'চেয়ার অব ডেথ' : বসলেই নিশ্চত মৃত্যু
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বাসবি স্টুপ ইন, ইংল্যান্ডের উত্তর ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত একটি সরাইখানা। ভৌতিক ও রহস্যময় হিসেবে সরাইখানাটির বেশ পরিচিতি রয়েছে। এর প্রধান কারণ, এখানে রয়েছে এমন এক অভিশপ্ত চেয়ার , যার নাম ‘ চেয়ার অব ডেথ ’ মানে মৃত্যুর চেয়ার। যুগ যুগ ধরেই এমনটা চলে আসছে।

১৭০২ সালে থমাস বাসবি নামে একজন অপরাধী তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। সে তার অতিপ্রিয় পানশালাতে গিয়ে নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে জীবনের শেষ খাবার খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। খাবার শেষ করে সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় এবং বলে উঠে, “যে এই চেয়ার বসবে, সে হঠাৎ করেই মারা যাবে।“ এরপরের দুইশ বছর পার হয়ে গেলেও চেয়ারটি সেই পানশালাতেই রয়ে যায়। কেউ তাতে বসতো না।

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন বৈমানিক সেই পানশালাতে এসে সেই অভিশপ্ত চেয়ারে বসলেন। এরপর তিনি আর যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেননি। এছাড়া যে সৈন্যই এই চেয়ারে বসেছে তাদের সবার পরিণতিই একই হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর দুইজন পাইলট ঐ চেয়ারে বসেছিলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে পানশালা থেকে বের হয়েই তারা এক ট্রাক দুর্ঘটনায় মারা যান। ১৯৭০ সালে একজন স্থপতি এই চেয়ারে বসে এই অভিশাপ ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন। সেদিন বিকেলে তিনি এক গর্তে পড়ে মারা যান। এরপর আরেক ছাদ ঢালাইকারী ঐ চেয়ারে বসেন, আর ছাদ থেকে পড়ে যান। আরেক নারী মারা যান মস্তিষ্কের টিউমারে।

ক্রমাগত এসব ভয়াবহ ঘটনা দেখে পানশালার মালিক চেয়ারটি বেসমেন্টে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যে লোকটি চেয়ার বহন করছিল সেই বেসমেন্টে গিয়ে বিশ্রাম নিতে চেয়ারের উপর বসে। সেদিনই সে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। ১৯৭২ সালে চেয়ারটি স্থানীয় জাদুঘরে দিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারটি মাটি থেকে ৫ ফুট উপরে ঝুলিয়ে রেখে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে সেটিতে কেউ বসতে না পারে।

অনেকেই মৃত থমাসকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে। বিজ্ঞান হয়তো এই ঘটনাটিকে সমর্থন করে না। কিন্তু থমাসের অভিশপ্ত চেয়ারে বসার পর পরই এতগুলো মানুষের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বা কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সত্যিই কি চেয়ারটি অভিশপ্ত? বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। এটা তেমনই এক অমীমাংসিত রহস্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

০২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৩৯:৩৬