একসঙ্গে থাকতে চেয়ে আদালতে হলফনামা দিল দুই বান্ধবী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ভারতের আসামে আজীবন এক সঙ্গে থাকার (লিভ ইন) অঙ্গীকার করে সম্প্রতি আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছেন দুই নারী। তারা হলেন গুলশারা আলি এবং আমিনা খাতুন। ভারতের আইনজীবী জয়ন্তী দাস জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ‘লিভ ইন’ করতে চেয়ে হলফনামা দেওয়ার ঘটনা আসামে এই প্রথম।

বালাজান পার্ট-১ গ্রামের বাসিন্দা, গুলজার আলির কন্যা গুলশারা। পাশের বালাজান পার্ট-২ গ্রামেই থাকেন আহমেদ আলির মেয়ে, আমিনা। ছোটবেলা থেকে একই সঙ্গে খেলাধুলা করেন তারা। আমিনা তেমন লেখাপড়া করেননি। গুলশারা সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন।

স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর গুলশারা সন্তান নিয়ে গ্রামে ফিরলে আমিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। দুই মেয়ের ঘনিষ্ঠতা কেউ ভাল চোখে দেখেননি। তা নিয়ে সতর্ক করা হয় দু’জনকে। আমিনার পরিবার থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াও শুরু হয়। এরই মধ্যে পালিয়ে যান দুই বান্ধবী।আমিনার পরিবারের তরফ থেকে থানায় গুলশারার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়।

এই ঘটনার মধ্যেই গত সেপ্টেম্বরে ৩৭৭ ধারা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট । সেই রায়ের কথা জানতে পারেন গুলশারা এবং আমিনা। যোগাযোগ শুরু করেন উকিলদের সঙ্গে। স্বয়ং জেলার পুলিশ সুপার লংনিত তেরং তাদের পাহারা দিয়ে গ্রামে ফিরিয়ে দিয়ে যান। তিনি জানিয়ে দেন, আইন দুই কন্যার পক্ষে। অশান্তি হলে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেবে।

শেষ পর্যন্ত গত ৪ অক্টোবর ধুবুড়ি আদালতে গিয়ে আমিনারা আজীবন এক সঙ্গে থাকা এবং পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকার করে ‘নোটারি এফিডেভিট’ করেন। তার পরে একসঙ্গে থাকা শুরু, সন্তানদের নিয়ে।

গুলশারা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়েই স্পষ্ট, দু’জন মেয়ে যদি নিজেদের ইচ্ছায়, কোনও পুরুষকে বিয়ে না করে এক সঙ্গে থাকে তাতে দোষের কিছু নেই। আইন আমাদের পক্ষে। আমরা যত দিন বাঁচব এক সঙ্গে থাকব।’

আমিনার সাফ কথা, “বিয়ে করিনি। বন্ধু হিসেবে আজীবন থাকার অঙ্গীকার করেছি মাত্র। এই সম্পর্ক নিয়ে অন্যদের কাটাছেঁড়া করা নিষ্প্রয়োজন।’

আসামে রূপান্তরকামী ও সমকামী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক স্বাতী বিধান বরুয়া বলেন, ‘আইন সকলে মানতে বাধ্য। তারা বিয়ে করলেও কারও কিছু বলার নেই। বরং তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে কেউ হস্তক্ষেপ করলে পুলিশের উচিত তাদের নিরাপত্তা দেওয়া।

ধুবুড়ির আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী মাসুদ জামানের মতে, দুই বন্ধবী মানসিক শান্তির জন্য হলফনামা জমা দিয়েছেন বটে। কিন্তু দুই বন্ধুর আজীবন এক সঙ্গে থাকার জন্য হলফনামার প্রয়োজন নেই। আর গৌরীপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই বন্ধু নিরাপত্তার আশ্বাস চাইলে পুলিশ ব্যবস্থা করবে। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩৬:২২