পর্তুগালে বাংলাদেশিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
পর্তুগিজ অভিবাসন কার্যালয়ের নানা হয়রানি, অনিয়ম ও বৈধ অভিবাসীর স্বীকৃতির দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন দেশটিতে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশিসহ এশিয়া ও অাফ্রিকার বিপুল সংখ্যক অভিবাসী। পর্তুগালের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পর্তুগিজ পার্লামেন্ট সাও বেন্তে প্যালেসের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্টে ইমিগ্রান্ট অাইন নিয়ে বিতর্ক চলাকালে অভিবাসী কমিউনিটি এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ইউরোপিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে পর্তুগাল অাওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামিক ফোরাম ইউরোপসহ অারো বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

ইমিগ্রান্টদের পক্ষে দাঁড়ানো মানবাধিকার সংগঠন ‘সলিডরিটি ইমিগ্রান্ট’ এর প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাচেদো বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অামরা অান্দোলন থেকে সরবো না। এই প্রথম অভিবাসী কমিউনিটির মানবিক দাবি নিয়ে অামরা পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়েছি। অাজকের এই কর্মসূচি অামাদের দাবি অাদায়ের পথ সহজ করবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে এখনও আমরা জয়ী হইনি, তবে আজকের বিক্ষোভ আমাদের দাবির পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ১৩ নভেম্বর মারতিম মনিস-এ (বাঙালিপাড়া বলে খ্যাত) দ্বিতীয় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ছি না।

বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ক্ষমতাসীন পর্তুগাল সোস্যালিস্ট পার্টির কাউন্সিলর রানা তসলিম উদ্দিন অভিবাসীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাগো নিউজ`কে বলেন ‘অভিবাসীদের স্বর্গ বলে খ্যাত পর্তুগালের সাম্প্রতিক সংকট থেকে আমরা উত্তরণ চাই। মানবিক দেশ হিসেবে পর্তুগালের যে ইমেজ, সেটি কোনোভাবেই ক্ষুন্ন হতে দেয়া যায় না।’

ইমিগ্রেশন আইনের অভিবাসীবান্ধব আর্টিক্যাল ৮৮ বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার জন্যেই অভিবাসীদের পর্তুগিজ সমাজের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দাবি আদায়ের জন্য অভিবাসী কমিউনিটির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৮৮ বহাল থাকবে কিনা–এ নিয়ে পার্লামেন্টে নির্ধারিত বিতর্ক ছিল বৃহস্পতিবার। অভিবাসীবান্ধব এই ধারা বহাল রাখার দাবিতেই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি বর্তমানে পর্তুগালে বসবাস করলেও এদের বিরাট একটি অংশ এখনও বৈধতা পাননি। চাকরি করে নিয়মিত ট্যাক্স দিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে রেসিডেন্টশিপ পেতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। ২০১৪ সালে ব্রিটেনের স্টুডেন্ট ভিসা মেয়াদ-উত্তীর্ণ তরুণদের একটি অংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ হয়ে পর্তুগালে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

রেসিডেন্টশিপ পেতে তাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে। আগে ৬/১২ মাস ট্যাক্স দিলেই রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়া যেতো। সেটি এখন অার সহজ নয়। ভিসা ছাড়া প্রবেশের কারণ দেখিয়ে অনেককেই পর্তুগাল ছাড়ার (কান্ট্রি আউট) নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, কারও কারও আবেদন ঝুলে রয়েছে মাসের পর মাস। অনেক অভিবাসী দাবি করেন ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তাদেরকে রেসিডেন্স কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে না। এদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কার্ড হাতে না পাওয়ায় ব্যাপক হতাশার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছেন, অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে দেশে যাতায়াত করতে পারছেন না।

অান্দোলনের প্রেক্ষিতে পার্লামেন্টে অালোচনা শেষে সরকারের (পর্তুগাল স্যোসালিস্ট পার্টি) পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে অানার ব্যাপারে অাগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কমিশনের সাথে অালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

 

২৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫৮:১১