ফেসবুকের পাতা থেকে
বিএনপি-কাক ও আওয়ামী-শৃগালের গল্পঃ নাবালকের জন্যে শিক্ষা কী?
মাসুদ রানা
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়াতঃ প্রেসিডেণ্ট জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বিএনপির অতীত কর্মের প্রশংসা করাতে দলটি "আশাবাদী" হয়ে উঠেছে। খবরটি পত্রিকান্তরে পড়ে আমার শৈশবে পড়া কাক ও শৃগালের গল্পটা মনে পড়ে গেলো।

এক বালকের হাত থেকে ছোঁ মেরে এক টুকরো মাংস নিয়ে একটি কাক বসে ছিলো গাছের ডালে। ধূর্ত শৃগাল তা লক্ষ করে ভাবলো কীভাবে ঐ মাংসের টুকরোটি কুক্ষিগত করা যায়।

যদিও শৃগালটি কাককে ভালো করেই চিনে, তবুও সে তার রূপের প্রশংসা করলো। বললো, "যে-পাখীর রূপ এতো সুন্দর, তার কণ্ঠের গান কতোই না মধুর হবে; আহা, যদি শুনতাম!"

বোকা কাক মুগ্ধ হয়ে কর্কশ কণ্ঠে যেই না 'কা-কা' করে ডেকে উঠলো, সাথে-সাথে তার ঠোঁটস্থ মাংসের টুকরোটি মাটিতে পড়লো এবং সাথে-সাথে শিয়ালটি কাল বিলম্ব না করে সেটি উদরস্থ করে কাকের গান না শুনেই প্রস্থান করলো। বলাই বাহুল্য, কাকটির কা-কা সঙ্গীত দ্রুতই কা-কা কান্নায় রূপ লাভ করলো।

আমার শৈশবে পড়া এই গল্পের মৌর‍্যাল বা নৈতিক শিক্ষা ছিলোঃ "দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় কখনও ভুলিতে নাই।" নিঃসন্দেহে এটি কাকের জন্যে একটি জরুরি শিক্ষা বটে, যদিও মানুষেরও এতে শিক্ষার আছে।

কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই প্রদত্ত পাঠের বাইরে ভাবনা ও প্রশ্ন করার একটি অভ্যাস আমার ছিলো। তাই, আমি ভাবতাম সেই ছেলেটির কথা, যার হাত থেকে মাংসের টুকরোটা প্রথমেই ছিনতাই হয়ে গিয়েছিলো।

আমি ভাবতামঃ ছেলেটিতো মিষ্ট কথায় মাংস ছেড়ে দেয়নি; তার হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তো, যার হাতের খাবার কেড়ে নেওয়া হয়, তার জন্যে জন্যে কী নৈতিক শিক্ষা দিলো গল্পটি? এই গল্পটিতো ছিনতাকারী কাকের জন্যে লেখা। এতে হতভাগ্য বালকের কী লাভ?

বাংলাদেশের জনগণ হচ্ছে সেই বালক - সম্ভবতঃ নাবালক - যে তার হাতের মাংসের টুকরো হারিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছে সেটি কাক ও শিয়ালের মধ্যে কে পেলো।

১৫/১০/২০১৭

লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

 

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:০৬:৪১