ছাত্রনেতাকে বিবাহিত প্রমাণে এমপির কাণ্ড, ছাত্রলীগে তোলপাড়
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোর জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীকে বিবাহিত প্রমাণ করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভুয়া কাবিননামা জমা দিয়েছেন যশোরের একজন সংসদ সদস্য। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের কয়েকদিন পর তিনি ওই কাবিনের অনুলিপি জমা দেন।

বিবাহিত ছাত্রনেতাদের সংগঠনের পদ ছেড়ে দিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৭২ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন ওই সংসদ সদস্য। জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ওই সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীকে নেতা বানাতে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গত সোমবার যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহাকারী সাইফুজ্জামান শিখর, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দী, বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের উপস্থিতিতে যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ভোট নেয়া হয়। সভাপতি পদে রওশন ইকবাল শাহী পান ১০৪ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির রহমান লিমন পান ১৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ছালছাবিল আহমেদ জিসান পান ১০৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৌফিকুর রহমান পিয়াস পান ১৫ ভোট। এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ।

সম্মেলনের ওই এমপি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে যশোর ছাত্রলীগের সভাপতির বিয়ের ওই কাবিননামার অনুলিপি জমা দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী এনায়েতকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন।তদন্ত শেষে কাজী এনায়েত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী এনায়েত আজ বলেন, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নামে যে কাবিননামাটি জমা দেয়া হয়েছিল সেটি ভুয়া। বাস্তবে এর কেনো অস্তিত্ব নেই। আমি তদন্ত রিপোর্ট সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিয়েছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া কাবিননামায় দেখানো হয়েছে, যশোর সদরের ১২নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিকাহ রেজিস্ট্রার আখতার হোসেন বিয়েটি পড়িয়েছেন। তথ্যটি যাচাই বাছাই শুরু হলে আখতার হোসেন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে লিখিত পত্র পাঠান যশোর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। পরে ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসীম উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তথ্য চান যশোর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ ঘোষ। তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন তৈরি করেন সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি শাহীর বিয়ের কোনো তথ্য প্রমাণ ফতেহপুর কাজী অফিসে নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রতিবেদনের অনুলিপি ছাতলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে ছাড়াও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন সোহাগ ও জাকির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘যশোর ছাত্রলীগের সভাপতির নামে বিয়ের যে কাবিনটি আমাদের হাতে এসেছিল, সেটি আসলে ভুয়া। বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। রওশন ইকবাল শাহী অবিবাহিত।’

এদিকে আজ শনিবার যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাবিননামায় যে মেয়ের সাথে শাহীর বিয়ে হয়েছে উল্লেখ করা ওই মেয়ের বাবা বাবা এহসানুল কবির সাগর।

তিনি বলেন, স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পর কিছু লোক আমার বাড়ি যাচ্ছে। এরপর জানতে পারি মেয়ের বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়। যা আমার এবং মেয়ের মান সম্মানের ব্যাপার। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার আশা করছি। এ রকম অপবাদ আর যেন না হয়। বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

১৬ জুলাই, ২০১৭ ১২:১৫:১৮