'তিস্তার পানির জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলাম'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লী অভিযাত্রার সময় আমরা তিস্তার পানির জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলাম, মমতা রাজী হন নাই, তাই মোদী দিলেন না। প্রশ্ন কে বড় দিল্লী, না কলকাতা? মমতা না মোদী।

বাংলা নববর্ষ-১৪২৪ উপলক্ষে বিকল্পধারার কুড়িল বিশ্বরোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার বিকালে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আহাম্মেদ বাদল, মঞ্জুর রাশেদ, মাহফুজুর রহমান, জানে আলম হাওলাদার, ড. নোমান, আইনুল হক, ওবায়েদুর রহমান মৃধা, বিএম নিজাম, মাওলানা মো. কবীর হোসেন, আমিনুল ইসলাম বুলু, ভূদেব চক্রবর্তী প্রমুখ। আলোচনা শেষে দলীয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

বি. চৌধুরী বলেন, টিভিতে দেখলাম মমতা বলেছেন, “আমাদের তিস্তার জল নেই, কোথা থেকে দেবো”। তিস্তার বদলে “আমাদের ছোট নদী চলে বাকে বাকে” এমন চারটি খালসম নদী দেখিয়ে দিলেন। প্রশ্ন হলো, তিস্তাতে ‘জল’ যদি নাই থাকে তবে ওটা বাংলাদেশকে দিতে বাঁধা কোথায়?

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য আরো চমকপ্রদ। “কুছ তো মিলা”। “পানি মাংগা তো ইলেকট্রিসিটি মিলা।” তা হলে বাংলাদেশের মানুষ কি আশায় আশায় কামান চেয়ে গুলতি পেয়েই খুশি থাকবো।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও গরমিল দেখা যাচ্ছে। তাঁরই সরকারের আমলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে সেই গ্রীক নারী মূর্তির বিপক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। “বলেছেন, দেখতে সুন্দর না ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলাই ভালো।”

বিকল্পধারার প্রধান বলেন, যেই হেফাজতের অনুষ্ঠান ব্যর্থ করার জন্য এই সরকার রেল, বাস, লঞ্চ বন্ধ করে তাদের পায়ে হাটা লক্ষ লক্ষ তৃষ্ণার্তকে পানি খাওয়ানোর সমালোচনা করেছেন, আজকে তাদের দাবিগুলোকে মেনে নিলেন, দাওরাকে এমএ-র সমতূল্য করা ও গ্রীক মূর্তির অপসারণ করার কথা বলেছেন। এগুলো নির্বাচনমুখী সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা কী না রাজনৈতিক মহল এটা ভাবতে শুরু করেছেন?

বি. চৌধুরী বলেন, আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং গণতন্ত্রের অবমুক্তি দেখতে চাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন লক্ষণীয়, এটা ঠিক, তবে সমালোচনার কিছু নেই। যেহেতু এটা এক ধরণের রাজনৈতিক দাবার চাল, নিবাচনের প্রাক্কালে এগুলো হয়েই থাকে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তা হলে নির্বাচন কি অতি আসন্ন?

১৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:০৫:০৭