একাত্তরের ঝর্নাতলায়
এনার্কির কাছে ‘সারেন্ডার’ করা হল কি?
মহিউদ্দিন আহমদ
অ+ অ-প্রিন্ট
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার যৌথ প্রযোজনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ ‘সড়ক পরিবহনে এনার্কি’ নামের যে নাটকের মঞ্চায়ন আমরা সারা দেশে দেখলাম, তার প্রত্যক্ষ ‘ভিকটিম’ হিসেবে আমার স্ত্রী বিলকিস এবং আমার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞার বর্ণনা দিতে মূলত এ লেখাটির অবতারণা।

উজ্জ্বল দাস নামের আট-দশ বছর ধরে লন্ডনে বসবাসরত এক সিলেটি, মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশীদের সরাসরি এবং কখনও কখনও পরোক্ষ ভূমিকার কিছুটা ইতিহাস ওই সময়কার কতগুলো স্থির চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টার দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানে আমাকেও দাওয়াত করে। প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের দুই কৃতী সন্তান- জাকারিয়া খান চৌধুরী এবং প্রফেসর কবীর চৌধুরী। জাকারিয়া ভাইয়ের বয়স এখন আশি-বিরাশি হবে; কিন্তু এখনও সচল ও সক্রিয়। একাত্তরে লন্ডনে ছিলেন। তার অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে তিনি এখন দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রকাশক। আর প্রফেসর কবীর চৌধুরী ছিলেন যুক্তরাজ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সামনের কাতারের একজন। এখন তিনি সিলেটেই থাকেন, লেখাপড়ার বিস্তারে তার অবদান এখন সসম্মানে আলোচিত হয়।

২৬ তারিখে যাওয়ার দিন ‘জয়ন্তিকা’ ট্রেন দেরি করে বিমানবন্দর স্টেশনে এলো এবং আরও দেরি করে পৌঁছাল সিলেটে। তাতে তেমন কষ্ট হয়নি। সবুজ বাংলা এবং তার মনোমুগ্ধকর বিচিত্ররূপ দেখতে দেখতে গিয়েছি জাকারিয়া ভাইসহ আমরা চারজন। আমি প্রায় ১৭ বছর পর সিলেট যাচ্ছি; হযরত শাহজালাল এবং শাহ পরানের মাজার দুটিও জেয়ারত করতে পারব, সিলেট সফরে এই আগ্রহটাও আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।

কিন্তু আমাদের ফেরার দিন ১ মার্চ ভীষণ শংকা ও সংকটে কাটল। সেদিন সন্ধ্যায় গুলশানে আমাদের ‘লন্ডন ৭১’-এর এক বন্ধু মফিজ চৌধুরী মঞ্জুর বাসায় লন্ডন থেকে আগত ‘লন্ডন ৭১’-এর আরেক বন্ধু নজরুল ইসলাম আলোর সম্মানে একটি সম্মিলনীর আয়োজন করে। ওখানে আরও থাকবেন ‘ফজির সমিতি’ নামে পরিচিত এই ‘লন্ডন ৭১’-এর বন্ধুদের মধ্যে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, ‘লন্ডন ৭১’-এর ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক এজেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু. ডা. মোশাররফ হোসেন জোয়ারদার, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ৭১-এর ৪ আগস্ট পদত্যাগকারী আমার মতোই তখন আরেক বাঙালি সেকেন্ড সেক্রেটারি লুৎফুল মতিন। নজরুল ৩ তারিখ সকালে লন্ডনে ফিরে যাবে, তাই তাকে নিয়ে একত্রিত হওয়ার এবারের জন্য এটাই আমাদের শেষ সুযোগ। মজিদ চৌধুরী মঞ্জু যখন ১ তারিখ সন্ধ্যায় দিন-তারিখ-সময় ঠিক করে, তখন আমার সময়-সুবিধা তিনি প্রথমে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। আমার জন্য এই বিশেষ সম্মান- ‘ফজির সমিতি’র অন্য প্রায় সবার চেয়ে আমার বয়স বেশি, এখন ৭৫।

তাই একটু আগে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমাদের ঢাকা ফেরার বাধ্যবাধকতা ছিল। সিলেটের আয়োজকরা বললেন, সমস্যা নেই; বাসে গেলে ৬টার মধ্যে পৌঁছা যাবে। তবে ‘এনা’ বাসে যাওয়া ঠিক হবে না। এ বাসের ড্রাইভারগুলো বেপরোয়া গাড়ি চালায়। ‘গ্রিন লাইন’ ভালো, ‘ইউনিক’ ভালো; কিন্তু কোনোটাই উত্তরা হয়ে ঢাকা যায় না। জাকারিয়া ভাই ’৭১-এ লন্ডনেও ‘গার্ডিয়ান’ ছিলেন, বাংলাদেশেও তাই। ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বটা যাত্রার শুরু থেকেই তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এবারও তাই করলেন, বললেন, যে বাসেই যাই না কেন, উত্তরার বাসায় তার গাড়ি আমাদের পৌঁছে দেবে। এমনটি না হলে নেতা?

কিন্তু জাকারিয়া ভাইয়ের বিপরীতে শ্রমিক নেতা শাজাহান খান! তার বাস শ্রমিক যে সিলেট থেকে কোনো বাসকে ঢাকা আসতে দিচ্ছে না। নো এনা; নো ইউনিক; নো গ্রিন লাইন। সায়দাবাদ, উত্তরা তো পরের কথা। সিলেট ছাড়ি কীভাবে।

গভীর রাতে দেনদরবার করে আয়োজকরা আমাদের চারজনের জন্য জয়ন্তিকাতে ৪টি সিট জোগাড় করল; ট্রেন সিলেট ছাড়বে সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে। কিন্তু সিলেটের রায়নগর রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের গেস্ট হাউস থেকে রেলস্টেশন যাব কী করে অত সকালে। সিএনজিকেও চলতে দিচ্ছে না শাজাহান খানের সেনারা। সুতরাং বিকল্প রিকশা। ভোর সাড়ে ৬টা থেকে আমাদের চারজনের জন্য তিনটি রিকশা খাড়া করে রাখা হল গেস্ট হাউসে। ৭টার সময় রওনা হয়ে রেলস্টেশনে ৮টায়। যথাসময়ে ট্রেনও ছাড়ল।

দুই ঘণ্টা দেরিতে বিকাল ৬টায় বিমানবন্দর রেলস্টেশনে; কিন্তু তিক্ত অভিজ্ঞতার ‘ক্লাইম্যাক্স’ এখনও বাকি।

আমরা দু’জন- বিলকিস এবং আমি- গাড়ি থেকে নামতেই পারলাম না। প্লাটফর্মে অপেক্ষারত বন্ধু আমিনুল ইসলাম বেদুর ড্রাইভার চান মিয়া এবং আমাদের শিউলীতলার কেয়ারটেকার ওয়াহাবকে জানালার কাচ তুলে ফাঁক দিয়ে আমাদের দু’জনের বাক্স-পেটরা দুটো তুলে দিতে পারলাম; কিন্তু ধর্মঘটের কারণে যে শত শত যাত্রী এই বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কমলাপুর স্টেশনে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল, ট্রেন থামতেই তারা হুড়মুড় করে এমনভাবে উঠল যে ট্রেনের দরজা পর্যন্ত যাওয়াই আর সম্ভব হল না। ইতিমধ্যে গাড়িও ছেড়ে দিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যাত্রী ওঠানামার জন্য যে আরও বেশি কিছু সময় দেয়া দরকার, তা ট্রেনের গার্ড বা চালক কারও বিবেচনায় ছিল না।

সুতরাং আমরা কমলাপুরে শেষ স্টেশনেই গেলাম। ওখানে নেমে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম। গাড়ি এলো সাড়ে ৭টায়, সেই গাড়িতে উত্তরার বাসায় ফিরলাম ৯টায়, ক্লান্ত, শ্রান্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায়।

গুলশানে মজিদ চৌধুরী মঞ্জুকে আমিই সময় দিলেছিলাম; কিন্তু আমিই যেতে পারলাম না। তখন আর যাওয়ার অবস্থায়ও ছিলাম না। বাসের কারণে আমাদের অভিজ্ঞতাটা খুব কষ্টের ছিল। কিন্তু আরও লাখ লাখ ভিকটিমের তুলনায় তেমন কিছু নয়।

দুই.

এ দেশের লাখ লাখ মানুষকে এই দু’দিন আরও অনেক বেশি তিক্ত অভিজ্ঞতার মখোমুখি হতে হয়েছে- গুরুতর অসুস্থ রোগী হাসপাতাল, ক্লিনিকে যেতে পারেনি, যারা অ্যাম্বুলেন্সে করে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বাধা দেয়া হয়েছে, কোলে শিশু নিয়ে মায়েদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়েছে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্যও শ্রমিকদের কোনো ছাড় ছিল না।

বাস-হেলপাররা তাদের ড্রাইভারদের ‘ওস্তাদ’ ডেকে থাকে। বাস-ট্রাক শ্রমিক এবং তাদের মালিকদের ‘ওস্তাদ’ শাজাহান খান ও রাঙ্গাকে গত পনেরো বছর ধরেই দেখে আসছি, যে যাত্রীদের নিয়ে তাদের ব্যবসা তাদের প্রতি কেবল ‘কনটেম্পট’ দেখিয়ে আসছেন। একটি কথা এই দু’জনকে টিভি ও পত্রপত্রিকায় বলতে দেখেছি, তারা বাস-ট্রাক-শ্রমিকদের প্রথম দিনের পর প্রায় মানিয়ে এনেছিলেন; কিন্তু সভা চলাকালে যখন আর এক বাস ড্রাইভারের মৃত্যুদণ্ডের খবর শ্রমিক নেতারা জানতে পারল তখন আর তাদের মানানো যায়নি।

কথা হচ্ছে, তাদের যদি আত্মসম্মানবোধ থাকত, তারা পদত্যাগ করতেন। প্রকৃত ভদ্রলোক হলে তা-ই করা হয়। শ্রমিকদের মানাতে পারছেন না, তারপরও কোন শক্তিতে কার শক্তিতে নেতা থেকে যাচ্ছেন? নেতা পদে যে আছেন, সর্বশেষ কখন নির্বাচিত হয়েছেন?

যাত্রীদের দুঃখকষ্ট দেখবেন না, আদালতের রায়ও মানবেন না, এত শক্তিশালী খান-রাঙ্গারা? আদালতের রায় মানবে না শ্রমিক এবং তাদের নেতারা। ঠিক আছে, কোনো দুর্ঘটনার পর বাস ড্রাইভার ও হেলপারদের পুলিশও কোনো ‘প্রটেকশন’ দেবে না, তাহলে কেমন হয়? জনরোষে একজন বাস ড্রাইভার বা হেলপারও কি তাহলে প্রাণ নিয়ে বাসাবাড়িতে ফিরে যেতে পারবে? বিচার তো তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তাঘাটের মানুষজনই করে ফেলবে। যে পুলিশের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সেই পুলিশই এই উচ্ছৃংখল বাস ড্রাইভারদের তখন বাঁচায়।

একটি কথা শ্রমিকদের এতসব এনার্কিতেও কাউকে বলতে দেখি না, কোনো আলোচনা অনুষ্ঠানেও শুনিনি। বাস ড্রাইভার এবং হেলপারদের জন্য যদি ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হয়, সেটা কেমন হবে? এমন ইউনিফর্ম তো এখন উন্নত বাসগুলোর ড্রাইভার ও সুপারভাইজারদের পরতে দেখি। দেখি সিএনজি ড্রাইভারদেরও পরতে; কিন্তু সাধারণ ‘চিটিং সার্ভিস’ জাতের বাসগুলোতে নেই কেন? নেই, কারণ তাহলে দুর্ঘটনার পর দায়ী ড্রাইভার-হেলপারদের শনাক্ত করা সহজ হয়ে পড়বে; আর সহজতর হবে তাৎক্ষণিক সামারি বিচার সম্পাদন। শাজাহান খান সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের কার্যকরী সভাপতি ছাড়া বাস কোম্পানিরও মালিক। আর মশিউর রহমান রাঙ্গা তো বাস-মালিকদের সভাপতি। সুতরাং এই দু’জনের মালিকানায় যে বাসগুলো আছে সেগুলোর ড্রাইভার ও হেলপারদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ইউনিফর্ম প্রথম চালু করা হোক। এ ইস্যুতে এই দুই নেতার মতামত জানতে চাই।

শাজাহান খান এবং মশিউর রহমান রাঙ্গাদের ঔদ্ধত্য, স্পর্ধা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই দু’জনের প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতার বিরক্তির খবরও আছে। আগে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সড়ক পরিবহন এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মুখ্য দায়িত্বে আছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সড়ক শ্রমিকদের ‘এনার্কি’কে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী শাজাহান খান এবং মশিউর রহমান রাঙ্গার গণবিরোধী ভূমিকাকে নিন্দা করেননি। এখন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েও যদি তাদেরই মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রীকে সামাল দিতে না পারেন, তাদের উচ্ছৃংখল আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, তাহলে তা তার চরম ব্যর্থতা। সাধারণ মানুষের প্রকাশ্যে ক্ষোভ-দুঃখ প্রকাশের প্রত্যাশিত সুযোগ এখন না থাকলেও এসব মন্ত্রী-নেতা যদি সোশ্যাল মিডিয়াতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়ার ঝড় চলেছে তা দেখতেন, তাহলে জনমতকে এমন প্রকাশ্যে উপেক্ষা করার আগে তারা বারবার চিন্তা করতেন। আমার ধারণা, তারা এসব মন্তব্য দেখেন না। না দেখাটাও এক এক ধরনের ‘ব্লিস’ (bliss)।

আইনমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী এবং শাজাহান খানের একটি বক্তব্যে আমার উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখাটি শেষ করছি। এই তিনজন আলাদা আলাদাভাবে এবং পরে যৌথভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ড্রাইভার দু’জনকে আইনি সহায়তা দেয়া হবে। তো কী ধরনের আইনি সহায়তা আইনমন্ত্রী দেবেন বলে শাজাহান খানকে আশ্বস্ত করেছেন? সরকার নিয়োজিত আইনজীবীরাই কি এই আইনি সাহায্য দেবেন? এমন কোনো দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে যখন উচ্চতর আদালতে আপিল করা হয়, তখন সরকারি আইনজীবীরা দণ্ডাদেশ বহাল রাখার পক্ষে উচ্চতর আদালতে অবস্থান নেন; যুক্তি, তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন। এই ড্রাইভারদের ক্ষেত্রে উচ্চতর আদালতে আপিল শুনানির সময়ে সরকারি আইনজীবীরা কি দণ্ডাদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেবেন? নাকি, দণ্ডাদেশ বাতিল বা কমানোর পক্ষে যুক্তি-তর্ক তুলে ধরার জন্য আইনমন্ত্রী নির্দেশ দেবেন? বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। আমার আশংকাটা যদি সত্য হয় তাহলে তো এনার্কির কাছে আরেকবার ‘সারেন্ডার’ করা হল।

তিন.

অনেক বছর ধরেই দেখছি, শাজাহান খান পত্রপত্রিকা, টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলো তাকে নিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছে। শাজাহান খানের শ্রমিকরা আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে শক্তি জোগাবে, এমন ধারণা যদি আওয়ামী লীগ নেতারা করে থাকেন, আশংকা করি, তা এক গুরুতর ভুল হবে। জাসদ ব্যাকগ্রাউন্ডের এই লোক ২০০১ সালে বিএনপিতে প্রায় যোগ দিয়েই ফেলেছিলেন, শুনেছি, আওয়ামী লীগের নমিনেশনের প্রলোভন তাকে ফিরিয়ে আনে। তারপর শাজাহান খান এই প্রথমবারের মতো ‘উচ্ছৃংখলতা’ দেখালেন, তা তো নয়। তার কারণেই বিআরটিসির বাস চলতে পারে না নির্বিঘ্নে।

শাজাহান খানকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করলে জনদরদি সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগের ‘ইমেজ’ বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।

- যুগান্তর

‘শিউলীতলা’, উত্তরা, ঢাকা

মহিউদ্দিন আহমদ : সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; কলাম লেখক

১২ মার্চ, ২০১৭ ১৬:২৬:৫১