থিমের হিড়িকে জঙ্গলমহলের পুজোগুলিকে সমানে টেক্কা দিচ্ছে লালগড়
বচ্চন গিরি • ঝাড়গ্রাম
অ+ অ-প্রিন্ট


চলার পথ বড়ই দুর্গম হয়। কখনো সমতল, কখনো আবার খানাখন্দে ভরপুর। সেই পুরাতন কাল থেকে যতো গল্প আছে, লোকগাঁথা আছে সব তারই স্পষ্ট প্রমাণ দেয়| একযুগ পরেও গল্পটা হয়তো এরকমই হবে| সব গল্পেরই একটা করে সমাপ্তি আছে| ইতিহাসের পাতায় পাতায় আজও আছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সভ্যতার কথা| ঠিক তেমনই সময়ের হাত ধরে পেরিয়ে গেছে কয়েকটা বছর| পুরাতন ঘটনাগুলোর স্মৃতি ভুলতে চেয়েছে মানুষ| আগমনীর বার্তা নিয়ে শরৎ কাশের বনে বনে লেগেছে দোলা| দুর্গোৎসব বাঙালির ঘরে ঘরে আনন্দের ফানুস নিয়ে হাজির| তবু স্মৃতির চিলেকোঠায় পুরাতন কিছু ঘটনা আজও দগদগে| মাত্র কয়েকবছর আগেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তথা অধুনা ঝাড়গ্রামের লালগড় ছিল রক্তে ভেজা| একদা মাওবাদীদের গড় হিসেবে সংবাদপত্রের শিরোনামে বারবার উঠে এসেছে লালগড়ের নাম| বনধ্, অবরোধ, রাস্তা কেটে গাছ ফেলে বিক্ষোভ - আন্দোলন, সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ কোথাও আবার রাস্তার উপর পড়ে থাকতো মানুষের রক্তমাখা নিথর দেহ| এমনই চিত্র এতকাল দেখে এসেছে জঙ্গলমহলের মানুষ| বিকেল হলেই শোনা যেত কোনও চায়ের দোকানে অথবা রাস্তার উপর প্রকাশ্যে বুলেট ঝাঁঝরা করে দিয়েছে কোনও মানুষের দেহ| ক্ষমতা দখলের লড়াই আর বুলেটের গর্জনে জঙ্গলমহল জুড়ে উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে গিয়েছিল| একটা সময় এখানকার মানুষ ভুলতে বসেছিল সমস্ত লোকাচার| জীবনের অন্তিমলগ্নে দাঁড়িয়েও তবু ভাটা পড়েনি বাঙালির বড় পুজোয়| জঙ্গলমহলের লালগড়, বামাল, চামিটাড়া, গোহমীডাঙা, কাঁটাপাহাড়ি, রামগড়, নেতাই সহ সমগ্র জঙ্গলমহলে নমঃ নমঃ করেই হয়েছিল দুর্গাপুজো| সময় বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট| ইতিহাস জানে কোনও যুদ্ধই চিরস্থায়ী নয়| একদিন যে জঙ্গলমহল জুড়ে ভারি বুটের শব্দ ছিল, গুলি শব্দে, বারুদের গন্ধে ভরে গিয়েছিল বাতাস সেখানেই এখন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে এসেছে| জারি হয়েছে আইনের শাসন|  জঙ্গলমহল জুড়ে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী| নিয়মমাফিক সদা জাগ্রত আধাসেনার টহলদারি চলে প্রতিদিন| দীর্ঘ  সন্ত্রাসের আবহ কাটিয়ে এখন জঙ্গলমহল জুড়ে উৎসবের মরসুম| ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে থিমের প্রতিযোগিতা|  নজরকাড়া পুজোগুলি থেকে পিছিয়ে নেই লালগড়| এবছর লালগড় সাব্বজনীন পুজো কমিটির ৬৭ তম বর্ষ| এবছর প্রতিমার পাশাপাশি থিমের দিকেও বিশেষ জোর দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা| ষষ্ঠীর দিন থেকেই চলছে নানান রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান| পুজো কমিটির এক উদ্যোক্তা বলেন -"দীর্ঘ কয়েকবছর ঠিকমতো পুজো হয়নি| যেটুকু হয়েছে তা নামে মাত্র| এবছর আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল অন্য রকম পুজোর আনন্দ মানুষকে দেওয়ার| কতোটা কি করতে পেরেছি আমরা তা সত্যিই জানিনা তবে চেষ্টা করেছি আপ্রাণ এটাই সব থেকে বড় পাওনা আমাদের কাছে|"


২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:২৬:২৮