পিঠমোড়া দিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবিটি তাহলে কার?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরে থানার মধ্যে যুবককে পিঠমোড়া দিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনা তদন্তে আজ শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।  যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বুধবার (৪ জানুয়ারি) সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদকে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশের সিভিল টিম। আটকের পর তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে গড়ান কাঠ দিয়ে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই রাতেই ছাড়া পায় সাঈদ।

থানায় পিঠমোড়া দিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের এই ছবি বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের সিভিল টিম তুলে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে সিভিল টিম মাঠে থাকায় এবং তাদের হাতে এমন ঘটনা ঘটায় পুলিশের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, থানার মধ্যে ওই যুবকের দু’পায়ের মাঝে গড়ান কাঠ দিয়ে পিঠ মোড়া করে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। আর ঘটনার শিকার আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের মাদক বিক্রেতা নুরুল হকের ছেলে। তবে আবু সাঈদ ওই দিন আটক হলেও তার উপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি বলে দাবি করেছেন।

তবে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এই ছবি ও খবর নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রেসক্লাব যশোরে আসেন। প্রেসক্লাবে সাঈদ দাবি করেন, বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশের সিভিল টিম তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়ের করা মামলার খোঁজখবর নেয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে আটক করলেও পুলিশ তার উপর কোনো নির্যাতন চালায়নি এবং ছেড়ে দেয়ার জন্য কোনো টাকাও নেয়নি।

দুই টেবিলের মাঝে উল্টো করে ঝুলানো যুবক যদি আবু সাঈদ নাই হন, তাহলে ছবির মানুষটি কে—তা নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে। যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে ওই নির্যাতিত ব্যক্তির পুরো শরীর দেখা গেলেও চেহারা দেখা যাচ্ছে না। ছবি দেখে এটাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না যে ছবির ওই ব্যক্তিই আবু সাঈদ। আবার থানায় যাদের নিয়মিত যাতায়াত, তাদের অনেকেই বলছেন, ছবিটি কোতোয়ালি থানার ভেতর থেকেই তোলা বলে মনে হচ্ছে। যদিও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবির সঙ্গে আমার থানার ঘরগুলো মিলিয়ে দেখেছি। কিন্তু ছবির সঙ্গে কোনো ঘরই মিলছে না।  এদিকে এ ঘটনার পর গতকাল সকাল থেকে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা। 

ঘটনার শিকার আবু সাঈদের মা রোমেছা বেগম, বাবা নুরুল ইসলাম ও ভাই আশিকুর দাবি করেছেন, পুলিশ আবু সাঈদকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টাকা পয়সা লেনদেন কিংবা মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। এমনিতেই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর পলাতক ছিল আবু সাঈদ। এমনকি শুক্রবার সকালে গিয়ে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দেখা মেলে আবু সাঈদের। এরপর দুপুরে তিনি প্রেসক্লাবেও আসেন।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু সাঈদ পরিবারের সদস্যরা ভয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে না। সাঈদ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাই পরিবারের লোকজন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, থানায় নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. আবু সরওয়ারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

০৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৭:১৯:৩৩