মেক্সিকোর জঙ্গলে স্থাপত্য
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সাংবাদিক ম্যাথিউ ও'নিল ল্যাটিন আমেরিকার পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেক দিন। মেক্সিকোর পুরনো জঙ্গলের গভীরে লুকানো এক অদ্ভুত রাজ্য দেখে ম্যাথিউ থামতে বাধ্য হন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ ফুট উপরে মেক্সিকোর পুরনো জঙ্গল-পর্বতের মধ্যে গড়ে তোলা দারুণ সে স্থাপত্য। প্রায় ৮০ একর এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। দেখতে অনেকটা পুরনো দিনের স্তম্ভের মতো। এই স্থাপত্যের মাঝে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পুকুর ও ঝরণা। আর সবটা জুড়ে গোলকধাঁধার মতো ঘর। যেখানে দাঁড়ালে মনে হবে একটি এচিং (একটি পেইন্টিং ফর্ম)-এর মধ্যে আপনি অবস্থান করছেন; যার অংশ আপনিও।মেক্সিকোর জঙ্গলে স্থাপত্য

আশেপাশের অদ্ভূত স্থাপনাগুলো মনের ভেতর এক ধরনের বোধ ও বিভ্রান্তি তৈরি করে। স্থাপত্যটির নাম দেয়া হয়েছে লাস পোজাস; যার আভিধানিক অর্থ 'পুকুর'। নামকরণেও একধরনের পরাবাস্তবতার গন্ধ পাওয়া যায়।

এই স্থাপত্য নির্মাণের পেছনের মানুষটি হলেন ব্রিটিশ কবি ও প্রকৃতিবিদ এডওয়ার্ড জেমস। অদ্ভূত স্বভাবের এডওয়ার্ড মূলত শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক। সালভাদর দালি ও রেনে মাগ্রিট্টেসহ বেশ কয়েকজন শিল্পির কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনি। মেক্সিকোর জঙ্গলে স্থাপত্য

লাস পোজাস বানাবার জন্য দূরের ছোটশহর থেকে শ্রমিকদের আনেন জেমস। এটি বানাতে খরচ পড়ে ৫০ লাখ ডলার। আর ওই অর্থের যোগান দিতে জেমসকে বেছে দিতে হয় দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহ করা বেশকিছু বিশেষ চিত্রকর্ম। পাগলামি মনে হলেও এই বিনিয়োগকে সারা দুনিয়ার শিল্প-সমালোচকরা একটি কার্যকরী বিনিয়োগ হিসেবেই দেখেন। মেক্সিকোর জঙ্গলে স্থাপত্য

জেমস প্রথম মেক্সিকো আসেন সেই ১৯৪০ সালে, ইডেন নামে একটি বাগান বানাবেন বলে জায়গা খুঁজছিলেন তিনি। তার ইন্ডিয়ান গাইড প্লুতারকো গ্যাসেলামকে সাথে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সিয়েরা গোর্দা পর্বতশ্রেণীর কাছে চলে আসেন ১৯৪৫ সালের দিকে। সেখান থেকেই এ জায়গাটি বেছে নেন তার পাগলামির জন্য।মেক্সিকোর জঙ্গলে স্থাপত্য

লাস পোজাস বানানো শুরু হয় ১৯৪৫ সালে আর পুরোপুরি শেষ হবার আগেই ১৯৮৪-তে এসে মারা যান জেমস। কিন্তু এই অসম্পূর্ণতাই কি এই অপারবাস্তবতার কারণ? 

সেটি প্রশ্ন নয়, তবে এর নির্মাতা জেমসকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন সালভাদর দালি 'সারা দুনিয়ার সব পাগল একদিকে, আর জেমস একদিকে!' 

সূত্র: দ্য স্পেসেজ ও সিএনএন   

 

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:২১:০৭