ট্রাম্প হতে পারেন বিস্ময়কর সফল প্রেসিডেন্ট
গোলাম মাওলা রনি
অ+ অ-প্রিন্ট
বিষয়টি কাকতালীয় কিনা জানি না- তবে তিনি যেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সে সময় তার বয়স ছিল সত্তর বছর। রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ডেমোক্র্যাটদলীয় সদস্য ছিলেন। সিনেমায় অভিনয় করতেন। কিন্তু সেখানে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতেন সেগুলো পশ্চিমা দুনিয়ায় কাউবয় চরিত্ররূপে পরিচিতি পেয়েছিল। ফলে তিনি যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলেন তখন নাক উঁচু মার্কিন সমাজ ও তাদের গণমাধ্যম এবং কিছু ভাড়াটিয়া বুদ্ধিজীবী মুখে বলতে আরম্ভ করলেন, রোনাল্ড রিগ্যানের কোনো যোগ্যতাই নেই প্রেসিডেন্ট অফিসের কাজকর্ম দেখভাল করার এবং মার্কিন জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার। কিন্তু প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তার কালের সীমানাকে অতিক্রম করে আপন মেধা, কর্মদক্ষত এবং সাহসিকতা দ্বারা এমন এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন, যার নান্দনিকতাকে অতিক্রম করতে পারেননি অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট।

আজ বহু বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চল্লিশতম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের কথা মনে পড়ল ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার পর দুনিয়াব্যাপী বিরূপ সমালোচনার প্রেক্ষাপটে। আমার মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প রোনাল্ড রিগ্যানের চেয়েও ভালো করবেন। প্রকৃতি যদি অনুকূলে থাকে তবে তিনি হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্ময়কর সফল প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় রিগ্যান এবং ট্রাম্পের বয়স ছিল সত্তর বছর। তারা উভয়েই রিপাবলিকান এবং উভয়েই দল পরিবর্তন করেছিলেন। তারা মিডিয়া জগতের মানুষ। তারা উভয়েই বাকপটু এবং চমৎকার হাস্যরস সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধের মতো মোহাবিষ্ট করে রাখার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখেন এবং তাদের উভয়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও অভিজাত মহল সমালোচনা করতে করতে অস্থির হয়ে পড়েছেনÑ এসব কারণের সাম্যতার জন্য আমি ট্রাম্পের সফলতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছি না। আমি বরং ট্রাম্পের ভেতর কিছু বিস্ময়কর প্রকৃতিপ্রদত্ত ক্ষমতা, শিক্ষা, যোগ্যতা, মেধা, পরিশ্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সাহস শক্তি এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে তার সফলতার ব্যাপারে আশাবাদী।

ট্রাম্পের সফলতার নিয়ামক হিসেবে তার পারিবারিক শিক্ষা ও ঐতিহ্য বিরাট এক ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্পকে যারা গালাগাল করেন তারা বেশিরভাগ লোকই জানেন না যে, তিনি এমন একটি অভিজাত পরিবারের সন্তান, যাদের রয়েছে প্রায় তিনশ বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং ইতিহাস। পিতার দিক থেকে তিনি ঐতিহ্যবাহী জার্মান রক্তের অধিকারী। অন্যদিকে মায়ের দিক থেকে স্কটিস ঐতিহ্যের ধারক। ট্রাম্পের পূর্বপুরুষরা ইউরোপ-আমেরিকা এবং কানাডার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি এবং জমিদারিতে তিনশ বছর ধরে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ফলে পুরো পশ্চিমা দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নাগরিককেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের রয়েছে আত্মীয়তার বন্ধন। টেলিভিশন টক শো কিংবা পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে যারা ট্রাম্প সম্পর্কে বিষোদগার করেন তাদর বেশিরভাগই তার পারিবারিক ঐতিহ্য মূল্যায়ন করেননি বা করতে চাননি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং পঁয়ত্রিশতম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে বলা হয় মার্কিন অভিজাততন্ত্রের প্রতিভূ। বাকি প্রায় সব প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন পরিবেশ, প্রেক্ষাপট, আপন যোগ্যতা ও ব্যতিক্রমী মেধার কারণে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন। সেই হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তার এবং তার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য যেমন জন এফ কেনেডির মতো নয়, তেমনি তার ব্যক্তিগত কর্ম কোনো মতেই প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তবে তার পরিবারের সার্বিক ঐতিহ্যের সঙ্গে অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের পরিবার তুলনীয় নয়। সেদিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হবেন মার্কিন ইতিহাসের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী এক প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিক্ষাজীবনের একটি অংশ কেটেছে সামরিক স্কুলে। পারিবারিক ব্যবসা এবং নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি পেশাগত জীবনের সর্বত্রই এক অনন্য সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংবাদিকতা, বিনোদন জগৎ, উদ্ভাবনী ক্ষমতা সংবলিত রাজনীতি, পরিবার গঠন, স্বাস্থ্যসচেতনতা, প্রেম-পরিণয়-দাম্পত্য, ভোগ-বিলাস, দান-খয়রাত, লাভ-লোকসান, সফলতা-ব্যর্থতা, আলোচনা-সমালোচনা, প্রশংসা-নিন্দা ইত্যাদি বিপরীতমুখী বিষয়গুলোর চমৎকার সমন্বয় করে সত্তরটি বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের জীবন, বোধ ও বুদ্ধিকে এমন এক পরিণত পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন যেখানে সফলতা অর্জন কোনো বাধা হতে পারে না।

দুনিয়ার সর্বকালের জ্ঞানী-বিজ্ঞানীরা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, যারা আপন পরিবারের কাছে জনপ্রিয় এবং ভালো মানুষ হিসেবে স্বীকৃত নন তাদের নাকি দুনিয়ার সব মানুষ মিলে ভালো বললেও তারা প্রকৃত অর্থে ভালো নন। তাদের ভালোত্ব ও জনপ্রিয়তা অনেকটা ফোলানো-ফাঁপানো বেলুন এবং ধূম্রজাল অথবা কুয়াশার মতো বেলুনে সামান্য আঘাত লাগলে যেমন ফেটে যায় অথবা সামান্য বাতাস যেমন ধূম্রজালকে বিলীন করে এবং সূর্যের আলো যেভাবে কুয়াশা দূর করে তেমনি নিজ পরিবারের কাছে অজনপ্রিয় এবং মন্দ বলে স্বীকৃত লোকজনের বাইরের দুনিয়ার জনপ্রিয়তা সামান্য কারণে ধূলিসাৎ হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে।

জ্ঞানী-গুণী মহামানবরা আরও বলেছেন, যারা চমৎকারভাবে একটি পরিবার পরিচালনা করতে পারেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্র চালানো অনেক সহজ। অন্যদিকে পারিবারিক জীবনে ব্যর্থ অথচ অন্য অনেক বিষয়ে অতিমানবিক গুণাবলি এবং শিক্ষাদীক্ষায় শ্রেষ্ঠতর মহামানব রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে নিজের জীবন, পরিবার এবং সমগ্র জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছিলেন। মহাবীর হানিবল, জুলিয়াস সিজার, নেপোলিয়ন বোনাপাট এবং অ্যাডলফ হিটলারের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করলে তাদের ব্যর্থতার পেছনে পারিবারিক অনৈক্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম-ভালবাসায় অনাগ্রহ বা নির্লিপ্ততা, আপনজনের সঙ্গে প্রতারণা-বিশ্বাসভঙ্গ এবং অবিশ্বাসকে দায়ী করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করলেই সম্মানিত পাঠক তার সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর গত ৯ নভেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিজয়-পরবর্তী ভাষণ অনুষ্ঠান মঞ্চে পুরো পরিবার নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে স্ত্রী মেলানিয়া ছাড়াও তার পাঁচ সন্তান অর্থাৎ দুই মেয়ে এবং তিন ছেলে উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন মেয়েদের স্বামীরা। পুরো পরিবারের আন্তরিকতা, উৎসাহ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালবাসা ও সহমর্মিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

আপনারা অনেকেই জানেন, ট্রাম্পের পাঁচটি ছেলেমেয়ে তার তিনজন স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিয়েছেন। বর্তমান স্ত্রীর সন্তানসহ ট্রাম্প তার সাবেক দুই স্ত্রীর চার সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে থাকেন। সাবেক দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরও ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব এবং চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তার সাবেক এক স্ত্রী এখনো ট্রাম্পের বিশাল এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখভাল করেন। সাবেক দুই স্ত্রীসহ বর্তমান স্ত্রী এবং সন্তানরা সবাই মিলে ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনীযুদ্ধে নেমেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য ছিলÑ হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা এবং শ্রদ্ধার মূর্ত প্রতীক। ট্রাম্পের সঙ্গে তার ভাই-বোন, মামা-চাচা, খালু প্রমুখ কোনো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, সহায়-সম্পত্তি বা পারিবারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয়েছে এমন খবর ট্রাম্পবিরোধীরা এখন পর্যন্ত বের করতে পারেননি।

উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং সফল পুরুষরা এক বাক্যে স্বীকার করবেন, দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ তিনজন সুন্দরী, গুণবতী, শিক্ষিত এবং অভিজাত মেয়েকে প্রেম-ভালবাসার বন্ধনে জড়িয়ে বিয়ে করা চাট্টিখানি বিষয় নয়। বিয়ের পর ব্যক্তিত্বের সংঘাত অথবা অন্য কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যে কত বড় সাহস-শক্তি এবং দৃঢ়চেতা মনোভাবের প্রয়োজন তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা এবং তালাকের পর সৌহাদ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা যে কত বড় উদারতা, উঁচু মনমানসিকতা এবং মানবিকতার প্রয়োজন তা কোনো অমানুষের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়।

ট্রাম্প তার সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে তিনজন স্ত্রী এবং পাঁচজন সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপার যে নীতি, আদর্শ, উদারতা ও মহত্ত্বের পরিচয় দিচ্ছেন সেই একই নীতি বহাল রাখলে রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া, ইরান, মেক্সিকো এবং ইসরায়েলের সঙ্গে একই সমান্তরালে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চরিত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলোÑ তিনি মদপান করেন না। ধূমপানসহ অন্য কোনো নেশার সামগ্রী গ্রহণ তো দূরের কথা, ওগুলোর ধারেকাছেও যান না। তার রয়েছে চমৎকার সুস্থসবল এবং কর্মক্ষম একটি শরীর। দায়িত্বহীনতা এড়িয়ে যাওয়া, অকৃতজ্ঞ মনোভাব পোষণ, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, খোঁটা দেওয়ার অভ্যাস, অহরহ মিথ্যা বলা, বানিয়ে বানিয়ে বা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে নিজের হামবড়ি ভাব ফুটিয়ে তোলার অভ্যাস তার মধ্যে নেই বললেই চলে। তার রয়েছে চমৎকার সহজ-সরল, অনাড়ম্বর এবং অকপটে সব কিছু বলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন মন এবং মানসিকতা, মোনাফেকি বা হিপোক্রেসি নামক ভয়াবহ অমানবিক রোগটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নেই। তার রয়েছে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার অসাধারণ ক্ষমতা। সবকিছু মেনে নেওয়ার সহনশীলতা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো অথবা পথ পরিবর্তনের অন্তর্নিহিত গুণাবলি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করেননি। না জেনে জানার ভান অথবা না বুঝে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা তার ভেতর লক্ষ করা যায়নি। তিনি যা বোঝেন এবং যা বিশ্বাস করেন তাই অকপটে বলেন এবং করেন। তার এই অভ্যাসগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী এবং সুসংহত রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে যাবে। মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় সকার, কংগ্রেস এবং সিনেটের সঙ্গে তার বিরোধ ও ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব ঘটবে না। হোয়াইট হাউসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ করায়ত্ত করে ফেলবে। তার স্বভাবজাত অভ্যাস এবং প্রকৃতিপ্রদত্ত জ্ঞান-গরিমা এবং পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কারণে তিনি একান্ত অনুগত ছাত্রের মতো রাষ্ট্রযন্ত্রের আইন-কানুন, রাষ্ট্রের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবেন।

মার্কিন রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তারা নিশ্চয়ই ভালো করে জানেন, সেই দেশের রাষ্ট্রপতির পদটি তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের মতো একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতার ক্ষেত্রে দুই ভাগের অধিকারী। বাকি আটানব্বই ভাগ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় শাসন, প্রাদেশিক শাসন, বিচার বিভাগ, কংগ্রেস, সিনেট, স্থানীয় সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের যে দুই ভাগ রয়েছে সেখানেও তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা, স্বৈরাচারী মনোভাব, একগুঁয়েমি, মূর্খতা, দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো চাপিয়ে দেওয়া সত্যিকার অর্থেই কঠিন একটি বিষয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট একটি টুঁ শব্দ করার ক্ষমতা রাখেন না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন মুলুকে তারাই সফল হন যারা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি বিভাগ এবং অনুবিভাগের সঙ্গে একটি সহজ-সরল উদার মন, সত্যবাদী চরিত্র এবং সবার সমস্যা শোনার মানসিকতা নিয়ে একটি সেতুবন্ধ রচনা করতে পারেন। নিজস্ব মেধা, উন্নত রুচি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অমরত্ব লাভ করতে পারেন। বাইরের বিষয়ে নাক গলানোর পরিবর্তে যেসব প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বেশি মাথা ঘামিয়েছেন তারাই মার্কিনিদের হৃদয়ে বেশি স্থান করে নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি হোয়াইট হাউসের ইতিহাস এবং অতীত প্রেসিডেন্টদের কর্মকা- বিবেচনায় আনলে যে কেউ চোখ বুজে বলে দিতে পারবেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক অনেকগুণ বেশি।

গোলাম মাওলা রনি: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

 

২১ নভেম্বর, ২০১৬ ২২:৩৩:০৫