর বাহিনী:

সুন্দরবনের পুর্বাঞ্চল, অর্থাৎ চাঁদপাই রেঞ্জের পশুর নদীর দুই পারের এলাকা ছিল জাহাঙ্গীর বাহিনীর সীমানা।

এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো এরা সাগরে জলদস্যুতা চালাতো না। এই দলের সদস্য সংখ্যা ২০ জন। ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দলটি গত ২৯শে জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করে। ঐ অঞ্চলে তৎপর সবগুলো জলদস্যু দলের মধ্যে এই দলের নেতা জাহাঙ্গীর শিকারিকে সবচেয়ে অত্যাচারী বলে বর্ণনা করা হয়। তার জলদস্যু জীবনের শুরু মোতালেব বাহিনীর বাবুর্চি হিসেবে। এর পর ১১ বছরে ধরে জলদস্যুতা চালানোর পর তিনি এক সময় দলের হাল ধরেন।

 

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:১৮:১১