দেশ হতে আসার আগে ফিট বিদেশে এসে আনফিট, নতুন রহস্যের জালে কুয়েতে আসা বাংলাদেশিরা
শেখ এহছান খোকন, কুয়েত থেকে
অ+ অ-প্রিন্ট
পরিবর্তনের দূত হিসেবে পৃথিবীর অনেক মানুষের নাম খবরের কাগজে স্থান পেয়েছে,উঠে এসেছে সময় উপযোগী বিভিন্ন ঘটনা ।সেদিক দিয়ে প্রবাসীদের খবরও কম নয় কিন্তু সেই প্রবাসীদের নিয়ে কিছু শ্রেনী খেলে বিচিত্র খেলা ।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরিয়ে ছিটিয়ে থাকা (পরিসংখ্যানে )১কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা ।এদের মধ্যে শতকরা  ৩৫ ভাগের ইনকাম ভালো থাকলেও ৬৫ ভাগের অবস্থা নাজুক ।বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশি ।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গন মাধ্যমে মালায়শিয়া ,সৌদি ,ইরাক,লিবিয়া,কুয়েত  সহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত  (নানা সমস্যায় জর্জরিত) প্রবাসীদের খবর প্রচার হচ্ছে ।বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ ধনী দেশ কুয়েতে রয়েছে ৩ লাখের মত প্রবাসী ।এদের মধ্যে যারা নতুন ভিসায় কুয়েত এসেছেন তাদের বেশিরভাগ মানবিক জীবন অত্যন্ত কষ্টের ।এর প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে লামানা ভিসা যাকে বাংলায় বলা হয় বিশেষ অনুমতি,দালাল এদের মধ্যে ছোট, মাঝারি ও রাগোব বোয়াল,ভিসার অর্থ ইনভেস্টার , দূতাবাসের শতভাগ দায়িত্বশীল আন্তরিকতা, দেশের রিক্রুটিং এজেন্ট,সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীলদের মাঝে দূনীতি   সব মিলিয়ে শ্রমিকদের রক্ত চুষে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রবনতা ।   

 এ সমস্ত দালালরা বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার  করে থাকে ।যে সকল সরকারী এবং বেসরকারী মাধ্যম লাগে একজন প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে আসতে সেগুলোর সব যায়গায়ই রয়েছে এসব দালালের দৌরাত্ম্য ।

কুয়েত ফেরত চার শ্রমিকের হৃদয়বিদারক দৃশ্যের ঘটনা ঘটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তা বিভিন্ন খবরের কাগজে উঠে আসে , যে সকল শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাদের মধ্যে ঢাকার ইব্রাহীম, নোয়াখালীর মোতালেব, নরসিংদীর আনসার মিয়া ও গাজীপুরের হাসান  এরা মেডিক্যাল আনফিট হলে দেশ থেকে আসলো কিভাবে তাহলে কি প্রমাণ হয়  প্রশ্ন ?

আবার কুয়েত আসার পর মেডিক্যাল সম্পূর্ণ  হতে সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লাগার পিছনে রহস্যই বা কি?সব মিলিয়ে ভিসা, টাকা আর দিনারের মামলা!আবার এর কারনে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা নিয়ে আসার কথা টেবিলে টেবিলে আর বাংলাদেশ রেমিটেন্সে অনেকটা ধশ নেমেছে আগের তুলনায় বর্তমানে ।

 ছয় থেকে আট লাখ টাকা খরচ করে কুয়েত এসে   শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার গল্পটা বেশ অজানায় থেকে যায়  কারন তারা গরীব অসহায় । এখন বাড়িতে পরিবার কিভাবে চালাবে ,ঋণের শোধ  কিভাবে হবে ,সেক্ষেত্রে বুকের স্বপ্ন আর   চোখের জল ,এখন তারা অন্ধকারের বাসিন্দা । বর্তমানে  কুয়েতে বাংলাদেশিরাই বাংলাদেশীর  উপর প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটছে । যে সমস্ত দালালদের দ্বারা নতুন ভিসায় শ্রমিকরা এসেছে তাদের অনেকেরই আকামা,ডিউটি এমনকি খাবারের ব্যবস্থা নাজুক ।যে সকল দালালদের দায়িত্বে লোকগুলো এসেছে তারা আকামা ও কাজ দিতে পারছেন না আর ভূক্তভোগী হচ্ছে নতুন অনেক শ্রমিক ।এমন কি শ্রমিকদের হুমকি দমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।তাদের ভয়ে মুখ খুলতে চেয়েও খুলতে পারছে না ।সম্প্রতি চার জন শ্রমিককে  মেডিকেল আনফিট দেখিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে  কোম্পানি ,এর সঙ্গে বাংলাদেশি দালাল সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা যায় ।নতুন করে ভিসা তৈরি করে ঐ সিন্ডিকেটই বানিজ্য করতে পারবে বেশি তেমনটি জানা যায় ।

বিদেশে  যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি করে এখন খালি হাতে দেশে ফিরে পাওনাদারদের তাগাদা

 ,দিনার কামিয়ে পরিবারকে একটু সচ্ছলতা এর সবই এখন   বেশ্তে ! কে দিবে এর জবাব ? প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকে বলছে সরকার যদি দূতাবাস গুলোর মনিটরিং টা শক্তহাতে   এবং দালালদের নামের তালিকা করে নিয়ন্ত্রণের ভূমিকাটা জোরালো ভাবে করতেন তবে অসহায় সহজ সরল মানুষ গুলো বিদেশে এসে প্রতারণা বা ধোঁকা খেতেন না ।রাজতন্ত্রের এ দেশে আইন অনেক মজবুত আবার  ওয়াস্তার বাহাদুরীও  চলে বেশ। বাংলাদেশি কিছু প্রভাবশালী ও দালাল মিলে রয়েছে এক সিন্ডিকেট তারা ভিসার মার্কেট ও দুই নম্বরি পথে আয় বারাতে   সহজ সরল মানুষ গুলোকেই  বেছে নেন । তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে ( ড্রাগ দিয়ে ) কেসের  নাটক সাজিয়ে জেলে অথবা দেশে পাঠানো হয়েছে পূর্বে , এখন  যে  তা শেষ হয়ে গেছে শতভাগ তা বলার উপায় নেই ।কারন অর্থের জন্য এ সমস্ত দালাল চক্রের হোতারাই এর জন্য দায়ী ।দূতাবাসের নাম ভাংগিয়ে প্রভাবশালী কিছু মহল , মোট কথা কমিউনিটির উচ্চ পর্যায়ের সবার সাথে তারা সখ্যতা স্হাপন করে নেন দালাল চক্র বিভিন্ন উপায়ে । আর তখন চোরকে চুরি গৃহস্থকে সজাগ থাকার  প্রবাদটা দার করে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান ।এই দালাল সিন্ডিকেটের  প্রায় শতাধিক এর উপরে অসাধুরা  রয়েছে,যা কুয়েতের বিভিন্ন মাধ্যমের অজানা নয়  কিন্তু মুখ খোলা মানা!। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের জন্য আন্তরিক কিন্তু সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এসমস্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি  যে বিষয় গুলো প্রবাসে ঘটে তার জন্য সরকারের প্রবাসী মন্ত্রনালয় ,পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দায়িত্ব পালনে শতভাগ সৎ ও যোগ্য কর্তা ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে অনুরোধ জানান সাধারণ শ্রমজীবী কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ।

২৪ জুলাই, ২০১৭ ১০:৪৯:১১