বিশ্বগণমাধ্যমে সমালোচনা সু চি’র নোবেল ফিরিয়ে নেয়ার দাবি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
অং সান সু চি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করায় শান্তিতে নোবেলজয়ী দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’র কঠোর সমালোচনা করে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে। কোনো কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সু চি’র নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ারও দাবি তোলা হয়েছে। 

রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে চুপ থাকায় সু চি’র সমালোচনা করে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘অং সান সু চি’র লজ্জাজনক নীরবতা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি করেছেন ইশান থারুর। রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ লাখ লোক বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন; তারা অপরিচর্যাকারী সরকারের ক্রোধের মুখোমুখি। তারা যে স্থানটিকে নিজেদের বাড়িঘর মনে করে আসছে, ওই সরকার সেটাকে স্বীকৃতি দেবে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবেদনে রাখাইনে সহিংসতা ও প্রাণভয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়টি তুলে ধরে অং সান সু চি’র সমালোচনা করা হয়। রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের খবর রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্বরতা এবং আন্তর্জাতিক নেতা ও সংস্থাগুলোর সমালোচনা সত্ত্বেও সু চি রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছেন। 

সু চির সমালোচনা করে তার নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে দ্য গার্ডিয়ান অনলাইনে লিখেছেন জর্জ মনবিওট। ‘ফিরিয়ে নাও অং সান সু চি’র নোবেল পুরস্কার। এটা রাখার অধিকার তার নেই’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সু চি’র প্রতি প্রত্যাশা ছিল অনেক। তিনি ও তার পরিবার সামরিক জান্তা সরকারের হাতে অনেক শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের প্রতি তার বৈরী আচরণে সে প্রত্যাশা ‘নির্দয়ভাবে প্রতারিত’ হয়েছে। রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে তার নীরব ভূমিকার সমালোচনাও করা হয় প্রতিবেদনে। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের একটি চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে সু চি’র নোবেল প্রাইজ ফিরিয়ে নেয়ার জন্য নোবেল কমিটির প্রতি আহ্বান জানান প্রতিবেদক জর্জ মনবিওট। তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, নোবেল কমিটি যে পুরস্কার দেয়, তার দায় তারা এড়াতে পারে না। এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে সু চি’র সমালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৫২:০০