লন্ডনে সাড়ম্বরে পালিত পয়লা বৈশাখ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের মধ্যে দিয়েই সূচনা হয় বাংলার নতুন বছরের৷ আর নতুন বছরকে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানায় বাঙালিরা৷ ১৪২৪ সালের এই নতুন বছরের সূচনাতেও কোনও অন্যথা দেখা গেলনা৷ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ মেতে উঠল বাংলার নববর্ষকে স্বাগত জানাতে৷ তবে এই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুধু দেশেই নয়৷ দেশের পাশাপাশি সাড়ম্বরে লন্ডনেও পালিত হল পয়লা বৈশাখ৷ মিডল্যান্ডস বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই পয়লা বৈশাখ উদযাপন করে৷ নাচ-গান-নাটকের সমারোহে পালিত হল এই উৎসব শনিবার৷

চরক আর গাঁজনের মেলা দিয়ে শেষ হয় বছরের শেষ দিনটি৷ তারপরই নতুন জামাকাপড় আর খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে বাঙালি স্বাগত জানায় নতুন বছরকে৷ এর পাশাপাশিই ছোটরা বড়দের আশীর্বাদ নিয়ে শুরু করে বছরের প্রথম দিনটি৷ কিন্তু বাংলার বাইরে নতুন বছরকে এভাবে স্বাগত না জানালেও অনুষ্ঠান করেই সাড়ম্বরেই বিদেশের বাঙালিরা উদযাপন করে এই দিনটি৷ লন্ডনের ব্যস্ত নাগরিক জীবনযাপনের মাঝেও মেতে ওঠেন এই সমস্ত বাঙালিরা উৎসব পালনে৷

এই সমস্ত দিনগুলিতে দেশ ছেড়ে বাইরে থাকা মানুষের মন পরে থাকে দেশের প্রতি৷ তাদের পরিবার পরিজনের প্রতি৷ কিন্তু এই আনন্দের দিনে যাতে কোনও বাঙালিকেই মন খারাপ করে থাকতে না হয়, সেই কারনেই এমন এক অভিনব উদ্যোগ নেয় এই অ্যাসোসিয়েশন৷ ছোট থেকে বড় প্রত্যেকে এই আনন্দ অনুষ্ঠানে সামিল হয়৷ সুকুমার রায়ের নাটক ‘অবাক জলপান’ দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়৷ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিদেশে বসবাসকারী মানুষেরা আবার বাঙালি হয়ে যান৷ শাড়ি-পাঞ্জাবি-রবীন্দ্রনাথের ছোঁয়ায় লন্ডনও একদিনের জন্য ইংরেজদের নিয়মকানুনের বেড়াজাল পেরিয়ে পুরোদস্তুর বাঙালি হয়ে ওঠে৷ বিদেশের বিদ্যালয়ে পড়ার ফলে বাংলা ভাষার মর্যাদাই বুঝতে পারেনা বিদেশে থাকা খুদেরা৷ কিন্তু এই বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানের জন্য তাদের পরিচিতি ঘটে বাঙালি কবি-লেখকদের সঙ্গে৷ বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাদের৷ তবে এই অনুষ্ঠান হওয়ার পিছনে প্রধান উৎসাহ যোগায় কিন্তু বাচ্চারাই৷ তাদের আবদার মেটাতেই বড়রা সামিল হয় এই অনুষ্ঠানে৷ চার থেকে চোদ্দ৷ এই বয়সের খুদে খুদে শিশুরাই এই অবাক জলপান নাটকে অংশগ্রহন করে৷ এরপর বাংলার বিভিন্ন কবিদের শ্রদ্ধা জানানো হয় নাচে-গানে৷ এর পাশাপাশিই মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কপতাক্ষ নদী’র সাথে তাল মেলালো কয়েকজন৷

আর বাঙালি মানে তাতে অবশ্যই থাকবে খাওয়াদাওয়ারও ব্যবস্থা৷ খাদ্যরসিক বাঙালির খাওয়া ছাড়া মন ভরেনা৷ তাই অনুষ্ঠানের শেষেও আয়োজন করা হয়েছিল একাধিক খাওয়ার দাওয়ারের ব্যবস্থা৷ ডিমের ডেভিল থেকে পোলাও-পাটিসাপটা৷ দেশ ছেড়ে দূরে থেকেও দেশের প্রতি একজন বাঙালির কি টান সেটি বোঝা যাবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে৷ এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় থাকা বাঙালিরা এই অনুষ্ঠানে যোগদান করে৷ আর সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একে অপরকে আপন করে নেয় মুহূর্তে৷

সাত সমুদ্র পাড়ে বসেও বাঙালি অনুষ্ঠানে মাতল বাঙালিরা৷ এই সমস্ত অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, ভালোবাসা৷ এর পাশাপাশিই বাঙালি জাতি যতই ইংরেজি হ্যাপি নিউ ইয়ারে মাতামাতি করুক না কেন৷ তার পাশাপাশিই কিন্তু নববর্ষ পালনে কোনও ঘাটতি দেখা যায়না৷ পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে পালিত হয় এই পয়লা বৈশাখ৷ ধনী থেকে গরীব সকলে একই সূত্রে বাধা পরে এই দিনটিতে৷ তবে শুধু এই দেশের বাঙালিই নয়৷ সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বাঙালি জাতি৷ আর বাঙালি মানেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বন‘৷ সারা বছর জুড়েই আনন্দ উৎসবে মেতে থাকেন বাঙালিরা সারা বিশ্বজুড়ে৷

প্রায় ১০০জন এই অনুষ্ঠানে একত্রিত হয়৷ আর সবাইই একসঙ্গে সবাইই মনে প্রাণে গেয়ে ওঠে ‘আমি বাংলায় গান গাই‘৷ এঁরা বিদেশে থাকলেও মনে-প্রাণে যে এরা বাঙালিই রয়ে গিয়েছেন৷

১৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:১২:২১