ভাবীকাল একে প্রশ্নহীন বলবে না
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
অ+ অ-প্রিন্ট
সারা জীবন যখন যা দেখেছি তাই বলেছি। সুসময়ের অপেক্ষা করিনি। কখন কোনটা বললে ভালো হবে লাভ হবে তেমন চিন্তা কোনো দিন মাথায় আসেনি। বাকি সময় যদি একইভাবে পার করতে পারি সেটাই হবে আমার জন্য পরম প্রভুর দয়া। গত পর্বে খন্দকার বাতেনকে নিয়ে দুকথা লিখেছিলাম। সেখানে তার গুণের কথাই ছিল বেশি। অন্যকিছু লিখতে যাইনি। স্বাধীনতার পর টাঙ্গাইল জেলার গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন সেটা অস্বীকার করি কী করে? সত্যকে অস্বীকার করা যায় না। কাউলজানির কলিবুর রহমান বাঙালিকে গণবাহিনী যে হত্যা করেছিল তা বলতে যাইনি। দিনে দুপুরে ফুলকীর ঝনঝনিয়া মাদ্রাসায় ১৪ জন নিরীহ মানুষকে হুরমুজ বিএসসির নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছিল। আর সেই হুরমুজ বিএসসি ছিল খন্দকার বাতেনের গণবাহিনীর মূলশক্তি। জানি, কালিহাতীর হুরমুজ বিএসসি আওয়ামী লীগের বা মুক্তিযোদ্ধাদের যতজনকে হত্যা করেছে পাকিস্তান হানাদাররাও ততজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারতে পারেনি। তিনিও আওয়ামী লীগ করেছেন, প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ তাকে আগলে নিয়েছে। খন্দকার বাতেনও তাই। খন্দকার বাতেনও বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করতে যত যা প্রয়োজন তা করে শেষের দিকে আওয়ামী লীগ হয়ে এবার মনোয়নয় না পেয়ে হঠাৎ করেই মারা গেছেন। এটা ভবিতব্য। সবারই মরতে হবে। যে যত বড় যত শক্তিশালীই হোক মৃত্যু থেকে কারও মুক্তি নেই। একেবারে দিনহীনের মতো মৃত্যুবরণ করতে হবে। রাজা-জমিদার বলে শীতের দিনে কবরে কাউকে লেপ-তোশক-কম্বল দেওয়া যাবে না, দিলেও কোনো কাজে আসবে না।

বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীতে পরাজিত হন। সিরাজের সৈন্য ছিল ৭০-৮০ হাজার, ইংরেজের চাইতে অনেক বেশি গোলা-বারুদ ছিল, কামান ছিল। ইংরেজদের তিন হাজার সৈন্যের মধ্যে ১৩০০ ইংরেজ আর বাদবাকি ভারতীয় সৈন্য নিয়ে জয়লাভ করেছিল শুধু ষড়যন্ত্রের কারণে। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে মীর জাফরের মৃত্যু হয়েছিল। সারা শরীরে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ালে আত্মীয়স্বজনরা জঙ্গলে রেখে এসেছিল। উমিচাঁদ, তাকে এক হিন্দু সাধকের পেশাব খাইয়েছিল। কিন্তু কুষ্ঠ ভালো হয় নাই, পচন সারে নাই। মোহাম্মদী বেগ ঠাটা পড়ে আর মীরন পাগল হয়ে মরেছিল। সিরাজউদ্দৌলার খালা ঘষেটি বেগমকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ নিস্তার পায়নি। উমিচাঁদ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ সবার মৃত্যু হয়েছে অপঘাতে। মীর জাফরের মেয়ের জামাই মীর কাশেম আলী খাঁ কদিনের জন্য নবাব হয়েছিলেন। নবাব মানে ইংরেজের গোলাম। মতের অমিল হওয়ায় মুর্শিদাবাদ থেকে রাজধানী বিহারের মুঙ্গেরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেখানেও নিস্তার পাননি। শেষে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিহার থেকে পালিয়ে উত্তরপ্রদেশের রহিলাখণ্ডে মাজারে মাজারে কবরে কবরে পাগলের মতো ঘুরে মারা যান। কোথায় মারা গেছেন কোথায় তার কবর, আদৌ কবর হয়েছে কিনা কেউ জানে না, কেউ বলতে পারে না। আল্লাহ শুধু পরকালে শাস্তি বা পুরস্কারের জন্য রেখে দেন না। এ দুনিয়াতেও পুরস্কার তিরস্কারের ব্যবস্থা করেন। লিখতে ভালো লাগে, পাঠকরা অপেক্ষায় থাকে তাই আত্মিক তাগিদে লিখি। আমার লেখা কোনো গল্প নয়, কল্পনা নয়, উপন্যাস নয়। একেবারে করকরে চোখে দেখা সত্য। সাধারণ মানুষের দিন-রাত, আনন্দ-বেদনা, সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না। তাই সেখানে রস-মধু-গন্ধের অভাব থাকতে পারে- কিন্তু সত্যের কোনো অভাব নেই।

দেশে অনেক কিছু আছে। প্রতিদিন নতুন নতুন কত কিছু হচ্ছে যা আমাদের ধারণারও বাইরে। রাজনৈতিক সহমর্মিতার অভাবে সমাজে এক মারাত্মক শূন্যতা চলছে। অনেকেই সামনে-পেছনে তাকিয়ে দেখে না, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তারপরও কত কিছু আছে আমরা যা ভাবতেও পারি না। স্থায়ীভাবে ঢাকায় এসেছি ’৭২ সালে। ’৭২-এ এসেই বাবর রোডে উঠেছিলাম। আর অদল-বদলের ইচ্ছে নেই। একজন ভালো নারী যেমন স্বামীর ঘরে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে সেখান থেকেই তার যেন শেষ যাত্রা হয়। আমারও তেমনি ইচ্ছে, আল্লাহ যেন এ বাড়ি থেকেই তার ঠিকানায় নেওয়ার বা পরপারে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মনে হয় স্বাধীনতার পর বাসে ঢাকা-টাঙ্গাইল করিনি। ভালো হোক মন্দ হোক নিজেদের গাড়িতেই করেছি। এখনো যে সমস্ত গাড়ি ব্যবহার করি সেগুলো সবই প্রায় ২০-২৫ বছরের পুরনো। কোনো গাড়ি ছাড়তে ইচ্ছে করে না এক মারাত্মক মায়া ধরে গেছে।

গত শুক্রবার ৫টায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার পথ ধরেছিলাম। ধারণা ছিল সাড়ে ৭-৮টায় পৌঁছে যাব। কিন্তু সাড়ে ৬-পৌনে ৭টার দিকে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল পার হয়ে কিছুদূর আসতেই গাড়ি আর এগোচ্ছিল না। অটো গিয়ারের গাড়ি। গিয়ার ওয়েল দেখতে গিয়ে দেখা গেল এক ফোঁটাও নেই। বুলবুল আর আলমগীরকে পাঠানো হলো পাওয়ার ওয়েল আনতে। তারা পাওয়ার ওয়েল নিয়ে অল্পক্ষণের মধ্যে ফিরে এলো। ঢালা হলো পাওয়ার ওয়েল। মোটামুটি খুশি হলাম। আধা ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু ঠিকঠাক। বেশ কিছুটা ঝরঝরে ঠেকছিল। গাড়িতে উঠলাম। স্টার্ট করতেই দেখা গেল গাড়ি এগোয় না। নেমে দেখলাম দুই লিটার পাওয়ার ওয়েল যে ঢালা হয়েছিল তা পুরোটাই পড়ে গেছে। ড্রাইভার বুলবুল ৮-১০ বছর আগে ছোট থাকতে বাড়িঘরের এটা ওটা দেখাশোনা করত। এখন চালক। কিছুদিন থেকে গাড়ি চালায়। জিজ্ঞেস করেছিলাম, লাইসেন্স আছে। বলেছিল, ‘আছে। তবে দুই নম্বর।’ সঙ্গে সঙ্গে বলেছি, আসল লাইসেন্স করে নিও। ইন্সপেক্টরকে বলে দেব। সেই বুলবুল গাড়ির নিচে গিয়ে বলল, ‘স্যার, পাওয়ারের পাইপ ফেটে গেছে।’ আমার সব ড্রাইভারই পাইলট। একটা স্ক্রু টাইট দিতে জানে না। দীর্ঘদিনের চালক যীশু গাড়ি চালায় পাইলটের মতো। কিন্তু কোনো নাট খুলতে পারে না, স্ক্রু ড্রাইভার-স্লাই-রেঞ্জ-প্লাস কোনো কিছু ধরার ক্ষমতা নেই। কোরআনে পড়েছিলাম, ‘আল্লাহ তোমাকে কোথা থেকে সাহায্য পাঠাবে তা তুমি জানো না।’ মনে হলো অনেকটা তেমনই। আমরা যখন টাঙ্গাইল থেকে রওনা হয়ে করাতিপাড়া তখন একটা চমৎকার ক্রাউন আমাদের পার করে যায়। একটু পর কখন আমরা পার হয়েছিলাম খেয়াল করিনি। আবার সেই একই গাড়ি কয়েকবার আগপিছ করেছে। চন্দ্রার কাছে মনে হচ্ছিল গাড়িটা আমাদের পিছে ফেলে চলে গেছে। কিন্তু হঠাৎই দেখি সেই গাড়ি সামনে দাঁড়িয়ে। বেশ ছিমছাম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী আতিকুর রহমান জনি। নেমেই জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে, কী করতে হবে, কোনো সাহায্য লাগবে কিনা।’ অবাক হয়ে তার কথা শুনছিলাম। নিজে থেকে কিছু বলবার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। প্রায় ৪-৫ মিনিট সে একাই বলে চলেছিল। তারপর যখন বললাম, পাওয়ারের পাইপ ফেটে গেছে, সেটা লাগাতে হবে। একজন মেকারের দরকার। সঙ্গে সঙ্গে ‘কোনো চিন্তা নেই। আমি এখনই ব্যবস্থা করছি।’ ফোনের পর ফোন শুরু করে দিল। দিনটা যে শুক্রবার। কোথাও কোনো লোক-লস্কর নেই। দোকানপাট বন্ধ। সেদিকে বেচারার কোনো খেয়াল নেই। এসব করতে করতে এক সময় বলল, ‘গাড়ি ঠিক করতে যতটা সময়ের দরকার চলুন সামনে গিয়ে বসবেন। আমাদের পাম্প আছে সেখানে বসতে পারেন। না হলে আশুলিয়ার অন্য কোনো জায়গায়।’ সহকারী আনিসকে রেখে ফরিদ আর আলমগীরকে নিয়ে উঠলাম গাড়িতে। ২২০০ বা ২৩০০ সিসি টয়োটা ক্রাউন খুবই ভালো গাড়ি। ডনের শো-রুম থেকে ১০-১৫ দিন আগে কিনেছে। ইপিজেড পার হতেই বলল, ‘বামে আমাদের বাড়ি। ২-৪ মিনিটের জন্য যদি যেতেন আমার খুব ভালো লাগত।’ গাড়িতে যখন উঠেছি তখন না বলি কী করে। রাজি হলাম। নিয়ে গেল তার বাড়ি। বাড়ি তো নয়, যেন রাজপ্রাসাদ। আশুলিয়ার শিল্প এলাকায় ২৫-৩০ বিঘার পুকুরসহ অমন প্রাসাদের মতো বাড়ি। গরুই আছে ২৫-৩০টা। বাড়িতে গিয়ে বসতেই কী খাওয়াবে তা নিয়ে উতলা। আমাদের খাবারের দরকার ছিল না। তারপরও ছোলা এবং চিকেন ফ্রাই নিয়ে এলো। জনির বাপ-মা বাড়ি ছিল না। মা অসুস্থ হয়ে মেয়ের বাড়ি। বাবা সিঙ্গাপুর নাকি মালয়েশিয়া বেড়াতে গেছে। বড় ভাই মারা গেছে। বিয়ে করেছিল টাঙ্গাইলের কাগমারা। আতিকুর রহমান জনির নানার বাড়ি দেলদুয়ারের সেহরাতৈল। বোনের বিয়ে হয়েছে দাপনাজোর। অল্প সময়ে ছেলেটিকে খুব ভালো লেগেছে। এখনো যে ধনীর ঘরে অমন সাদাসিধে ছেলে হয় ভাবনার বাইরে ছিল। যতক্ষণ ছিলাম বড় ভালো লেগেছে। আমাদের জন্য কিছু করতে পারলে যেন সে উতরে যায়। ঘণ্টাখানেক পর গাড়ি এলে আমরা চলে এলাম। ছেলেটির কেমন লেগেছে বলতে পারব না, আমাদের আসতে আসতে সারা পথে মনে হয়েছে যেন কোনো পরম আপনজনকে ছেড়ে এলাম। রাস্তা ফাঁকাই ছিল। কিন্তু আমিন বাজারের কাছে আসতেই সেই আগের মতো ইঞ্জিন সাই সাই করছিল, গিয়ার মিস করছিল। মিরপুর ব্রিজে উঠতেও অসুবিধা হচ্ছিল। সেতু পার হয়ে ঢালুতে আসার পর গাড়ি থেকে পোড়ার গন্ধ বের হচ্ছিল। কিন্তু গাড়ি এগোচ্ছিল না। বাসায় ফোন করে অন্য গাড়ি নিয়ে মিরপুর থেকে সেটাকে টেনে এনেছিলাম। আর বারে বারে মনে হচ্ছিল অসুবিধা যখন শুরু হয় তখন যেমন চারদিক থেকে শুরু হয়, তেমনি আল্লাহর তরফ থেকে সুবিধা যখন আসে তখন চারদিক থেকে আসে-এটাই চরম সত্য।

যে যাই বলুন ভাবীকাল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে প্রশ্নহীন বলবেন না। নানাভাবে প্রশ্ন আসবেই। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এখনই বলতে শুরু করেছে আমরা পাতানো বিরোধী দল নই। তা যাই বলুন ইতিহাসে দেখা যাবে নির্বাচনটা তারা একই জোটে ভাগাভাগি করে করেছেন। দেশের মানুষ নির্বাচন নিয়ে খুবই হতাশ। মানুষের সব আনন্দ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। নির্বাচন-পরবর্তী ৩ জানুয়ারি আমাদের বর্ধিত সভায় আলোচনায় দেখা গেছে দেশ সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারপর আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেত্রী। হয়তো আজ গরমে গরমে অনেক কিছু মানবেন না বা স্বীকার করবেন না। তাতে কোনোভাবেই সত্য অসত্য হবে না। ২ ফেব্রুয়ারি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই নির্বাচন কমিশন অথবা দলীয় সরকারের অধীন আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গেলেও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ নিয়ে যাবে না। ওরকম নাটকে আমরা অংশ নিতে চাই না। সেই সভাতেই আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশেষ করে গণফোরামের দুই প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মো. মোকাব্বির শপথ নেবেন কি নেবেন না, সংসদে অংশগ্রহণ করে সংসদকে আলোকিত করবেন কিনা। আসলে আমরা ইদানীং জনমতের তোয়াক্কা করি না, জনগণকে খুব একটা গোনতায় ধরি না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। তাই ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থীর সংসদে যাওয়ার সুযোগ কোথায়? জনাব মোকাব্বির ড. কামাল হোসেনের অনুরক্ত ভক্ত। ড. কামাল হোসেনের প্রতি তার বিশ্বস্ততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আদৌ গণফোরামের কর্মী নয়। এক সময় তিনি ছিলেন জেলার ছাত্রকর্মী। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে আমার সাথী হয়েছিলেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি, ছাত্রলীগ সভাপতি এসব দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার আছে। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ওঠাবসা করেছে। এবার গণফোরামের পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এমন অভাবনীয় নির্বাচন কেউ দেখেনি। সুলতান এবং মোকাব্বির শপথ নিলে সংসদ খুব একটা উজ্জ্বল হবে তেমন নয়। এই দুজন সদস্য শপথ নিলে যে তারা জাতীয় হিরো হবেন তেমন নয়, বিপরীত কিছুও হতে পারেন। মো. মোকাব্বির সম্পর্কে বলতে পারি, তিনি শপথ নেবেন না, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন না। জনাব সুলতান ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ প্রতিরোধে অংশ নিয়ে যে সুনাম অর্জন করেছিলেন তা বদনামে পর্যবষিত করবেন কিনা সেটা তাকেই ঠিক করতে হবে। কারও কথায় সাময়িক সুবিধার জন্য কেউ কাউকে ধ্বংস করলে সে থেকে ফেরাবার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো ঠিকা নেয়নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাজ প্রধানত দেশের মানুষের সেবা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলে দেশবাসীর মালিকানা ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। লেখক : রাজনীতিক।

-বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

 

 

০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৭:১৮:০৯