রূপার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
অ+ অ-প্রিন্ট
চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, মামলার আইনজীবী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। লাশ উত্তোলনের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলন্ত বাসের মধ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুরে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। মৃত তরুণীর ভাই তাকে পুনরায় দাফনের জন্য লাশ উদ্ধারের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এই আদেশ দেন। পুলিশ বলছে লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্যবস্থা নিতে নিহত তরুণীর বড় ভাই গতকাল বুধবার থানায় আবেদন করেন। তার আবেদনটি আজ আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাস্তার পাশে জঙ্গল থেকে পুলিশ গত শনিবার সকালে তরুণীর লাশ উদ্ধার করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে।

ঐ তরুণীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। এখন তার পরিবার লাশটি সেখানে দাফন করবে। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে লেখাপড়া করার পর ওই তরুণী একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একইসাথে ঢাকায় একটি ল কলেজে পড়তেন। এই তরুণীর বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তার বোন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে শুক্রবার বগুড়া গিয়েছিলেন।

সেখান থেকে সন্ধ্যায় এক সহকর্মীর সাথে কর্মস্থল ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য ছোঁয়া পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন। তার সহকর্মী টাঙ্গাইলে এলেঙ্গায় নেমে যান।

রহমান বলেছেন, তার বোনের সাথে শুক্রবার রাত ১০:৩০ পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল।

এরপর বাসের হেলপার ফোন ধরে তা বন্ধ করে দিয়েছিল।

হাফিজুর রহমান বলেছেন, গ্রেফতারকৃতরা তার বোনকে ধর্ষণের পর গলা টিপে এবং ঘাড় মটকে হত্যার যে বর্ণনা আদালতে দিয়েছে, আদালতে তা শুনে তিনি শিউরে উঠেছিলেন।

"এত নির্মমভাবে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেছে। আদালতে আসামীরা যখন বর্ণনা দেয়, আমার তখন কলিজা ফেটে যাচ্ছিল। শুনে মনে হচ্ছিল, এরা পশুর চেয়েও অধম। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমি চাই।"

মামলাটি দায়ের করেছে হাফিজুর রহমান। পুলিশ বলেছে এখন মামলায় অল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া সম্ভব হবে।

এরপর সোমবার ঐ তরুণীর বড় ভাই পুলিশের কাছে তরুণীর লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

তখন পুলিশ তদন্ত করে ছোঁয়া পরিবহন নামের একটি বাসের চালক এবং হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের তিনজন মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৫০:৫২