টুইন টাওয়ারে হামলার ১৬ বছর আজ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
আজ থেকে ১৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে যে দিন যে সময়টিতে আঘাত হেনেছিল পরপর দুটি বিমান, ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে এ বছর আবারো পালিত হল ৯/১১ হামলার বার্ষিকী।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ছিনতাই হওয়া দুটি যাত্রীবাহী বিমানের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় পাশাপাশি থাকা দুটি  সুউচ্চ ভবন, যা পরিচিত ছিল টুইন টাওয়ার নামে।

শুধু তাই নয়, হামলা হয়েছিল প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনেও। এছাড়া, ছিনতাই হওয়া আরো একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল পেনসিলভানিয়ার শাঙ্কসভিলে।এ হামলার মধ্য দিয়ে চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের অহঙ্কার। ঝরে গিয়েছিল প্রায় ৩ হাজার প্রাণ।

 ওই দিনটি স্মরণে নিউ ইয়র্ক সিটির গ্রাউন্ড জিরোতে বরাবরের মতো এবারো অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। প্রথম বিমান হামলার সময় অনুয়ায়ী নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মরণানুষ্ঠান। এরপর হামলার সময় অনুযায়ী নিরবতা পালন করে নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিহতদের স্বজনেরা  প্রিয়জনদের স্মরণ করার সময়  কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিক ওই হামলায় প্রাণ হারায়। তাই ওই হামলার দুঃখ আর স্মৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনে শুধু নেই বরং ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বজনহারাদের মনেও। সেদিন হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হলেও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪১ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

সিএনএন এর এক সাক্ষাৎকারে জানা যায়, সন্তানহারা এক দম্পতি জানান, তাদের জন্য ওই হামলা কতটা কষ্টের ছিলো,স্বজনহারা পরিবার ছাড়া বিষয়টি  অনেকের জন্য উপলব্ধি করা কঠিন। এখনো ছেলের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি তারা। কারণ ওই হামলার কিছুক্ষণ আগেই বাবা ও মায়ের  কাছ থেকে বিদায় নেয় ওই যুবক । ছেলেকে যে সেদিন শেষ বিদায় দিয়েছিলেন সেটা সন্তানহারা দম্পতি পরে বুঝতে পারেন ।

ভয়াবহ ওই হামলার এতগুলো বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের হামলা হওয়ার শঙ্কা কাটেনি।বরং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আরো হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। ৯/১১ হামলার প্রতিবাদেই জঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পরও বাস্তব পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভিন্ন।

বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকা এবং আগের চেয়ে আরো বেশি চতুর শত্রুদের হুমকির মুখে আছে। এই শত্রুরা তথাকথিত একক হামলার নামে হামলা চালাতে ইচ্ছুক হলেও আসলে তারা আদৌ একক হামলা চালায় না।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৫৯:১০