অর্ধ উলঙ্গ উন্নয়নের উল্লম্ফন!
গোলাম মাওলা রনি
অ+ অ-প্রিন্ট
আজকের নিবন্ধের শিরোনামের ধারণাটি পেয়েছি ড. আসিফ নজরুলের কাছে থেকে, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক এবং একই সাথে দেশের আলোচিত বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট ও টকশো ব্যক্তিত্বও বটে। তার সাথে সম্প্রতি একটি টকশোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। চ্যানেল আইর দর্শকনন্দিত টকশো ‘তৃতীয়মাত্রা’র উপস্থাপক জিল্লুর রহমান যখন সীমিত গণতন্ত্র এবং ব্যাপক উন্নয়ন সম্পর্কে ড. আসিফ নজরুলের মতামত জানতে চান, তখন তিনি যা বললেন তার সারমর্ম দাঁড় করালে মোটামুটি একটি শিরোনাম এমন হয়ে যায়।

গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিহীন রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এ ধরনের উন্নয়নের সাথে আমার সেই অবস্থাকে তুলনা করা যাবে, যখন আমি শরীরের উপরিভাগে কোট-টাই-শার্ট, দামি হাতঘড়ি, ব্রেসলেট ইত্যাদি পরে স্মার্টলি ফিটবাবু হয়ে জনসমক্ষে উপস্থিত হবো কিন্তু নিম্নাংশে কোনো পরিধেয় অর্থাৎ অন্তর্বাস, প্যান্ট, মোজা কিংবা জুতা থাকবে না। আমার সেই অবস্থা দেখে যারা আমাকে স্মার্ট সুপুরুষ বলে হৈ-হুল্লোড় শুরু করবে তাদের মেধা, রুচি ও বুদ্ধি-শুদ্ধি নিয়ে কী রূপ সার্টিফিকেট দিলাম সেটা বিবেচ্য বিষয় হবে না; বরং ঘটনার প্রেক্ষাপট সাধারণ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ আমাকে এবং আমার সমর্থকদের নিয়ে কী বলেন সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

ড. আসিফ নজরুল কথাগুলো বলছিলেন সাদ্দাম হোসেন ও গাদ্দাফির শাসনামলের ইরাক ও লিবিয়ার কথিত উন্নয়নের প্রসঙ্গ বর্ণনা করতে গিয়ে। তিনি ইরাক ও লিবিয়ার প্রসঙ্গ তুলে মূলত কী বোঝাতে চেয়েছেন তা যেমন অনুষ্ঠানটির দর্শকশ্রোতা বুঝছিলেন, তেমনি আমিও বুঝেছিলাম। আর তাই আলোচনার প্রসঙ্গ পাল্টে আমরা অন্য দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এর মূল কারণ ছিল, একধরনের অজানা আশঙ্কা। বর্তমান জমানায় কখন কে কার উপকার করতে পারে, সেটা আর আলোচ্য বিষয় নয়। এ যুগে কে কার কত বড় ক্ষতি করতে পারে তা দিয়েই সামাজিক মানমর্যাদার এবং রাষ্ট্রীয় পদ-পদবির মূল্যায়ন করা হয়। ক্ষতির এই প্রবণতা এখন কেবল কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশ কিংবা যেকোনো শক্তিশালী পদ-পদবিধারী ব্যক্তি পৃথিবীর অন্য প্রান্তের ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরাইল, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, চীন প্রভৃতি দেশের শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অথবা ওসব দেশের মাফিয়া ডনেরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মুহূর্তে সর্বনাশ ঘটিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা-অভিজ্ঞতা ও কুখ্যাতি অর্জন করেছে তাতে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার প্রবণতা বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকের নিবন্ধের প্রসঙ্গ অবশ্য এগুলো নয়। সে দিনের টকশোতে আলোচনা করতে গিয়ে আলোচকেরা খোলামেলা এবং সত্য কথা বলতে যে দ্বিধাগ্রস্ততা এবং ভীতিকর আড়ষ্টতা দেখিয়েছিলেন তা বোঝানোর জন্যই কথাগুলো বললাম। এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।

অর্ধ উলঙ্গ উন্নয়নের উল্লম্ফন বলতে সাধারণত সেসব কর্মকে বুঝানো হয়- যার মাধ্যমে মস্তবড় কোনো অনিয়ম, দুর্বলতা, পাপ, অন্যায্য কর্ম অথবা কুৎসিৎ ও কদর্য কার্য বা আকাম-কুকামকে ঢেকে ফেলার চেষ্টাকালে অতিরিক্ত হাসিখুশি বা উল্লাস নৃত্যের কসরৎ করাকে বুঝায়। এ ধরনের নৃত্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, নৃত্যরত লোকজন এবং দর্শক-শ্রোতার চিন্তাচেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি, বোধবুদ্ধি এবং উপলব্ধির মধ্যে থাকে আকাশ পাতাল পার্থক্য। যারা নাচন-কুঁদন করতে গিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে নিজের বত্রিশটি দাঁত বের করেন, তারা একবারও ভাবেন না, তাদের ছলাকলা জনগণ বিশ্বাস করছেন না। অন্য দিকে, দুর্বার উল্লাসে উন্মত্ত হয়ে ওঠা নৃত্যপটীয়সীদের বিশাল দেহের শক্তিশালী হিংস্র প্রাণীর মতো নিষ্ঠুর ও নির্মম বলে মনে করার কারণে শান্তিপ্রিয় মানুষজন কোনো দিন আগ বাড়িয়ে বলতে যান না যে, নৃত্যরতদের নিম্নাংশে বস্ত্র নেই।

এখন প্রশ্ন হলো- মানুষ কেন অর্ধ উলঙ্গ হয়ে নৃত্য করার জন্য পাগলপারা হয়ে ওঠে? এ ব্যাপারে মহামতি সক্রেটিসের বাণী এবং হজরত আলী রা:-এর বাণীর সমন্বয় করে কিছু ঐতিহাসিক চরিত্র পর্যালোচনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। মহাজ্ঞানী সক্রেটিস বলেন, এমন একসময় আসবে যখন মূর্খরা তাদের মূর্খতা নিয়ে রীতিমতো গর্ব করবে এবং সেই দৃশ্য দেখার পর পণ্ডিতেরা তাদের পাণ্ডিত্য নিয়ে অনুশোচনা আরম্ভ করবে। মূর্খের মূর্খতার গর্ব এবং পণ্ডিতের পাণ্ডিত্যের অনুশোচনায় সমাজ যখন রসাতলে যেতে আরম্ভ করবে, তখন দুর্নীতিবাজেরা শুরু করবে প্রলয়ঙ্করী উল্লাসনৃত্য। দুর্নীতিবাজদের দাপটে সুনীতি পালিয়ে বন-জঙ্গলে চলে যাবে। সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতি হবে সফলতার মানদণ্ড। দুর্নীতিবাজেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় বড় পদ-পদবির মান-মর্যাদা নির্ধারণ করে দেবে।

সক্রেটিসের এই ভবিষ্যৎবাণীর মর্মার্থ অনুযায়ী, দুর্নীতিবাজেরা সমাজে সুনীতির শিক্ষক হিসেবে মানুষজনকে নীতিকথা শেখাবে। তাদের হাতেই থাকবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ। মানুষের খানা-খাদ্য, পোশাক-আশাক, স্বপ্ন-ভালোবাসা, বিচার-আচার, বিয়েশাদি, আনন্দ-উৎসব প্রভৃতির মানদণ্ড হয়ে পড়বে দুর্নীতি। দুর্নীতিবাজেরা হয়ে পড়বে সব কিছুর রোল মডেল। তাদের হেয়ার কাট, পোশাক, কথার স্টাইল এবং বাড়িঘরের মডেল অনুকরণের জন্য অন্যদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। দুর্নীতির প্রবল দাপটে মানুষের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যাবে। তাদের মৃত্যুভয়, সমাজে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়, আল্লাহভীতি দূর হয়ে যাবে। এ অবস্থায় দুর্নীতিকে অপছন্দ, পরিহার কিংবা দুর্নীতি প্রতিরোধ করার মতো কোনো প্রাণী অবশিষ্ট থাকবে না। সমাজে কেবল দুই শ্রেণীর অস্তিত্ব থাকবে- একদল দুর্নীতি করবে এবং দুর্নীতিকে ভালোবাসবে এবং অন্য দল দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের ভয় করবে; তোয়াজ করবে এবং সকাল সন্ধ্যায় তাদের প্রশংসা করবে।

দুর্নীতির জোয়ারে মানুষের নীতিবোধ ভেসে যাবে। একইভাবে মানুষের ধর্মবোধ, দয়ামায়া, স্নেহ-ভালোবাসা, পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মনোভাব, সুকুমারবৃত্তি, নির্মল আনন্দের অভিলাষ ইত্যাদিও দুর্নীতির বানের জলে অথৈ নোনা জলের সাগরে ভেসে যাবে। প্রতিবাদ করার ক্ষমতা মানুষের কাছ থেকে হস্তান্তরিত হয়ে বন্য জন্তুজানোয়ার, পাখ-পাখালি এবং আকাশের উল্কাপিণ্ড ও বজ্রপাতের কাছে চলে যাবে। প্রকৃতির আলো, বাতাস, আগুন, ভূমিকম্প, ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি বিধাতাপ্রদত্ত উপকরণ নিরীহ মানুষের রক্ষাকবচ এবং দুর্নীতিবাজদের জন্য যম হিসেবে আবির্ভূত হবে। মজলুমের কান্না, অসহায়ের হাহাকার, দুর্বলের আর্তনাদ এবং দরিদ্রদের ক্ষুধার কাতর আর্তি দুর্নীতিবাজদের কাছে সুমধুর সঙ্গীত বলে প্রতীয়মান হতে থাকবে।

এবার হজরত আলী রা:-এর একটি অমিয় বাণী নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক। মহামতি আলী রা: একটি সমাজের অধঃপতন বা রসাতলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন। তার মতে, সমাজের দরিদ্র মানুষেরা যখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, ধনীরা যখন কৃপণ হয়ে পড়ে এবং মূর্খরা যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে তখন ধরে নেয়া হয় যে, সমাজটি পচে গেছে এবং পতনের অতলান্তে পৌঁছে গেছে। এ অবস্থায় যা হওয়ার তা-ই হয়। অর্থাৎ উঁচু স্থান থেকে কোনো জিনিস পড়ে গেলে সেটি যদি জীবন্ত হয় তবে তা মরে যায় এবং যদি ভঙ্গুর হয় তবে তা ভেঙে চুরমার বা খানখান হয়ে যায়। রসাতলে যাওয়া সমাজ ভেঙে পড়ে এবং তা আর মেরামতের পর্যায়ে থাকে না। এ ক্ষেত্রে সব কিছু নতুন করে গড়তে হয়।

আপনি যদি হজরত আলী রা:-এর বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করতে চান তবে প্রথমেই দরিদ্র মানুষের স্বাভাবিক চরিত্র সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তারা হয় প্রচণ্ড পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল। সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের অধীন থেকে দরিদ্ররা পরম ধৈর্য-সহ্য নিয়ে অবিরত জীবনসংগ্রাম করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করার জন্য নিরলস শ্রম করে যায়। তারা স্বভাবে খুবই বিনয়ী। তারা সব সময় ওয়াদা রক্ষা করে এবং তাদের সময়জ্ঞানও প্রবল। সূর্য উদিত হওয়ার আগে কাজে যোগ দেয় এবং অহেতুক কথাবার্তা, হা-পিত্যেশ কিংবা রাখ-ঢাক ছাড়াই তারা নীরবে নিজের কাজ করে যায়। কাজের আনন্দে তারা বিভোর হয়ে মাঝে মধ্যে সঙ্গীতে বিমগ্ন হয়ে পড়ে। আমাদের দেশের জারি-সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া প্রভৃতি গানের অনবদ্য সুর এবং ছন্দময় কথামালা শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রমের আনন্দের ফসল।

দরিদ্র মানুষেরা ধনীদেরকে সম্মান ও সমীহ করে। তারা কখনো মনে করে না যে, তাদের নিয়োগকর্তা তাদের শোষণ কিংবা বঞ্চিত করছে। স্বাভাবিক সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বক্ষেত্রে ধনীদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকে। তারা জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধনীদের রোল মডেল হিসেবে মেনে নেয় এবং নিজেরা চেষ্টা করে ধনীদের চিন্তা-চেতনা ও চরিত্র অনুসরণ করে জীবনমান পরিবর্তন করার জন্য। তারা নিজেদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা পরিজনদের কাছে ধনীদের জীবনযাত্রাকে রূপকথারূপে প্রচার করতে থাকে এবং শিশুদের মনে স্বপ্নের বীজ বপন করে দেয়।

রসাতলে যাওয়া সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধনীদের রক্তচোষা জোঁক, দুর্নীতিবাজ এবং চরিত্রহীন বলে মনে করে থাকে। তারা ধনিক সমাজে নিজেদের নিরাপদ মনে করে না। নিজেদের শ্রম, অর্থ, স্ত্রী-কন্যা ইত্যাদিকে ধনীদের কবল থেকে রক্ষার জন্য তারা সর্বদা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটায়। তারা ধনীদের বিশ্বাস করে না। কোনো কিছুর ওপর আস্থা রাখার মতো মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। রসাতলে যাওয়া সমাজের ধনবানদের দুর্নীতি, চরিত্রহীনতা, অশ্লীলতা, অধর্ম, অমানবিকতা, নির্মমতা, অত্যাচার ও অবিচার দেখার পর দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের স্বাভাবিক চরিত্র হারিয়ে ফেলে। তারা অধৈর্য হয়ে পড়ে। অনেকে কর্মবিমুখ হয়ে অলস ও অসৎ হয়ে পড়ে। কেউ কেউ কর্মের চেয়ে অকর্ম, কাজের চেয়ে কথা এবং ছলচাতুরীতে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

অধঃপতিত সমাজের ধনীদের কৃপণতার মূল কারণ, অসৎ উপায়ে ধনসম্পত্তি অর্জন। চোর-ডাকাত, টাউট-বাটপাড়, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা সম্প্রদায়ের ইতরজনেরা সাধারণত হয় কৃপণ, নয়তো অপব্যয়ী বা বেহিসেবি প্রকৃতির। 

কোনো সমাজের ধনীরা যদি কৃপণ হয়ে যায় তবে ধরে নেয়া হয় যে, সেখানকার তাবৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে দুর্নীতি। হজরত আলী রা:-এর সূত্র মতে, দুর্নীতির দাপটে ধনিক শ্রেণী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের আপন সত্তা, জাতীয় বৈশিষ্ট্য এবং নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সমাজের স্বাভাবিক বন্ধন আলগা করে দেয়। আর এই অবস্থার কারণে মূর্খরা এসে ক্ষমতা দখল করে ফেলে।

মহামতি সক্রেটিস এবং হজরত আলী রা:-এর অমিয় বাণী পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয় তা হলো- অধঃপতিত সমাজের অধিবাসীদের মনমানসিকতা অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ে। তারা চোখ থাকতেও অন্ধের ন্যায় চলাফেরা করে এবং বধিরের ন্যায় সবকিছু না শোনার ভান করে। তারা বোবার মতো সব ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকে এবং জড় পদার্থের ন্যায় সব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়াহীন ও স্থির হয়ে পড়ে থাকে। ফলে তাদের সামনে কেউ যদি অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় উল্লম্ফন শুরু করে দেয় তবে মৃত গাছের গুঁড়ি, জগদ্দল পাথর কিংবা প্রাণহীন প্রাণীর ন্যায় তারা স্থির ও অচল হয়ে পড়ে থাকে। 

 

০৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৭:০৮:৫৮