বাইরে লাল-হলুদের লড়াই, ভেতরে প্রবাসীর ঐক্য
পীর হাবিবুর রহমান
অ+ অ-প্রিন্ট
চিরবসন্তের লীলাভূমি মালয়েশিয়ার কুয়ালালমপুরে বিশ্বের দেশে দেশে প্রতিনিধিত্বশীল প্রবাসীরা আন্দনঘন দুদিনব্যাপী সম্মেলনে এক মোহনায় মিলিত হয়েছিলেন। অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এই সামিট ডেকেছিল। ১৯ নভেম্বর আনন্দঘন পরিবেশে এর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম। ২০ নভেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী দাতো সেরি মোহাম্মদ নাজরি বিন আবদুল আজিজ। ১৯ নভেম্বর শনিবার পাঁচ তারকা বার্জায়া টাইম স্কয়ার হোটেলে আনন্দঘন পরিবেশে এর উদ্বোধন হয়। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আবেগঘন পরিবেশে রোববার রাতে ২৩ দফা কুয়ালালামপুর ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয়।

৫ শতাধিক প্রবাসী এতে অংশগ্রহণ করেন। এতে ইউরোপের ৩০টি দেশ এই সংগঠনের সদস্য হলেও ২০টি দেশের ১৫০ জন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেন। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিরা এখানে অংশ নেন। ২০১২ সালে ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থরক্ষা, কমিউনিটির উন্নয়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারায় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে গ্রিসে এই সংগঠনটির জন্ম নেয়। এর উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্যারিস প্রবাসী বাংলাদেশি কাজী এনায়েত উল্লাহ। ইনু নামেই সব মহলে পরিচিত। তিনি সংগঠনের মহাসচিব। সভাপতি গ্রিস প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার জয়নুল আবদীন। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য প্রবাসী এসটিভির চেয়ারম্যান আহমেদ-উস-সামাদ চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন ইতালি প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম নাসিম। তিনিই সবার সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ ও সমন্বয় করেন।

বাংলাদেশ থেকে অতিথি হিসেবে আমরা কয়েকজন সিনিয়র সংবাদকর্মী যোগ দিয়েছিলাম। আমন্ত্রিত এ অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন আবেদ খান, মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাইফুল আলম, আহমেদ জুবায়ের, নঈম নিজাম, শ্যামল দত্ত, মোস্তফা ফিরোজ ও মাহমুদ হাফিজ। ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর এয়ার এশিয়ার ফাইটে চার ঘণ্টা আকাশ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে আমরা যখন কুয়ালালমপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলাম তখন এই সংস্থার মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহসহ আয়োজকরা হৃদয়নিঃসৃত আন্তরিকতা দিয়ে ফুলেল অভ্যর্থনা জানালেন। বিমানবন্দরেই রাতে হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের বাসভবনে নৈশ্যভোজে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন একজন কূটনীতিক। হোটেলে এসে সকালের নাস্তা সেরে যার যার রুমে গিয়ে লম্বা ঘুম। বিকালে বিদ্যুৎচমকে বৃষ্টি এলো। হোটেলের ২৩ তলার জানালা দিয়ে বৃষ্টিস্নাত কুয়ালালামপুরের শহরের দিকে তাকালাম। কী মনোরম, মুগ্ধকর দৃশ্য! কাকে যেন খুব মিস করছিলাম! কী রোমান্টিক! একজন মাহাতির আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক উন্নয়নে দেশটিকে এতটাই এগিয়ে নিয়েছেন যে, এই পাহাড়ি দেশ শোভিত একেকটি অট্টালিকা যেন আকাশ স্পর্শ করছে। সন্ধ্যায় সবাই গেলেন সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদকর্মী শেখ কবিরকে নিয়ে রাত আটটায় ট্যাক্সি ডেকে চলে গেলাম হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের বাসভবনে। ভদ্র, বিনয়ী, সম্ভ্রান্ত এই কূটনীতিকের একটি কাব্যিক মন রয়েছে। চেহারায় যেমন পরিপাটি, কথা ও বাচনভঙ্গিতে তেমনি সুন্দর। মনখানি তার এতটাই কোমল। সহজেই আপন করার, জয় করার শক্তি আছে।

বিশ্বে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা যেখানে এক কোটি, সেখানে মালয়েশিয়াই রয়েছেন ১০ লাখ। আমরা যে হোটেলে ছিলাম, সেই টাইম স্কয়ারে ৩ হাজার বাংলাদেশি কাজ করেন। ৩ লাখের মতো অভিবাসী অবৈধভাবে আছেন। হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম সব কূটনীতিককে নিয়ে একটি পরিবারের মতো হৃদ্যতাপূর্ণ টিমওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করা, প্রবাসীদের সমস্যা দেখা ও কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখছেন। তার বাসভবনে নৈশ্যভোজ সন্ধ্যাটি ছিল আড্ডায় আড্ডায় পূর্ণ। প্রবাসী কমিউনিটি লিডাররাও সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে নঈম নিজাম আর শ্যামল দত্তের সঙ্গে চলে গেলাম রাতের কুয়ালালামপুর দেখতে। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারের মতো যমজ টাওয়ার গড়ে তুলেছেন মাহাথির। ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের মতো তুলেছেন কেএলসি টাওয়ার। পৃথিবীর যেখানেই গেছেন সৃষ্টিশীল এই রাষ্ট্রনায়ক আইডিয়া সংগ্রহ করে নিজ দেশকে সাজিয়েছেন। বাংলাদেশের ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী সেখানকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনা করছে। অনেকে পিএইচডি করছেন। প্রবাসীরা ম্যানপাওয়ার, রেস্টুরেন্ট, নাইট কাব থেকে সব ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে রাখছেন অনবদ্য ভূমিকা। আমাদের পেয়ে প্রবাসীদের চিরচেনা আথিতেয়তা, আন্তরিকতা দিতে ভোলেননি। সেখানেও রাজনীতি আছে, দলাদলি আছে। এই সম্মেলন ঘিরে দলাদলি দেখা দিয়েছিল। সংস্থার মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ কুয়ালালামপুর সম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সঙ্গেই উড়ে গিয়ে বৈঠক করেননি; কুয়ালালামপুরেও একাধিকবার এসেছেন। একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল সম্মেলন সম্পন্ন করতে হাইকমিশনার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন। কমিউনিটি লিডাররাও সহযোগিতা করেছেন। কুয়ালালামপুরে প্রবাসী সাংবাদিকদের প্রেসকাব রয়েছে। এর সভাপতি এএস রহমান পারভেজ একজন কর্মোদ্যম তরুণ। সম্মেলনে নিরলস কাজ করেছেন। শেষ মুহূর্তে বাইরে কিছু চাপা উত্তেজনা ছিল। সেটি নিরসনে ভূমিকা রেখেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান।

১৯ নভেম্বর শনিবার সকালে যখন সম্মেলন উদ্বোধন হচ্ছিল, বাইরে তখন সরকারবিরোধী মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক জোট বিক্ষোভ করছিল। টাইম স্কয়ারের বাইরে অনেক সড়ক পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছিল। মাহাথিরের হাতে গড়া আধুনিক মালয়েশিয়ায় উন্নয়নের বিপরীত পিঠে ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি চলছে। ঘুষ, দুর্নীতি মালয়েশিয়ার এখন এক নম্বর শত্রু। ক্ষমতায় থাকতেই এর বিরুদ্ধে মাহাথির যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, সেটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকারি দল উমনো, বিরোধী আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের নাম পিকেআর। মাহাথির মোহাম্মদের নতুন দলের নাম পিপিবিএম। এক সময় মাহাথির সরকারি দলের ছিলেন। তিনি ছিলেন দেশের জ্বালানি খাতের প্রধান। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন ও সিঙ্গাপুরের অর্থায়নে একটি প্রজেক্টে ৮ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ আনলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে মাহাথির কথা বললে তাকেও জ্বালানি খাতের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে হয়। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকা ড. মাহাথির মোহাম্মদ আপস করেননি। দল থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন। ক্ষমতায় থাকতে যে আনোয়ার ইব্রাহিমকে জেলে পুরেছিলেন, তার সঙ্গেই জোট করে আন্দোলন করছেন। বিক্ষোভের আগের দিন সরকার হলুদ কাপড় পরে বাইরে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সরকারি দলের প্রতীক হচ্ছে লাল, বিরোধী দলের হলুদ। বাইরে যখন লাল-হলুদের লড়াই ভেতরে তখন চিরবসন্তের লীলাভূমিতে সুর উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যের।

দুদিনের সম্মেলনে প্রবাসীদের দাবি-দাওয়াই নয়; নানা সমস্যা ও বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা নিয়ে দফায় দফায় সেমিনার হয়েছে। প্রবাসীদের কল্যাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গোলটেবিল হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি ও তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা নিয়ে কথা উঠেছে। তারা সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। প্রবাসী কেউ মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জটিলতা নিরসনে প্রবাসী কল্যাণ ফান্ডে অর্থের সংকট নেই। আছে সিস্টেম জটিলতা। এর নিরসন চেয়েছেন তারা। সমাপনী অধিবেশনে ২৩ দফা কুয়ালালামপুর ঘোষণায় একটি দিন সরকারকে প্রবাসী দিবস পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন। অনুরোধ জানিয়েছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিশ্চিত করার।

কাজী এনায়েত উল্লাহকে সভাপতি করে সম্মেলনের শেষ পর্বে ওয়ার্ল্ড-বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফোবানা যে রকম উত্তর আমেরিকা প্রবাসীদের প্লাটফর্ম, অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন যেমন ইউরোপের ৩০টি দেশের প্রবাসীদের শক্তি, তেমনি বিশ্বের সব দেশের এক কোটি প্রবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণ, কমিউনিটির উন্নয়ন ও পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড-বাংলাদেশ অর্গানাইজেশনের জন্ম দেওয়া হয়। কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেছেন, একটি সংগঠন আরেকটির সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হবে না, সমন্বয়নহীনও হবে না। এতে একটির জন্য আরেকটির কাজের অসুবিধার সৃষ্টি হবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রবাসীরা যে দলমত নির্বিশেষে নিজেদের কল্যাণ ও বাংলাদেশের উন্নয়নে এক প্লাটফর্মে ঐক্যের মোহনায় মিলিত হচ্ছেন, কুয়ালালামপুর সামিট সেই ঘোষণা দিয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে আমাদের দেশের সন্তানরা খেয়ে না খেয়ে টাকা পাঠান। রেমিট্যান্স আসে। অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। অথচ তারা দেশে ইমিগ্রেশেন ও বিমানবন্দরে প্রাপ্য সম্মান পান না। মালয়েশিয়ায় যারা বৈধভাবে গিয়েছিলেন তাদের অনেকে মেয়াদ পার হওয়ার পর থাকার বৈধতা পেয়েছেন। অন্যরা যাতে পান সে ব্যবস্থা চলছে। সামনে বাজার যেমন খুলছে, তেমনি অনেকে বনজঙ্গলে ও জেলে আছেন। কষ্ট হয়।

২০১২ সালে গ্রিসে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে গ্রিসে স্ট্রবেরি ক্ষেতে মালিকের গুলিতে ৩০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় এই সংগঠন প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। এতে তাদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণই মেলেনি, অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ করার কাজেও সফল হন। সাভারে রানা প্লাজার মর্মান্তিক ঘটনার পর ব্রাসেলসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান পোশাক রপ্তানি খাতে বিপর্যয় না আসার জন্য যে ভূমিকা রাখেন, তার সঙ্গে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। এই সংগঠনের সভাপতি জয়নুল আবদীন ’৯০ সাল থেকে গ্রিস প্রবাসী ও মহাসচিব কাজী এনায়েত ’৭৮ সাল থেকে প্যারিসে। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রবাসীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভালে তার ভূমিকা সবার মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। এই সম্মেলনে সময় টেলিভিশনের ফ্রান্স প্রতিনিধি লুৎফর রহমান বাবু নামের তরুণটি সবার নজর কেড়েছেন। চটপটে, প্রাণবন্ত বাবু সবার সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করার চেষ্টা করেছেন। দুদিনের সম্মেলন শেষে ২১ তারিখ অনেকেই মালয়েশিয়া ছাড়লেন। আমাদের দলের অনেকে চলে এলেন। আমরা কয়েকজন বাড়তি দুদিন থেকে গেলাম। শেষদিনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা নাচে-গানে মন ভরিয়ে দিলেন সবার। ফকির আলমগীরের গান তো সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ২১ নভেম্বর বন্ধু তানভীর সিদ্দিকী ও মাহমুদ হাফিজের সঙ্গে বিকালে ঘুরতে গেলাম পুত্রাজায়া সিটিতে। তানভীরের কাজিন ও তার স্বামী আমাদের ঘুরতে নিয়ে গেলেন। পৃথিবীর তাবৎ শহর আমি উপভোগ করি রাতে। সেই সন্ধ্যা রাতে পুত্রাজায়া মুগ্ধই করেনি, বিস্মিত করেছে। মালয়েশিয়া ঘুরবেন, উন্নয়নের চেহারা দেখবেন আর ড. মাহাথিরের নাম মনে আনবেন না তা কি হয়। টানা ২২ বছরের শাসনামলে রূপকথার গল্পের মতো মালয়েশিয়াকে যেভাবে সাজিয়েছেন এ এক বিস্ময়কর উত্থান। পুত্রাজায়ায় জলের ওপর ভাসছে সুরম্য স্থাপত্যের মসজিদ। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লেক, সেতু, বৃক্ষ, পরিচ্ছন্ন সড়ক মিলিয়ে স্বপ্নের মতো মনে হয়। সারিবদ্ধ একেকটি ভবনে একেকটি মন্ত্রণালয়। একটির স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে আরেকটির মিল নেই। আগন্তুক নগরীর সঙ্গে এখানকার বাস যোগাযোগ রয়েছে। সড়কগুলোতে একের পর এক ডাস্টবিনগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে, যে কোনো আগন্তুক তাকালে মনে করবেন যে ডাস্টবিন নয়, দৃষ্টিনন্দনের জন্যই কিছু শোপিস তৈরি করা হয়েছে।

পুত্রাজায়ার পাশেই আইসিটি শহর সাইভার জায়া গড়ে তোলা হয়েছে। গেন্টিক আইল্যান্ড পর্যটকদের হৃদয় জুড়িয়ে দেয়। পাঁচ তারকা হোটেল আর ক্যাসিনো শোভিত পর্যটকদের টেনে নিয়ে আসে। বিকালবেলা যখন পর্যটকরা আসেন, প্রকৃতির এ লীলাভূমিতে মেঘ তাদের ছুঁয়ে দিয়ে যায়। প্রেমিকযুগল এলে হাতে হাত ধরে মেঘ ছুঁয়ে সুখের ভেলায় ভাসেন। ড. মাহাথির মোহাম্মদ আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক হলেও তার নামে কোনো কিছুর নামকরণ হয়নি। নামকরণ হয়েছে মালয়েশিয়ার জাতির জনক টানকু আবদুল রহমানসহ প্রয়াত রাষ্ট্রনেতাদের নামে। মালয়েশিয়াজুড়েই মাহাথিরের চিহ্ন, অথচ কোথাও তার নাম নেই।

স্থাপত্যশৈলীসহ মালয়েশিয়া একটি মুসলিম রাষ্ট্র হলেও জ্ঞানে, গরিমায়, বিজ্ঞানে, আধুনিকতায়, উন্নয়নে পশ্চিমাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। ক্যাসিনো, পাব, নাইটকাব, স্পা সবকিছুই সহজলভ্য পর্যটকদের জন্য। মালয়েশিয়া পর্যটকদের টানতে সব আয়োজন সম্পন্ন করেই সফল হয়েছে। যখন তখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। শীত কখনো নামে না দেশটিতে। বছরজুড়ে একই আবহাওয়া। তাই বলা হয়, মালয়েশিয়া চিরবসন্তের এক লীলাভূমি। আর সেই চিরবসন্তের লীলাভূমিতে এক কোটি প্রবাসীর এক প্লাটফর্মে ঐক্যের মোহনায় মিলিত হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামাজিক চিত্র নিয়েই প্রবাসীরা রয়েছেন। এক সময় বিএনপির ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। এখন আওয়ামী লীগও শক্তিশালী হচ্ছে। কমিটি বাণিজ্যের নামে দালালদের উপদ্রবও আছে। মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের কমিটি পাইয়ে দেওয়ার নামে ঢাকায় একজন ১ কোটি টাকা নিয়ে এসেছেন। এমন অভিযোগ আমাদের সংবাদকর্মীদের সামনেই দলের প্রবাসী নেতাদের কেউ কেউ করলেন।

পীর হাবিবুর রহমান: প্রধান সম্পাদক

পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ

 

৩০ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪:৩৭