তালাক চাওয়ায় ফিল্মি কায়দায় স্বামীকে পেটালেন তরুণী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ব্যস্ত শহরে জনবহুল রাস্তায় মোটরবাইকে করে ব্যবসায়ী স্বামীর গাড়িকে ধাওয়া করেন এক তরুণী। এরপর রাস্তায় ফেলেই ওই ব্যক্তিকে পেটান ওই নারী। এখানেই শেষ নয়। থানায় পুলিশের সামনেই স্বামীকে মারধোর করেন ওই তরুণী। এ ঘটনায় ওই বেপরোয়া নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বামী নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ হলিউডি কায়দায় স্বামীর বিদেশি গাড়ি আটকান ওই তরুণী ও তার সঙ্গের কিছু মোটর আরোহী। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে তারা পালিয়ে যান। পরে পার্ক সার্কাস বাজারের পিছন দিয়ে ঘুরে এসে কড়েয়া রোডের মুখে দাঁড়ায় গাড়িটি। তখন ফের এর গতিরোধ করে দাঁড়ান সেই নারী। এসময় তার সঙ্গে থাকা বাইক আরোহীদের একজন রাস্তায় নেমে রডের আঘাতে গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙেন। আর একজন সামনের দরজা খুলে ঘুষি চালায় চালকের মুখে। এসইউভি গাড়ির আরোহীর মাথা লক্ষ্য করে অন্য একজনের হাতে ধরা একটি পিস্তল। আর পাশে দাঁড়িয়ে সেই যুবতী তর্জনী উঁচিয়ে উত্তেজিত স্বরে কিছু বলছেন এসইউভি-র মধ্য পঞ্চাশের আরোহীকে!

এসময় কাছে থাকা এক ট্র্যাফিক পুলিশ ছুটে এসে ওই তরুণীকে আটকাতে যান। তখন তাকেও ঘুষি মারেন ওই নারী। ফলে পিছিয়ে যান ওই পুলিশকর্মী। গাড়ির আরোহীর নাম আনোয়ার আজিম। কলকাতা শহরের নামী রিয়েলএস্টেট ব্যাবসায়ী। কড়েয়া এলাকারই লোয়ার রেঞ্জে তার বাড়ি। দক্ষিণ শহরতলিতে বেশ কয়েকটি বড় আবাসন তৈরি করেছেন ওই প্রোমোটার।

বুধবার ওই তরুণীর হাত থেকে বাঁচতে কড়েয়া থানায় ছুটে যান ওই ব্যবসায়ী। পিছনে থেকে তাকে বাইক নিয়ে ধাওয়া করেন ওই তরুণী। ব্যবসায়ী আনোয়ার দ্রুত থানার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে থাকেন। ততক্ষণে বাইক থেকে নেমে গেছেন তরুণী। তারপর পিছন থেকেই সমানে মারতে থাকেন আনোয়ারকে। সঙ্গে অকথ্য গালি। তখন থানার পুলিশ এসে ওই বেপরোয়া নারীর হাত থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারকে ভিতরে নিয়ে যান।

পুলিশের কাছে আনোয়ার জানান, ওই তরুণীর নাম ফারহা হায়াত খান। বছর চব্বিশের ওই তরুণীকে ২০১১ সালে নিজের কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেন তিনি। পরে তাকে বিয়েও করেন। ওই প্রোমোটারের দাবি, বিয়ের পর চারটি ফ্ল্যাট এবং একটি গাড়ি ওই ফারহাকে দিয়েছেন তিনি। পরে তিনি জানতে পারেন, মেয়েটির একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে। এ নিয়েই দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু। যার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন আনোয়ার। সেই কারণেই আনোয়ারের উপর এত রাগ ওই মেয়ের। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কড়েয়া থানার এক নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তিন-চারজন মিলে ওই মেয়েকে রুখতে হিমশিম খেয়েছি।’

এ ঘটনায় থানার পুলিশকর্মীরা প্রথমে ফারহাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ও ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ফারহা।

তবে ফারহা বলেন, ‘আনোয়ার মিথ্যে বলছেন। আমাকে প্রতারণা করেছেন আনোয়ার। এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইছেন।’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

 

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:১৮:৫৬