অভিনেতা তানভীরের ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট


রাজধানীর রূপনগরে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মডেল ও অভিনেতা তানভীর তনুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সরাফুজ্জামান আনসারী এ নির্দেশ দেন। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ওই তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

গত শুক্রবার অভিনেতা তানভীর ও তার বন্ধু জাবেদের বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী। পরে ওইদিন রাতেই তানভীরকে রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার ৯ নম্বর রোডের ওয়ালটন ভবনের নিজ বাসা (ঘটনাস্থল) থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও তার স্ত্রী ও স্বজনদের দাবি, ধর্ষণের ঘটনায় তনু জড়িত নন। তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই মিথ্যা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করে ওই তরুণী মামলাটি করেছেন। এর পেছনে কোনো একটি মহল জড়িত বলে তাদের ধারণা। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জাবেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী সুপার মিরাশ উদ্দিন জানান, গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে অভিনেতা তানভীরকে হাজির করা হয়। পরে তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোকাম্মেল হোসেন। অপরদিকে আসামির আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে আদালতের কাছে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় তানভীর তনুর। স্ত্রী থাকার পরও তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। ভুক্তভোগী তরুণীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ অভিনেতা। এ বিষয়ে কথা বলার জন্যই তানভীর গত ৬ মে ওই তরুণীকে রূপনগরের বাসায় ডেকে নেন। তখন অবশ্য তানভীরের স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। শুধু ছিলেন জাবেদ নামে তার একবন্ধু। আর এ সুযোগে তরুণীকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে বন্ধুকেও ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ করেন তানভীর। বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসেন ভিকটিম। ঘটনার পর অবশ্য এ অভিনেতা পলাতক ছিলেন।

রূপনগর থানার ওসি শহিদুল আলম গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বাসায় তার স্ত্রীও ছিলেন। দীর্ঘদিন পর মামলা করা প্রসঙ্গে তরুণী অবশ্য জানিয়েছেন, ঘটনার পর তানভীরের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারছিলেন না তিনি। এ জন্যই ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে আসেননি। কারণ তিনি নিরাপত্তহীনতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার তানভীর বাসায় আছেন নিশ্চিত হয়েই থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান ওই তরুণী।

ওসি আরও জানান, ধর্ষণের এই মামলায় অভিযুক্ত তানভীরের সঙ্গে মো. জাবেদ নামে তার এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণকা-ের সত্যতা মিলেছে। গতকাল ঢামেক হাসপাতালে অভিযোগকারিনীর শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে।

এদিকে ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, স্বপ্নছোঁয়া, গু-া দ্য টেররিস্ট, খাস জমিন, আই ডোন্ট কেয়ার, পাষাণসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তানভীর তনু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘কর্মফল’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘কর্মফল’-এর সতীশ চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে। অবশ্য তার ক্যারিয়ারের শুরু র‌্যাম্প মডেলিং দিয়ে, পরবর্তীতে তিনি নাটক এবং ফুল অ্যান্ড ফাইনাল দিয়ে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। ব্যক্তিজীবনে তানভীর বিবাহিত। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কর্মরত।


১৮ জুন, ২০১৭ ২০:৩১:১২