জেল খাটে-ঝুঁকি নেন কর্মীরা, মনোনয়ন পান কাউয়ারা
পীর হাবিবুর রহমান
অ+ অ-প্রিন্ট
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে ২০০৮ সালে নৌকার গণজোয়ারের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ। অনেক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে নূর মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠতা।

একজন তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীর চরিত্র যেমন রয়েছে তার— তেমনি নিরাবরণ, সহজ, সরল মন ও জীবন সবাইকে আকৃষ্ট করে। তার সরলতার জন্য সবাই তাকে ভালোবাসেন।   আড্ডায় বসলে নূর মোহাম্মদের নানামুখী বিষয় নিয়ে দিলখোলা কথাবার্তা আসর জমিয়ে দেয়। কদিন আগে ঢাকা ক্লাবের এক আড্ডায় আলোচনা হচ্ছিল, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘিরে দলের বিদ্রোহ কীভাবে প্রতিরোধ করবে? কীভাবে তৃণমূলে মনোনয়ন লড়াইয়ে যুক্ত আওয়ামী লীগকে একক প্রার্থীর পেছনে প্রতিটি আসনে নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করবে? সাদামাটা নূর মোহাম্মদের সহজ সরল স্বীকারোক্তি রসিকতার ছলে করলেও কথাটি আমার কানে বাজছে। নূর মোহাম্মদ হাসতে হাসতে বলছিলেন, একেকটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের অনেক শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। জনপ্রিয়তায়ও তারা কোনো অংশে কম নন। কিন্তু সেসব আসনে প্রতিটি নির্বাচনে একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হয় আর নেতা-কর্মীরা পরিশ্রম করে নৌকার জোরে তাকে জিতিয়ে দেন। এতে একজনই বার বার এমপি হন। বাকিদের আর মনোনয়ন লাভের সুযোগ হয় না।

একদিন বয়স বা অন্য কোনো কারণে সেই এমপির মৃত্যু হলে দেখা যায় তার স্ত্রী বা সন্তান মনোনয়ন পান। এতে যারা দিনের পর দিন দল করেন, কষ্ট করেন, সংগঠনকে সময় দেন, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন; মনোনয়ন যুদ্ধে তাদেরই বঞ্চিত হতে হয়। এমপি হলেই নেতারা নিজের, পরিবারের বা আত্মীয়স্বজনদের এমনকি বিশ্বস্ত কর্মীদের ভাগ্য বদলে দিয়ে আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি বিত্তবৈভব ও সম্পদের মালিক হন। অনেকের এমপি হওয়ার আগে যে অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল, এমপি হওয়ার পর দেখা যায় সেটি কাটিয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর তারা দাঁড়িয়ে গেছেন।

নানা মহলের এ সমালোচনা আড্ডার টেবিলে ঠাঁই পেলে নূর মোহাম্মদ আবারও রসিকতার ছলে বললেন, ‘ধরেন, আপনারা যে কথা বলছেন, সেটিও যদি সত্যি হয় তাহলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নদানের সময় প্রতিটি আসনে বিকল্প, শক্তিশালী নতুন প্রার্থীর সন্ধান করে তাকেই নৌকা দেওয়া উচিত। কারণ নিজের ভাগ্যবদলই যদি হয় রাজনীতি, তাহলে দল একজনকে কেন বার বার ভাগ্যবদলের সুযোগ দেবে? দলে সবারই শ্রম আছে। সবারই মনোনয়ন পাওয়ার অধিকার আছে। একজন বার বার এমপি হয়ে নিজের ভাগ্য অনেক বদলেছেন, এবার নতুন কাউকে সেই ভাগ্য বদলের সুযোগ দেওয়া উচিত— এমন যুক্তিতে হলেও বিকল্প জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। আর যদি মনে করেন বার বার দলের এমপি হতে গিয়ে মানুষের কল্যাণে আত্মত্যাগ করতে করতে এমপিরা রিক্ত, নিঃস্ব হয়ে গেছেন তাহলেও তাদের আর নিঃস্ব হতে না দেওয়ার জন্য হলেও মনোনয়নে পরিবর্তন আনা জরুরি। এতে একজনকে নিঃস্ব হতে হলো না। আত্মত্যাগে সবাই সুযোগ পেল।

দলের প্রতি আনুগত্য রেখে পথচলা নূর মোহাম্মদরা সংগঠনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করেন। আমি শুধু একটি নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীর কথাই বললাম। সারা দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ, গ্রহণযোগ্য দলীয় প্রার্থী রয়েছেন; যারা বার বার নির্বাচন এলে দলীয় নেতৃত্বের আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন। অনেক নির্বাচনী এলাকায় সৎ, আদর্শবান নেতা-কর্মী আছেন যারা দলের নেত্রী ও আদর্শের প্রতি অনুগত। কোনো সিন্ডিকেটে তাদের সম্পর্ক নেই।

বেশ কিছু দিন আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার স্বভাবসুলভ রসিকতায় বলেছিলেন, এখন রাজনীতি করতে হলে ‘এমএমবি’ থাকতে হবে। অর্থাৎ মানি, মাসল এবং ব্লেসিং থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সময় ছিল ’৭৫-উত্তর। সেই সময় থেকে প্রতিটি দুঃসময়ে নিরন্তর দল ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে খেয়ে না খেয়ে পথহাঁটা অসংখ্য নেতা-কর্মী পোড়খাওয়া রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিতর দিয়ে নিজেদের তৈরি করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো ’৯০-উত্তর গণতন্ত্রের সূচনায় ১৯৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখায় ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু পঁচাত্তরের পর ও নব্বইয়ে ভূমিকা রাখা স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অসংখ্য পরিচিত মুখ ছাত্রলীগের নেতারা এখনো দলীয় মনোনয়ন লাভ করতে পারেননি।

রাজনীতিতে টাকা, পেশিশক্তি ও চাটুকারিতার যে আস্ফাালন দেখা দিয়েছে সেখানে আদর্শিক রাজনীতির পথহাঁটা নেতা-কর্মীরা পেছনে পড়ছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আরেকটি বিষয় বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ইমেজের ওপর ভর করে ৫০ বছর আগে কে এমপি হয়েছিলেন, হঠাৎ করে এত বছর ধরে তৈরি নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে তাদের সন্তানদের নেতৃত্ব ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। আরেকটি হলো কোনো এমপি, মন্ত্রী, নেতা মারা গেলে বছরের পর বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দলের নেতা-কর্মীদের বুক দিয়ে আগলে রাখা সংগঠকরা মনোনয়ন পান না। আবেগের তরীতে তুলে আনা হয় তাদের স্ত্রী, পুত্র বা কন্যাদের। এখানে যোগ্যতার চেয়ে পরিবারতন্ত্র বড় হয়ে দেখা দেয়।

ঝুঁকি নেন, শ্রম দেন, জেল খাটেন কর্মীরা আর মনোনয়ন নেন উড়ে আসা বিত্তশালী, পেশিশক্তি বা করুণাশ্রিতরা। এতে করে দলীয় নেতাদের ভাষায় হাইব্রিড, কাউয়ারাই উঠে আসে। নিদারুণ অবহেলায় পড়ে থাকেন কর্মীরা। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ অনেক নেতা তৈরি করেছে। নিরন্তর সংগ্রাম ও সংগঠকের ভূমিকায় তারা পথ চলছেন। তাদের কতজন মনোনয়ন পেয়েছেন এ পর্যন্ত?

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইঙ্গিত করেছেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে গ্রহণযোগ্য। জনমত জরিপে যারা এগিয়ে থাকবেন তারাই মনোনয়ন পাবেন। বিগত ইউপি নির্বাচন ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন দলকে তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্ত করেছে। ইউপি নির্বাচনে জেলায় জেলায় মনোনয়ন বাণিজ্য দলের ভিতরে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের চার-পাঁচজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী এখন মুখোমুখি। অনেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা-কর্মীরাও পড়ে আছেন।

নূর মোহাম্মদের মতো অসংখ্য নেতা-কর্মী প্রতি নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের বিবেচনা করবেন নাকি মনোনয়ন না দিলেও সন্তুষ্ট করে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোটযুদ্ধে কাজে লাগাবেন, সেটি নির্ভর করছে বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। বঙ্গবন্ধুকন্যা পারেন সারা দেশের নূর মোহাম্মদদের ডেকে কথা বলতে। সেই সঙ্গে জনমত জরিপ নিয়ে সংসদকে তার মর্যাদার আসনে নিয়ে আসার জন্য শিক্ষিত, মেধাবী আইনপ্রণেতা তুলে আনতে দল ও ক্ষমতানির্ভর সিন্ডিকেটের বাইরে পড়ে থাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিবেচনা করতে।

মিয়ানমার সামরিক জান্তার গণহত্যার মুখে জীবন নিয়ে পালিয়ে প্রায় নয় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ। যখন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমার শাসকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; আজীবন গণতন্ত্রের সংগ্রামী, নির্যাতিত, নিপীড়িত নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সু চির সব অর্জন রোহিঙ্গাদের রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। ঠিক তখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গোটা বাংলাদেশ মানবতার হূদয় নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো দিন-রাত পরিশ্রম করছে তাদের সেবায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের শুধু আশ্রয়ই দেননি, শরণার্থী শিবির ঘুরে তাদের মমতায় জড়াননি; বিশ্বদরবারে জনমত গড়ে তুলতে, মিয়ানমার শাসকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। গলব্লাডার অপারেশনের জন্য এখনো তিনি দেশের বাইরে। কিন্তু ফাইলওয়ার্ক, দেশের পরিস্থিতি তার নখদর্পণে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা মহাআনন্দযজ্ঞে উৎসবের বন্যায় বর্ণাঢ্যরূপে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সফল হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের জন্ম ও তার সংগ্রামে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধ লড়াই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে। একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত আদর্শ। এখানে সব ধর্ম, বর্ণের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন— এটাই সাংবিধানিক অধিকার। আর আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতির আত্মার বন্ধন নিয়ে পথচলা।

সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য কখনো-সখনো সমাজের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা মতলববাজদের কারণে হোঁচট খেয়েছে। সেটি সবার জন্য লজ্জা ও বেদনার। আমরা সেই লজ্জা ও বেদনার পথে হাঁটতে নারাজ। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, ধর্মান্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে কাউকে দেখা বা বিচার করা নয়, জাতিগত অবস্থান থেকে আমরা সবাই এক রাষ্ট্রের নাগরিক। আমরা মানুষ, আমরা মানবতার পক্ষে মানবিক শক্তি। দানব শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। এ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার কৃতিত্ব জাতি হিসেবে আমাদেরই বড় করেছে। সব ধর্মের নাগরিকই তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে ধর্মীয় রীতিনীতি স্বাধীনভাবে পালন করবেন। ধর্মীয়ভাবে তাদের বিচারের জায়গা নিজস্ব সৃষ্টিকর্তার ওপর। এক ধর্মের মানুষের ওপর আরেক ধর্মের মানুষের বল প্রয়োগ সংবিধান, আইন, ধর্ম কোনোটাই অনুমতি দেয় না।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ, রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে চাপা পড়ে গেছে। মাঝখানে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মতবিরোধ যে ঝড় বইছিল, সেটিও তলানিতে পড়ে ছিল। হঠাৎ করে সোমবার প্রধান বিচারপতির অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটির আবেদন এবং তার বাসভবনে সন্ধ্যা নামতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আইনজীবীরা দেখা করতে গেলে তিনি সাক্ষাৎ দেননি। গেট থেকেই তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির গতিপথ কী হবে তা এখনো দৃশ্যমান নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকেই লন্ডনে সন্তানের সঙ্গে রয়েছেন। কবে ফিরবেন, কেউ জানেন না। বিএনপির রাজনীতি চলছে বিবৃতি, বক্তৃতায়। আওয়ামী লীগের রাজনীতি চলছে ত্রাণের কাফেলায়। বিকল্প জোট গড়তে ছোট দলের বড় নেতারা ড্রয়িংরুম বৈঠক ও নৈশভোজেই বন্দী। এক ধরনের ভাপসা গরম বাইরে, শরতের কাশবন ফুটেছে দিকে দিকে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কী এক গুমোট হাওয়া টের পাচ্ছেন। ভোটের রাজনীতির দুয়ার, সংসদীয় গণতন্ত্রের দরজাকে প্রশস্ত করলেই এটি কেটে যাবে। সেই দরজা প্রশস্ত করতে হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অনিবার্য। কিন্তু সেটি আদৌ ঘটবে কিনা তার আলামত দেখা যাচ্ছে না। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির ভবিষ্যৎ কী হবে এখনো তা অন্ধকারে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ জীবনের শেষ নির্বাচনী লড়াইয়ে স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিতর্কের মুখে, দুর্নীতির অভিযোগে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম থেকে সিভিল সোসাইটি বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জায়গায় অনড় ছিলেন। পরিষ্কার বলেছিলেন, কোনো দুর্নীতি হয়নি। কানাডার আদালতের রায় শেখ হাসিনার পক্ষে গেলে আমরা সেদিন যারা সমালোচনামুখর হয়েছিলাম তাদের সবার মুখে চুন পড়েছে। সবাই সেদিন বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া পদ্মা সেতুর কাজ সম্ভব নয়, সেদিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করব। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে, তার মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ পৃথিবীর সামনে দৃশ্যমান করেছেন। এটি শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রতি কোনো স্তুতিবাক্য নয়, নির্মোহ সত্যকে স্বীকার করে নেওয়া। আমরা সেদিন পদ্মা সেতু চেয়েছি, আমরা উন্নয়ন চেয়েছি, চেয়েছি দেশ এগিয়ে যাক। দেশের ওপর কলঙ্কের অভিযোগ আসায় আমরা আর্তনাদ করেছি।   আমাদের আশঙ্কা, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।   শেখ হাসিনার কথাই সত্য হয়েছে।

জাতি হিসেবে আমরাই বড় হয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন, দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে আমাদের তিনি মুক্তই করেননি, পদ্মা সেতুকেও দৃশ্যমান করেছেন। তিনি ঠিকই বলেছেন, আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা পারি।   আমরাও মেনে নিয়েছি, আপনিই পারেন— একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ আমাদের প্রত্যাশা। আর আওয়ামী লীগের আসনভিত্তিক একক প্রার্থী দলীয় ঐক্যের ওপর মনোনয়ন দিতে।   প্রতি আসনজুড়ে থাকা নূর মোহাম্মদদের ডাকুন। কোথায় কাকে মনোনয়ন দেবেন তার নাম বলে বাকিদের বলে দিন। আপনার আনুগত্যের বাইরে কেউ নয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

-বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

০৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:২৪:৩৭