সনাতনী ঐতিহ্যে বৈশাখী উৎসব সিডনীর ল্যাকেম্বায়
কাজী সুলতানা শিমি
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রথমবারের মতো সিডনির ল্যাকেম্বায় অনুষ্ঠিত হল বৈশাখী পথ উৎসব। পহেলা বৈশাখে ১৪ এপ্রিল, সিডনির ল্যাকেম্বা এবার সাজ সাজ রব রবে মেতে উঠেছিলো যেন প্রবাসে চারুকলা চত্বর। সকাল ১০টা হতে ২টা পর্যন্ত চলে এই উৎসব। বাংলা বর্ষবরণের দিনে আঁকা রঙিন আলপনায় ‘শুভ নববর্ষ’ লেখা ল্যাকাম্বার রেলওয়ে প্যারেডকে মনে হচ্ছিলো প্রশান্ত পাড়ের এক ফালি বাংলাদেশ। স্থানীয় বাঙালি স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আলপনা আঁকেন চিত্রশিল্পী পার্থ প্রতিম বালা।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে উৎসব শুরু হলেও আল্পনা আঁকা শুরু হয় ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে। লাকেম্বার এ বৈশাখী উৎসবে রেলওয়ে প্যারেডের রাস্তাজুড়ে ছিল নানা বৈশাখী আয়োজন। বৈশাখী মঞ্চে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিশু কিশোরদের পরিবেশনা ছাড়াও ছিল কবিতা ও অন্যান্য আয়োজন। সেইসাথে সাজানো হয়েছিল লোকজ গ্রামবাংলার মাটির  হাঁড়ি, পুতুল ও হাতপাখার মিষ্টি ছবির রঙিন ফেস্টুন দিয়ে। রংবেরঙের আলপনা দেখতে প্রবাসী বাঙালিরা ভোরের আলো ফোটা থেকেই চলে আসেন লাকেম্বায়। বাঙালির এ প্রাণের উৎসবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় কাউন্সিল।বিকেল ৪টা পর্যন্ত রেলওয়ে প্যারেড রাস্তাটি বন্ধ রেখে উৎসবকে সমর্থন জানায় ক্যাম্পসী পুলিশ কম্যান্ডার। এ মেলায় ছিল বই থেকে শুরু করে গুড় মুড়ি, পান্তা ইলিশ ও গামছা লুঙ্গির সমারোহ। উৎসবকে কেন্দ্র করে সিডনির এ রাস্তা হয়ে উঠছিল উচ্ছ্বাস ও আনন্দের  এক মিলনমেলা।   

সিডনির ল্যাকেম্বায় বৈশাখী উৎসবের আয়োজক বাংলা হাব, রেলওয়ে প্যারেড ব্যবসায়ী সমিতি ও ওপেন ফ্রেন্ড সার্কেল। এছাড়াও সার্বিক সহায়তায় ছিলেন ক্যান্টাব্যুরি সিটি কাউন্সিলের মেয়র খাল আস্ফুর। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুনির বিশ্বাস বলেন, এবার যাত্রা শুরু। খুব কম সময় নিয়ে করা এ আয়োজন আগামী বৈশাখে হবে আরও অনেক বেশী উচ্ছ্বাস, তারুণ্য ও আনন্দের। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে, আরও বৈচিত্র্যময় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এ উৎসবে স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। 

উল্লেখ্য, বাঙালির সকল উৎসবের মধ্যে বৈশাখ উদযাপনের রয়েছে একটা সর্বজনীন রূপ।এ উৎসবে জাত-ধর্ম, সম্প্রদায়, ধনী-গরিবের সামাজিক বিভক্তি একাকার হয়ে যায়। এ যেন সকলের জন্য এক সেতুবন্ধন। কালের বিবর্তনে আনুষ্ঠানিকতার ধরন পাল্টালেও আবহমান বাংলার সামাজিক উৎসব, পার্বণ বা সাধারণ মানুষের চিরাচরিত ঐতিহ্য-কৃষ্টিগুলো আজও মনে প্রাণে অনুভব করে সকলেই। আর তারই প্রতিফলন ঘটেছিলো ল্যাকেম্বার এই বৈশাখী পথ উৎসবে।

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:২৫:১৫