মন্দ মানুষ হওয়ার সহজ-সরল পদ্ধতি
গোলাম মাওলা রনি
অ+ অ-প্রিন্ট
মন্দ মানুষ হওয়ার পদ্ধতিটি বেশ সহজ ও সাবলীল হওয়া সত্ত্বেও ক্ষেত্রবিশেষে জটিলতায় রূপ নেয়। আপনি যদি মন্দ মানুষ হতে চান তবে আপনাকে প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি কীরূপ মন্দ হতে চান। ভালো মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়াগুলো প্রায় সমপর্যায়ের। অন্যদিকে মন্দ মানুষের রয়েছে হাজারো প্রকারভেদ। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে ভালো ও মন্দ সম্পর্কে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তাতে ভালোর জন্য সব সময় একবচন এবং মন্দের ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহৃত হয়। পবিত্র কোরআনে হেদায়েতের আলো বোঝাতে গিয়ে সব সময় নুর শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। নুরের বহুবচন হলো আনোয়ার, যাকে বাংলায় আলোকচ্ছটা বা আলেয়া বলা যেতে পারে। কোরআনের কোথাও আনোয়ার শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। অন্যদিকে অন্ধকার, কুসংস্কার, মন্দ বিষয়ের আঁধার বলতে জুলমাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি ব্যতিক্রমধর্মী বহুবচন, যেটির একবচন হয় না।

ভালো মানুষ হওয়া এবং মন্দ মানুষ হওয়ার ঘটনাকে অঙ্কের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ একটি অঙ্ক যখন সঠিক এবং নির্ভুলভাবে করা হয় তখন ফলাফল হয় একরকম। অঙ্কের এই ফলাফল স্থান-কাল-পাত্র, দেশ-বিদেশ, ধর্মকর্ম, সম্প্রদায় কিংবা সাম্প্রদায়িক হানাহানিতেও পরিবর্তিত হয় না। অন্যদিকে অঙ্কে যদি ভুল করা হয় তবে ফলাফল হবে একেকরকম। ফলে সঠিক অঙ্কের ফলাফলে যে সহজ-সরল সমীকরণ রচিত হয় তা ভুল অঙ্কের ক্ষেত্রে পাল্টে গিয়ে একেক জায়গায় একেকরকম হয়ে থাকে। ভুল অঙ্কের মতো মন্দ হওয়ার প্রক্রিয়া-পদ্ধতি, ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা, ফলাফল বা পরিণাম ইত্যাদি স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

আপনি যদি মন্দ হতে চান তবে প্রথমেই জানতে চেষ্টা করুন, কেন আপনি ওমনটি হতে চাচ্ছেন। একটু খোঁজ নিলে দেখবেন ভারি অদ্ভুত সব কারণে মানুষ মন্দ পথে পা বাড়ায়। কেউ মন্দ হয় প্রেমিক বা প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য। কেউ বা হয় প্রেমে প্রতারণার শিকার হয়ে। প্রেমপর্ব চলার সময় কিংবা পরিণয়কে পাকাপোক্ত করার জন্য অনেকে মন্দ পথ অনুসরণ করেন। প্রেমিক-প্রেমিকার অযাচিত আবদার, সীমাহীন আকাক্সক্ষা, লোভ-লালসা এবং প্ররোচনার কারণেও মানুষ মন্দ পথে হাঁটে। এক প্রেমিকা বলল, তার গুণ্ডা ছেলে পছন্দ। কিংবা ছেলেরা রঙচটা জিন্স-প্যান্ট পরে, হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে ঘোরাফেরা করলে মেয়েরা পছন্দ করে। কোনো মেয়ে হয়তো বলল, যেসব ছেলে মিষ্টি করে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারে ওসব ছেলেকে আমার ভারি পছন্দ! প্রেমিকাদের এত্তসব উদ্ভট পছন্দের বলি হয়ে কত ছেলে যে অকাজ, কুকাজ করতে করতে উচ্ছন্যে চলে গেছে তার হিসাব বের করা বড়ই দুরূহের কাজ।

মানুষ লোভ-লালসা, উচ্চাকাক্সক্ষার জন্য যেমন মন্দ পথে পা বাড়ায়, তেমনি নিজের হীনম্মন্যতার জন্যও অনেকে অন্ধকার পথ দিয়ে হেঁটে চলে। দাম্ভিকতা, অহঙ্কার এবং অতিরিক্ত রূপ-যৌবন, অর্থকরী, ক্ষমতা অথবা বংশগৌরবের জন্য মন্দ পথের যাত্রী হয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। গায়ে শক্তি আছে অথচ দুর্বলকে দু-চারটে কিলঘুষি মারা হলো না এমন মতবাদ মাথায় নিয়ে না ঘুরলে থানা-পুলিশ, কোর্ট-কাছারির সংখ্যা হয়তো আরও কম হতো। রূপবতী বা রূপবানরা ভাবেন এত রূপ, এত যৌবন এবং এত সৌন্দর্য কারো ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের জন্য আবদ্ধ করে রেখে কৃপণতা প্রদর্শনের কোনো যথার্থতা নেই। তার চেয়ে বরং জনস্বার্থে রূপ-যৌবনকে সর্বজনীন করে দেওয়াই ভালো। জমিদার বংশের ছেলে ভাবেন, একটু-আধটু টানটুন না দিলে কিংবা দুই-চারটা উপপত্নী না রাখলে লোকজন কী ভাববে?

আলালের ঘরের দুলালরা জুয়ার আড্ডায় বসে স্বপ্নবাসর তৈরির যেমন অপচেষ্টা করেন, তেমনি খুনখারাবি, লুটপাট এবং জুলুম-অত্যাচার করে রবিনহুডের মতো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টারত লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। অনেকে আনন্দ পান কৃপণতা করে। আবার কেউ কেউ অপব্যয় করে জীবনের সার্থকতা খুঁজে বেড়ান। ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, লুটপাট অথবা প্রতারণা, লোক ঠকানো, ফাঁকিবাজি ইত্যাদি করে সম্পদের পাহাড় গড়ার লিপ্সাসংবলিত লম্বা জিহ্বাধারী মানুষরূপী জন্তু-জানোয়ারের সংখ্যা যে কমছে এমন কথা পৃথিবীর কোনো দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীরা এখনো বলা শুরু করেননি।

মহামানব হওয়ার জন্য মন্দ পথে পা বাড়ানোর লোক যেমন বাড়ছে, তেমনি নিজেকে দুর্ধর্ষ খুনি, মাফিয়া ডন অথবা দুনিয়া কাঁপানো সন্ত্রাসী-জঙ্গি এবং সাক্ষাৎ যমদূত বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত লোকের সংখ্যাও কমছে না। ভ-ামি, নকলবাজি, ভেজালবাজি, তেলেসমাতি, জোচ্চুরি ইত্যাদির কর্মী-সমর্থক এবং নব নব-উদ্ভাবকে দেশ-জনপদ, শহর-বন্দর, গ্রাম সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসা, মাদকসেবনকারী, বিপণনকারী, মাদকের দালাল এবং মাদকের আখড়াকেন্দ্রিক মন্দ লোকের প্রবৃদ্ধি দেশের যে কোনো উন্নয়নের ব্যারোমিটারকে ছাড়িয়ে এক ব্যতিক্রমী উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। এ ব্যাপারে আমার একটি বাস্তব ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল।

কোনো এক থানার ওসি তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার পর জানতে পারলেন, শহরে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। সব বয়সের নারী-পুরুষ নির্বিচারে এবং অবাধে ব্যাপক হারে নিয়মিত মাদক সেবন করছে। ওসি সাহেব কয়েকদিন শহরে ঘুরলেন এবং যথাসম্ভব চেষ্টা করলেন মাদকসেবীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য। কিন্তু শহরে এমন কাউকে খুঁজে পেলেন না, যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা যায়। অবশেষে তিনি অর্ধপাগল এক মাদকসেবীর সাহায্য নিলেন। ওসি জিজ্ঞাসা করলেন আচ্ছা বলো তো এই শহরে কারা মাদক সেবন করে? অর্ধপাগল বলল, স্যার! কারা খায় তা বলতে পারব না তবে কারা খায় না তা বলতে পারব। ওসি বেশ আহাদিত কণ্ঠে বললেন, আচ্ছা! বলো বলো- জলদি করে বলো। লোকটি তখন বলল, আমার জানামতে, বড় মসজিদের ইমাম সাহেব খায় না। আর আপনি নতুন এসেছেন তো আপনার সম্পর্কে বলতে পারব না, তবে চেহারা-সুরত দেখে মনে হচ্ছে আপনিও খান না।

মন্দলোকের বাহারি মন্দ কর্মের পরিণতিও বেশ জটিল। পরিণতি না বলে কার্যকারণ বলাই উত্তম। যে লোক যে কারণে ইয়াবা খায় তার সঙ্গে মদ্যপানকারীর মদ্যপানের কারণের কোনো মিল নেই। জেনাকারী, ব্যভিচারী, চোট্টা এবং লুইচ্চা যেমন একই প্রকৃতির নয়, তেমনি তাদের কুকর্মের ধরন-প্রকৃতি এবং পরিণতিও এক নয়। জুয়াড়ি, বাজিগর, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী প্রভৃতি প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মন্দলোকরা ভিন্ন ভিন্ন কারণে কুকর্ম করে আবার তাদের কুকর্মের শাস্তি কিংবা ফলভোগও ভিন্নতর হয়। মদ্যপানকারীর পরিণতি, নিষিদ্ধ পল্লিতে গমনকারী এবং ধর্ষণকারীর পরিণতি যেমন এক নয়, তেমনি তাদের মনমানসিকতার মধ্যেও যথেষ্ট অমিল রয়েছে। বহুগামিতার ফলে সৃষ্ট সিফিলিস-গনোরিয়া, এইডস, ক্যানসার, মানসিক বৈকল্য প্রভৃতি রোগবালাই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একই কুকর্মকারীরা হাজারো প্রক্রিয়ায় নিজেদের বিকৃত লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

মন্দলোক হওয়ার ইচ্ছা-আকাঙ্খার মধ্যেও হাজার হাজার প্রকারভেদ রয়েছে। কেউ বলে, আমি কথায় কথায় বিষাক্ত সাপের মতো ফোঁসফাঁস করব। কেউ বা জলহস্তীর মতো হা করে রাক্ষসের মতো কাঁচা গিলে খাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করে। এদের মধ্যে একদল অবশ্য একটু কাঁচামরিচ ও লবণ দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার কথাও বলে থাকে। অনেকে সারমেয়র মতো ঘেউ ঘেউ করতে চায় এবং সময়-সুযোগমতো ক্ষমতাবানদের পা চাটার জন্য উশখুশ করতে থাকে। একদল মন্দলোক গুণ্ডা হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখে। অন্যরা শিয়াল, হায়েনা এবং শুয়োরের মধ্যে কোনটির চরিত্র ধারণ করবে তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে সময় কাটায়। কেউ বলে আমি গুণ্ডা হব আরেক দল বলে ডাকু হব। তবে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মন্দলোক বোধহয় শয়তান হওয়ার জন্য বেশি মাত্রায় চেষ্টা-তদবির করে থাকে। মন্দলোকের বিভিন্ন ধরন, প্রকৃতি, মন্দ হওয়ার বাহারি বাসনা এবং মন্দ কাজের বহুমুখী পরিণতি জানার পরও যদি আপনি সত্যিকার অর্থে আপাদমস্তক একজন মন্দ স্বভাবের বাজে, ঘৃণিত ও অভিশপ্ত প্রাণী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তবে নিম্নের সহজ-সরল পদ্ধতিগুলো অনুশীলন করে দেখতে পারেন।

এক. আপনার জন্য প্রথমেই দরকার পড়বে একটি অপরাধী মন, পাপী মস্তিষ্ক এবং শয়তানি চিন্তাশক্তি। আপনার উচিত হবে কুকুরের মতো স্বজাতিবিদ্বেষী হওয়া। সবাইকে সন্দেহ করা, সবকিছুর মধ্যে ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো এবং সব সময় অন্যের অমঙ্গল কামনা করা। আপনি সারাক্ষণ মুখ গম্ভীর করে রাখবেন। কোনো অবস্থায়ই হাসবেন না এবং মনে মনে পৃথিবীর সবাইকে অভিশাপ দিতে থাকবেন। আপনার চিন্তা-চেতনায় ফেরাউনের অহঙ্কার এবং গাম্ভিকতা, আচরণে কারুণের কৃপণতা এবং কুটনামি, আবু জেহেলের অসৎ চিন্তা, আবু লাহবের ঔদ্ধত্য এবং মুসাইলামা বিন কাজ্জাবের ভ-ামি না থাকলে ষোলকলা পূর্ণ হবে না।

দুই. মিথ্যা বলাকে আপনি আপনার মূল বেসাতি বানিয়ে ফেলুন। চোখে-মুখে, আকার-ইঙ্গিতে এবং অঙ্গভঙ্গি করে অনবরত মিথ্যা বলতে থাকুন। মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে নিজেকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে ফেলুন। অর্থাৎ গতকাল যেভাবে মিথ্যা বলেছেন আজ তা বাড়িয়ে দিন এবং জীবনটিকে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে ফেলে জিডিপির মতো বার্ষিক প্রবৃদ্ধির টার্গেট নিয়ে মিথ্যাচার শুরু করে দিন। মিথ্যাকে হজম করার জন্য প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ছলচাতুরি, মায়াজাল সৃষ্টি, ইন্দ্রজালের বিস্তার ইত্যাদি মন্দ বিষয়কে নিজের জন্য পরিচ্ছদ বানিয়ে নিন।

তিন. অকৃতজ্ঞ মন এবং অকৃতজ্ঞ আচরণ আপনাকে খুব দ্রুত মন্দলোকের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে দেবে। আপনি কোনোদিন উপকারীর উপকার স্বীকার করবেন না, পারলে উপকারীর ক্ষতি করে ভদ্রলোকের ওপর চরম প্রতিশোধ নিয়ে নিন। নিজের আচার-আচরণ সাপ-বিচ্ছু, গরিলা, বানর এবং পাগলা সারমেয়র মতো করে নিন। লোকজন আপনাকে যত ভয় করবে এবং আপনার সঙ্গসর্গ থেকে যত দূরে থাকতে চাইবে, ধরে নেবেন আপনি ততই সফল এবং সার্থক মন্দ মানুষ।

চার. মন্দ মানুষের কোনো পরিবার থাকে না, থাকে না কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু-বান্ধব। তারা তাদের বিষদাঁত, বিষাক্ত নখ এবং বিষাক্ত জিহ্বা দ্বারা সবার আগে আপনজনদের এমনভাবে আক্রমণ শুরু করে, তারা মন্দলোকটির সঙ্গে বসবাসের পরিবর্তে পাহাড়-জঙ্গল, বন-বাদাড়, সাগর-মরুভূমিতে নির্বাসনে যেতে দিনরাত চেষ্টা-তদবির করে। অনেকে জিন্দালাশ হিসেবে কবরের বাসিন্দা হওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজে থাকে। পরিবারের লোকরা মন্দলোককে পিশাচের চেয়ে ঘৃণ্য, আজরাইলের চেয়েও ভীতিকর এবং হায়েনার চেয়েও নৃশংস মনে করে। আপনার দুর্ব্যবহার, জুলুম-অত্যাচার এবং নিষ্ঠুরতাকে মন্দ মানুষের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনি আপনার সাঙ্গপাঙ্গদের সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারেন। আপনার জানা উচিত যে, মন্দ মানুষদের বন্ধু-বান্ধব না থাকলেও সাঙ্গপাঙ্গর অভাব হয় না।

পাঁচ. পৃথিবীর তাবৎ মাখলুকাতকে শত্রু বানিয়ে ফেলুন এবং সবার অনিষ্ট সাধনের জন্য নিজের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে সজাগ রাখুন। প্রকৃতি-পরিবেশ, বৃক্ষলতা, পশুপাখি, মাটি, পানি, বাড়িঘর ইত্যাদি সবকিছুকে শত্রু ভাবতে থাকুন। চলতে-ফিরতে পায়ের কাছে যা পান তাতেই কষে লাথি মারুন। হাতটিকেও বসিয়ে রাখবেন না। সময়-সুযোগ পেলে গাছের পাতা, ডালপালা ছিঁড়ে ফেলুন, প্রজাপতি, ফুল, ফল ইত্যাদির ক্ষতি না করে ঘরে ফিরবেন না। কথায় কথায় থুতু ফেলার চেষ্টা করুন এবং হাঁচি-কাশি দিয়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে তুলুন। মনে রাখবেন জল ও বায়ু নষ্ট করার ক্ষমতা যার যত বেশি থাকবে সেই তত বড় মন্দ মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার গৌরব লাভ করবে।

ছয়. সব সময় অন্যের ধন-সম্পত্তি, স্ত্রী-পুত্র, কন্যা, পদ-পদবি, মানসম্মান ইত্যাদির দিকে লোভী দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকুন এবং হৃদয়ের মধ্যে ঈর্ষার বাগান গড়ে তুলুন। অপরের অমঙ্গল কামনা, প্রতিদ্বন্দ্বীদের মৃত্যু কামনা এবং নিজের দীর্ঘায়ু কামনা করে নিজের চারদিকে বিষাক্ত বাতি জ্বালিয়ে রাখুন। প্রকৃতির ক্ষতির কীটপতঙ্গ, রোগজীবাণু, জন্তু-জানোয়ার এবং আপনার মতো পিশাচদের সঙ্গে শয়তানির মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করুন।

সাত. ভুলেও মৃত্যুর কথা চিন্তা করবেন না। কবরের ধারকাছ দিয়ে যাবেন না। ভালো মানুষদের এড়িয়ে চলবেন। খালি পেটে থাকবেন না। মৃত ব্যক্তির বাড়ির শোকের মাতম অথবা কারো সুখ-শান্তির উচ্ছল আনন্দ ভুলেও দেখতে যাবেন না। সব সময় মন্দলোকদের সান্নিধ্যে থাকবেন। একাকী থাকবেন না, নেশাগ্রস্ত না হয়ে ঘুমোতে যাবেন না এবং ঘুম থেকে জেগেই যেন মন্দলোকের সাক্ষাৎ লাভ করেন এমন ব্যবস্থা করে রাখবেন। আপনার অহঙ্কার, দাম্ভিকতা এবং নিষ্ঠুরতা বেড়ে যায় এমন বাড়িতে থাকবেন এবং সেই ধরনের পোশাক-আশাক ব্যবহারসহ ব্যতিক্রমী খাবার-দাবার খাবেন।

আপনি যদি উপরোক্ত বিধিগুলো মেনে চলেন তবে আশা করা যায় খুব দ্রুত শয়তান আপনাকে বন্ধু বানিয়ে নেবে এবং দুনিয়ায় বসেই আপনি জাহান্নামের তর্জন-গর্জন শুনতে পাবেন। দিনের পরিবর্তে রাত, পবিত্রতার পরিবর্তে ময়লা-আবর্জনা এবং ভালবাসার পরিবর্তে ঘৃণ্য-অভিশাপ, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ইত্যাদি অনুষঙ্গ আপনার নিত্যকার সঙ্গী-সাথী হয়ে আপনাকে মন্দলোকের স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে ফেলবে।

গোলাম মাওলা রনি: রাজনীতিক

 

 

২৯ নভেম্বর, ২০১৬ ২২:৩০:০৯