কবি রফিক আজাদও মুক্তিযোদ্ধা নন!
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
অ+ অ-প্রিন্ট
আর এক দিন পর ১৭ নভেম্বর হুজুর মওলানা ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মনে হয় প্রতিবারের মতো এবারও অনাদরেই যাবে। কারণ আমরা অতীতবিমুখ। গুরুজনকে মনে করা আমরা ভুলতে বসেছি তাই এমন অবস্থা। ১৩ তারিখ মহামান্য রাষ্ট্রপতি গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলে। রাষ্ট্রপতি আমাদের খুবই কাছের এবং খুবই প্রিয় মানুষ। তাই তার জন্য আমাদের কোনো কষ্ট নয়, বরং আনন্দ হওয়ার কথা। কিন্তু রাস্তাঘাটে এমন কড়াকড়ি, চলাচল বন্ধ এ যেন অন্য গ্রহের কেউ সেখানে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সেদিনের কয়েক ঘণ্টা সফরে বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। যেখানে তার টাঙ্গাইল সফরের আনন্দে বহুদিন বিভোর থাকার কথা, সেখানে মানুষজন এত দূরে রাখা হয়েছিল যা কল্পনা করা যায় না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি হয়তো জানেনও না তার নিরাপত্তার কথা বলে যা করা হয়েছে তাতে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সন্তোষের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি গেছেন বেলা ২টায়। ১১টা থেকে শহরের সব রাস্তাঘাট, যানবাহন বন্ধ। তার হেলিকপ্টার নামার এক ঘণ্টা আগেই শতবর্ষের পুরনো শহর সুনসান হয়ে গিয়েছিল, কোনো যানবাহন ছিল না। যেহেতু আমি সেদিন টাঙ্গাইলে ছিলাম তাই বলতে পারি এমন নীরবতা ৩ এপ্রিল হানাদাররা টাঙ্গাইল ঢোকার দিনের মতো ছিল। ব্যতিক্রম শুধু সেদিন উৎকণ্ঠা ছিল, মরণের ভয় ছিল, রাষ্ট্রপতির সফরের দিন তেমনটা ছিল না। আমার প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল বলছিল, স্যার! এ তো দেখছি অঘোষিত হরতাল। আসলে হরতালের চেয়ে বেশি। বাচ্চা পেটে পোয়াতিকেও সড়ক পার হতে দেয়নি। জেএসসি পরীক্ষার্থীদের সে যে কী কষ্ট কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আর দেশে রাজনীতি না থাকায় পুলিশের মুখ যে কতটা খারাপ হয়েছে বলার মতো নয়। পথচারীদের তারা যে কী অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছে তা টাঙ্গাইলের মানুষ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরের আগে কোনো দিন শোনেনি। সময় থাকতে এসব ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার। জনতার সরকার। এত জনবিচ্ছিন্ন কেন? মফস্বল সফরে এমন করলে সাধারণ মানুষ চাইবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাতে তাদের এলাকা সফর না করেন।

জনাব মিন্টু হক রফিক আজাদের ওপর ‘কাশবনে’ একটি বিশেষ সংখ্যা ছাপাবেন, তাই তাকে নিয়ে লেখা তৈরি করতে গিয়ে দেখলাম রফিক আজাদ কাদেরিয়া বাহিনীর প্রকৃত যোদ্ধা হলেও সরকারি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। তার কোনো সার্টিফিকেট নেই। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এবং মর্যাদা নেই। একসময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দাবি করেছিলাম; যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আমার বিরোধ হয়। সরকার আমার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বরং গালাগাল করেছিল। পরে অবশ্য বিএনপি ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, মুসলিম লীগ ঘরানার এক লোককে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করে মন্ত্রণালয়টির প্রচণ্ড ক্ষতি করেছে। প্রথমেই প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়টি গড়ে তোলার চেষ্টা করে মন্ত্রণালয়টির গুরুত্ব নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর আসে আওয়ামী লীগ। তারা একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হককে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছেও। আজ থেকে ১৯-২০ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা চেয়েছিলাম। সেদিন গালাগাল করলেও সরকার এখন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দিচ্ছে। যদিও আমি যখন ২ হাজার টাকা চেয়েছিলাম সেই অনুপাতে এখন ৪০-৫০ হাজার দিলেও সমান হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ সৃষ্টি করেছেন তাদের একটু সম্মান করলে জাতির তেমন কী ক্ষতি? কিন্তু দু-তিন বার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এবং একবার একটা প্রত্যয়নপত্রের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে গিয়ে দেখলাম মন্ত্রণালয় এবং কল্যাণ ট্রাস্টের কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কোনো সম্মান করে না। মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দরজা খোলা থাকলেও অন্যসব দরজা বন্ধ। সিঁড়ির নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী যেই সামনে পড়ে সেই ভাবে সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। একজন আইনবিদের ছেলে হিসেবে সব সময় শুনে এসেছি ১০ জন অপরাধী মুক্তি পাক কিন্তু একজন নিরপরাধী যেন শাস্তি না পায়। হয়তো দু-এক জন মুক্তিযুদ্ধে সঠিকভাবে অংশ নেয়নি। কোনোভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে কিন্তু তার জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত-অপমানিত হবে? সবাইকে বলা হবে ভুয়া! আমার নামে কত দলিল-দস্তাবেজ, কত ছবি থাকার পরও আমাকে বলা হয়েছে রাজাকার। সে হিসেবে আমিও তো ভুয়া। কী বলব, কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণের কথা। এর আগে একজন এমডি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। খারাপ মানুষ না এলে ভালো মানুষের পার্থক্য বোঝা যায় না। একজন ভালো এমডি গেছেন বলে এখন বিপরীতধর্মী আরেকজন এসেছেন। আওয়ামী লীগ করি না বলে একেবারে পচে গেছি তেমন নয়। অনেক মন্ত্রীর সঙ্গে এখনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়। কারও কারও অফিস-আদালতে গেলে তারা অসামান্য সম্মান দেখান। সেটা জনাব ওবায়দুল কাদের কিংবা সৈয়দ আশরাফ অথবা ড. রাজ্জাক কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। জনাব মোশাররফ হোসেন জমিদার পরিবারের সন্তান।

তাদের কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার, আতিথেয়তা অসাধারণ। যে কবার জনাব মোশাররফ হোসেনের অফিসে গিয়েছি প্রতিবার আপনজনের মতো ব্যবহার করেছেন। জনাব হোসেনের ছেলে পুতুলের স্বামী ফোন করলে বা দেখা হলে মামা বলে উতলা হয়ে যায়। বেশ ভালো লাগে তাদের অমন ব্যবহার। কিন্তু কল্যাণ ট্রাস্টে গিয়ে তার ছিটেফোঁটাও পাইনি। গিয়েছিলাম প্রত্যয়নপত্রের জন্য। প্রত্যয়নপত্র নাকি ইস্যু করা হয় গুলিস্তান ভবন থেকে। সেখান থেকে মতিঝিলে যেতে তাদের দেড় ঘণ্টা লেগেছিল। এমডি মহোদয় বললেন, গেজেটে যা আছে ওইভাবেই লিখবেন। আমার তাতে আপত্তি কী? গত ৩০ বছর রাতদিন লেখালেখি করি। তাই লেখার দু-একটা মারপ্যাঁচ ধরতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। যেহেতু ১৯৭৩ সালের গেজেট অনুসারে দেবেন সেহেতু সেই গেজেট অনুসারে বিশুদ্ধ হওয়ার কথা। খসড়া দেখলাম তাতে লিখেছেন, ‘জনাব কাদের সিদ্দিকী, পিতা মৃত মৌলভী মোহাম্মদ আবদুল আলী সিদ্দিকী।’ বঙ্গবীর লিখতে আপত্তি। বললাম ভদ্রলোক ’৭৩ সালের গেজেটে যেমন আবদুল কাদের সিদ্দিকী আছে তেমন পরের সব গেজেটে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম লেখা হয়েছে। আপনার কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে কয়েক মাস আগের সর্বশেষ চিঠিতেও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম লিখেছেন। আপনি যে এখানে জনাব কাদের সিদ্দিকী লিখলেন আবদুল গেল কোথায়? এখানে তো আল্লাহর দাস আবদুল নেই। ’৭৩ সালের গেজেটে আমার পিতা মৃত ছিল না, তাকে মৃত লিখলেন কী করে? এতে বোঝা যায় আপনারা সব পারেন। গেজেটে যা আছে তাও পারেন, যা নেই তাও পারেন। তিনি থতমত খেয়ে এদিক-ওদিক চাওয়া-চাওয়ি করছিলেন। আমি আর প্রত্যয়নের জন্য অপেক্ষা করিনি, চলে এসেছিলাম। কয়েক দিন পর বিআরটির এক চিঠি পেলাম। সেখানেও এক আজব ব্যাপার। বিআরটি চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জানতে চেয়েছেন আমি মুক্তিযোদ্ধা কিনা। কল্যাণ ট্রাস্ট একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিল। সেটা উল্লেখ করে বিআরটি চেয়ারম্যান জনাব নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জানতে চেয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট জনাব কাদের সিদ্দিকী, পিতা মৃত আবদুল আলী সিদ্দিকী, আকুর টাকুর পাড়া নামে একটি প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অতিরিক্ত গেজেটে তার নাম খুঁজে পাওয়া গেল না। যদিও তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সরকারি ভাতা পান এবং তার কাছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়পত্র আছে। তাই তাকে খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিনা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলো। এই হলো আমাদের কপাল! এখন যদি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলে আমি মুক্তিযোদ্ধা না, বীরউত্তম না, সর্বোপরি যুদ্ধাহত না, তাহলে উপায়? তখন তো আমিও ভুয়া। বেঁচে থাকার এই হলো বিড়ম্বনা। বঙ্গবন্ধু বলে বলে বঙ্গবীর বানিয়েছিলেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট তিনি নিহত হলে প্রতিবাদে ঘর ছেড়ে ১৬ বছর নির্বাসনে ছিলাম। ’৯০-এ দেশে ফিরি। তখন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারাই পরিচয়পত্রও ইস্যু করে। এখন বিআরটি জানতে চাচ্ছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বিবেচিত হব কিনা। একজন ছাপোষা কর্মকর্তার এমন প্রশ্নের আগে মরণ হওয়াই ভালো ছিল।

জনাব বাছেত সিদ্দিকী একমাত্র এমপি যিনি প্রত্যক্ষ রণাঙ্গনে ছিলেন। মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতে গিয়ে এক চমৎকার যোগাযোগব্যবস্থা ও অস্ত্র সরবরাহ লাইন করেছিলেন। যার শেওড়াবাড়ীর বাড়ি যুদ্ধের নয় মাস ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করলেও কম করা হবে। সেই বাছেত সিদ্দিকীও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। একমাত্র সেলিম ছাড়া অন্য ছেলেমেয়েদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

কাদেরিয়া বাহিনী থেকে দলবদ্ধভাবে গিয়ে রক্ষীবাহিনীর গোড়াপত্তন করা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীর অফিসার ট্রেনিংয়ের প্রথম পদাধিকারী লায়েক আলম চন্দন; যাকে সাভারে উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে পদক দিয়েছিলেন। অনেক জেনারেল যার অধীনে কাজ করেছে। সেও মুক্তিযোদ্ধা নয়। কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী এখন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের জন্য দ্বারে দ্বারে ফিরছে। মাহাবুব সাদিক, বুলবুল খান মাহাবুব, কবি আবু কায়সার, সায্যাদ কাদির, মামুনুর রশীদ, কাজী আতোয়ার— এদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম আছে কিনা বলতে পারব না। যেখানে রফিক আজাদেরই নেই, এদের আবার থাকে কী করে? ২৪ জানুয়ারি কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমা অনুষ্ঠানে অস্ত্র পরিদর্শনের সময় বঙ্গবন্ধুর পেছনে কবি রফিক আজাদের ছবি আজও স্পষ্ট দেখা যায়, তবু সে মুক্তিযোদ্ধা নয়।

কিছুদিন থেকে খুবই তোলপাড় চলছে পিডব্লিউটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার হাফিজ মুন্সীকে নিয়ে। হাফিজ মুক্তিযুদ্ধের সময় স্কুলের ছাত্র ছিল। সব মুক্তিযোদ্ধাকে আমার চেনার কথা নয়। কিন্তু সে প্রমাণ করেছে মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীতে ছিল। ২০১০ সালে সে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলে নানা জায়গায় অভিযোগ করে। একপর্যায়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ যায় দুদকে। সেখান থেকে একসময় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। সবকিছু সেখানেই চুকেবুকে যায়। এরপর আবার গত ডিসেম্বরে সে পিডব্লিউটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার হলে আবার সেসব অভিযোগ মাথাচাড়া দেয়। চাকরিতে প্রতিপক্ষরা সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় আবার তার নামে নানা অভিযোগ তুলতে থাকে। তা নিয়ে এখন ভীষণ তোলপাড়। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না, যারা ভুয়া বলে অভিযোগ করেন তারা কতটা আসল। অন্য কোনো ক্ষেত্রে গোপন অভিযোগ নিয়ে তেমন দৌড়াদৌড়ি, ছোটাছুটি না হলেও যেই কোনো মুক্তিযোদ্ধার নামে কিছু বলা হয় অমনি প্রশাসন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ভুয়া বলে কোনো কোনো সময় যেমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে হয়রানি করা হয় তেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও নষ্ট হয়। হাফিজকে নিয়েই বলি। হাফিজ মুক্তিযোদ্ধা না যারা বলছে তারা কারা? তাদের বাড়ি কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা কি হাফিজের এলাকার মুক্তিযোদ্ধা যে তারা তাকে দেখেনি। আর কাদেরিয়া বাহিনীর ১৮ হাজার যোদ্ধার কখনো সব যোদ্ধার একজন আরেকজনকে দেখার সুযোগ ছিল না। নাকি যারা অভিযোগ করেছে তারা রাজাকার-আলবদর ছিল। আর মুন্সী তাদের সঙ্গে রাজাকার দলে ছিল বলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম দেখে বিস্মিত হয়েছে। একজন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা সে আসল না নকল এটা প্রমাণে মুক্তিযোদ্ধার কোনো দায় থাকার কথা নয়। যারা নকল বলার চেষ্টা করবে বা করে তাদেরই প্রমাণ করা উচিত। কেন তাকে নকল মুক্তিযোদ্ধা বলেছে? মুক্তিযুদ্ধটা এখনকার মতো আমজনতার ব্যাপার ছিল না। পাশের বাড়ির লোকেরাও কে মুক্তিযোদ্ধা জানার কথা ছিল না। এমন অনেক ঘটনা আছে ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গেছে তা বাপ-চাচারাও জানতেন না। মুন্সীর সবকিছু ঠিকঠাক থাকতেও কতিপয় স্বার্থান্বেষীর তত্পরতায় তাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলতে যাওয়া এ তো দেখছি কাদেরিয়া বাহিনীকেই অস্বীকার করার শামিল। যারা অভিযোগ করেছে তারা আসল না নকল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী আপনার এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে বিচারের সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ আপনাদের সদয় দৃষ্টি ছাড়া এখন আর কিছু হবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় ভগ্নি,

এখন জঙ্গিদের প্রতি সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি বঙ্গবন্ধু নিহত হলে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করায় কাদেরিয়া বাহিনীর প্রতিও তখনকার মোশতাক-জিয়া সরকারের একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তাই তারা সে সময় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখানো দূরের কথা একদিকে সরকার, অন্যদিকে গণবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়িয়েছে। তারা অনেক জেল-জুলুম-নির্যাতন ভোগ করেছে। গত সাত-আট বছর নিরলস পরিশ্রম করে কাদেরিয়া বাহিনীর সেই বাদ পড়া সদস্যদের যে তালিকা করেছি তা সরকারি তালিকাভুক্ত করে আমরা যে পিতার পায়ের সামনে অস্ত্র বিছিয়ে দিয়ে ভুল করিনি তা প্রমাণের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

লেখক : রাজনীতিক।

 

১৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০৬:১৫:১৭