'ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পাঁয়তারা করছে সরকার'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে সব পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তাতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়ায় আওয়ামী লীগে যে উন্মত্ততার ঝড় বইছে তা যেন থামছেই না। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতারা বিচার বিভাগকে ন্যাক্কারজনকভাবে আক্রমণ করে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেআইনিভাবে আওয়ামী নেতারা বৈঠক করে চাপ প্রয়োগ করেন। যখন তারা ব্যর্থ হয়েছেন এখন রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পাঁয়তারা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে নিয়ে শুধু এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রাধীন করা।

তিনি বলেন, ক্ষতাসীনরা রাষ্ট্রের শত্রু। আওয়ামী সমর্থক কেউ কেউ বলছেন সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি সন্তোষজনক মনে করলে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্টপতিকে খেয়াল-খুশি মতো ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। এরকম ব্যাখ্যা দিলেতো বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই থাকে না। এ বিধানটি পৃথিবীর কোন দেশে এখন পর্যন্ত প্রয়োগ হয়েছে এমন নজির নেই। এই অপচেষ্টা বিচার বিভাগকে করায়ত্ব করার সরকারের আরেকটি নীলনকশা।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি করা জুড়ি নেই। গত দুই দিন আগে শেখ হাসিনা বলেছেন যখনই অশিক্ষিতরা ক্ষমতায় আসে তখন দেশ পিছিয়ে পড়ে। দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন বাংলাদেশে যত উন্নয়ন হয়েছে সব তাদের আমলে। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শিক্ষার মাপকাঠি যদি পয়সা দিয়ে কেনা পচা গমের বস্তায় ভরা ডক্টরেট ডিগ্রির ঘাড়ে নিয়ে দেশ চালালে দেশের কী বারোটা বাজে বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা তার প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, চালের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ন্যূনতম ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তা হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল বেআইনিভাবে যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, নিত্যপণ্যসহ সব পণ্যের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে এটা হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের সমালোচনায় তিনি আরও বলেন, আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশে বলতে চাই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিএনপি যে বিপ্লব সাধন করেছিল সে অবকাঠামো এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ দূরের কথা বিএনপি যেসব রাস্তা করে গিয়েছিল আপনারা সেগুলো মেরামত পর্যন্ত করতে পারেননি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আপনারা বলেছিলেন, ১০ টাকায় চাল খাওয়াবেন ও ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। জনগণের সাথে এ প্রতারনা ঢাকবার জন্যই সন্ত্রাসের অন্ধগলিতে এখন উন্নয়নের রাস্তা হারিয়ে ফেলেছেন। এজন্যই আপনারা দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হউক তা চান না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পান।

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় না, ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী বলেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় না, আমরাও তো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। কিন্তু খোদ সাধারণ সম্পাদক তাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা আছেন যারা নির্লজ্জভাবে ব্যক্তি আক্রমণ করেন। এটা বন্ধ হলেই তো প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হোসেন ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ ও মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:০৬:৩৪