জননেত্রী সভাপতি, প্রকৃত রাজনীতিক ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলনে অষ্টমবারের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি এবং প্রকৃত রাজনীতিক ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আমার পরিবার ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের সফলতা কামনা করছি।

ছয়-সাড়ে ছয় দশক আগে সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে মুসলিম লীগের বঞ্চনার বিরুদ্ধে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জননেতা শামসুল হকের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম। কয়েক বছর পর মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দলটি হয় প্রকৃত জনতার দল। যে দলের জন্য আমি এবং আমার পরিবার জীবনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছি। সরকারি ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ এবারের মতো ’৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাগমারী মহাসম্মেলন করেছিল। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক ও প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যদিও সেই সম্মেলনের পরপরই তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। যেটা ছিল গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এক স্বর্ণোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনা। খুব ছোট বয়সে সেই সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল আফ্রো-এশীয় শান্তি ও মৈত্রী সম্মেলন। এখন যেমন আওয়ামী লীগ সরকার তখনো ১২ সদস্যের ১৩ মাসের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কেন্দ্রীয় এবং আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক সরকার ছিল। এখনকার মতোই তখন সারা পাকিস্তানের ক্ষমতা ছিল আওয়ামী লীগের হাতে। তোরণে তোরণে কাগমারী সন্তোষ ছেয়ে গিয়েছিল। আমরা ছোটরা নানা রংবেরঙের ছোট ছোট গাড়ি দেখে ভীষণ পুলকিত হতাম। প্রতিদিন নেতানেত্রীদের গাড়ির পিছু পিছু কাগমারী সন্তোষে যেতাম, আবার ছুটতে ছুটতে ফিরে আসতাম। প্রায় মাসব্যাপী ছিল এক উৎসবের আমেজ। ভারতের অনেক বিখ্যাত সাংবাদিক-সাহিত্যিক এসেছিলেন সেই সম্মেলনে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের ৫০-৬০ জন প্রতিনিধি এসেছিলেন। চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, ভুটানের নেতারা চমৎকার বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাতে দেশের এবং আওয়ামী লীগের উচ্চতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থ চ্যাটার্জির অসাধারণ বক্তব্য ছিল হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। বড় ভালো লেগেছে বিদেশি অতিথিদের মুখে দেশের এবং আওয়ামী লীগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনে। বিদেশি কেউ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করলে সেটাও দেশের প্রশংসাই হয়। জীবনের লম্বা একটা সময় ভারতে নির্বাসনে কাটিয়েছি। তখন মমতা ব্যানার্জিসহ এদের অনেককেই দেখেছি। আমরা তখন কষ্টে থাকলেও আলোয় ছিলাম, এরা কেবল আসছিলেন। এখন আমরা যাওয়ার পথে, তারা পাদপ্রদীপের নিচে জ্বলজ্বল করে জ্বলছেন এটাই শাশ্বত সত্য।

কদিন থেকেই শুনছিলাম আওয়ামী লীগ উদার মন নিয়ে এই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। অনেক আওয়ামী নেতা-কর্মী ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে বলেছিলেন, জামায়াত ছাড়া সবাইকে দাওয়াত করা হবে। কোনোভাবেই যেন আপনি অনুপস্থিত না থাকেন। আপনি এলে আমরা নতুন প্রাণ পাব। আপনার চেষ্টা প্রকৃত রাজনীতিকদের নিয়ে রাজনীতি সেটা অনেকটাই সফল হবে। এ নিয়ে দলীয়ভাবে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। নেতা-কর্মীদের অভিমত ছিল, সবাই গেলে আমাদেরও অংশ নেওয়া উচিত। ১৯-২০ তারিখ বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জাফর উল্লাহ চৌধুরী ফোন করেছিলেন, ‘কাদের ভাই, সম্মেলনে যাচ্ছেন তো? দাওয়াত পেয়েছেন?’ বলেছিলাম, না। এখনো পাইনি। তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে হয়তো আমি পাব না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাত্র প্রতিবাদকারী, একজন বেসামরিক বাঙালি বীরউত্তম এবং একটি নিবন্ধিত দলের সভাপতি হিসেবে নিশ্চয় দাওয়াত পাবেন এবং পেলে অবশ্যই যাবেন।’ তারও আগে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কাদের, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দাওয়াত পেয়েছ? পেলে যাবে তো?’ বলেছিলাম, না। পাইনি। পেলে চিন্তা করব। কয়েকটা টিভি চ্যানেলকে বলেছিলাম, দাওয়াত পাই বা না পাই, যাই বা না যাই আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন দল। একজন রাজনীতিক হিসেবে যে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্মেলনকে সাধুবাদ জানাই। আওয়ামী লীগে রাজনীতি থাকলে দেশে রাজনীতি এবং গণতন্ত্র থাকবে। দেশে গণতন্ত্র ও রাজনীতি থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে। কিন্তু তাদের দলে যদি গণতন্ত্র না থাকে তাহলে দেশে রাজনীতি এবং গণতন্ত্র কিছুই থাকবে না এবং যে যাই বলুন গণতন্ত্রহীন দেশে আওয়ামী লীগই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন কর্মব্যস্ত মানুষ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে যেমন গোসল-আসল করে পয়-পরিষ্কার ঝরঝরে হয়, যত দামি পোশাক-আশাক হোক একটা সময় তা সাবান-সোডা দিয়ে কেচে পয়-পরিষ্কার করতে হয় ঠিক তেমনি একটা রাজনৈতিক দলের গায়ে যত দাগ, যত নোংরা দু-তিন বছর পরপর সম্মেলনের মাধ্যমে তা পয়-পরিষ্কার করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগও তেমনটাই করবে।

দাওয়াত পেয়ে যেতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত বিএনপি যায়নি। এক গোয়ালের গরু হয়েও বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, রুহুল আমিন হাওলাদার যাননি। কেন যাননি তা তারা জানেন। গিয়েছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু। কিন্তু তাদের জাতীয় পার্টি হিসেবে কেউ বিবেচনা করেন না। বিদেশি অতিথিরা জননেত্রীকে, আওয়ামী লীগকে শতমুখে প্রশংসা করেছেন। দেশের জনগণ, সব রাজনৈতিক দলও যদি অমন করত সেটা হতো আমাদের জন্য আশীর্বাদ। যে যাই বলুন দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। এটাই কঠিন বাস্তবতা।

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে পাগল হয়ে উন্মাদের মতো মুক্তিযুদ্ধ করেছি। যুদ্ধ শেষে কাউকে কিছু না বলে স্বাধীনতার অর্জন আমাদের সব অস্ত্র তার এক কথায় পায়ের কাছে বিছিয়ে দিয়েছি। জননেত্রী সেসবের সাক্ষী না হলেও জামাল, রাসেল, শেখ শহীদ, জনাব তোফায়েল আহমেদ সাক্ষী ছিলেন। জামাল, রাসেল নেই, শেখ শহীদ, তোফায়েল আহমেদের সাক্ষীতে কি এখন কাজ হবে? মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক প্রায় সব খেতাব পাকিস্তানে ট্রেনিংপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়েছে। ৬৮ জন বীরউত্তমের মধ্যে আমি একমাত্র বেসামরিক বাঙালি। প্রায় ১৯ বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। আজ যারা আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা সেদিন তাদের জন্ম হয়নি। কয়েকবার জাতীয় সংসদে ছিলাম। এখনো একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিনি, তার হত্যার প্রতিবাদ করেছি। জীবনের অনেক সোনাঝরা দিন বঙ্গবন্ধুর নাম জঁপে নির্বাসনে কাটিয়েছি। এখনো বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন এবং পালন করি। তাই হয়তো সম্মেলনে দাওয়াত পাইনি। আজ যারা তার কথা বলে মুখে ফেনা তোলে তারা অনেকেই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে ফেরাউন বলেছে, চিৎকার করে গালাগাল করেছে। আমি আমার আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাইবোন সে যে কী দুর্দশার জীবন কাটিয়েছি তা বলার মতো নয়। আমি বা আমার দল দাওয়াত পায়নি। শুধু দেশে নয়, সুদূর কানাডা থেকে ছোট বোন শুশু নাসরীনকে বার বার ফোন করছে, অনেককেই দেখলাম ছোট ভাইকে দেখলাম না, ব্যাপার কী? ব্যাপার কিছু না। দাওয়াত না পেলে কী করে যাব আর না গেলে কীভাবে দেখবে?

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এখন মনে হয় আওয়ামী লীগের কাছে জামায়াতের চেয়েও খারাপ। এবারের সম্মেলনে যিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আর যিনি সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন তারা দুজনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব নিয়ে একদিন আমার বাড়ি এসেছিলেন। তাদের বলেছিলাম, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আগে আহ্বান এসেছে তাই তার কাছে আগে যাব তারপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় বোন শেখ হাসিনার কাছে। কী হবে দুদিনের দুনিয়ায় ওয়াদা ভঙ্গ করে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে? দাওয়াত পাইনি যাইনি। কিন্তু যারা গিয়েছিলেন বিদেশি অতিথিদের তুলনায় কানাকড়ি সম্মানও তারা পাননি। আর যাই হোক অনেক ঘটা করে বিএনপির সম্মেলনের চেয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন ভালো হয়েছে। বিএনপির কাউন্সিলররা সব দায়িত্ব বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়েছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ভারমুক্ত করেছেন। এখনো পুরো কমিটি করেননি বা করতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে, জননেত্রী শেখ হাসিনা অসাধারণ, অতুলনীয়।

সম্মেলনের পুরো সময় তিনি চুপচাপ থাকলে, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং অন্যদের নাম নিজে ঘোষণা না করে নির্বাচন কমিশনার সুপ্রিমকোর্ট বারের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে দিয়ে পরিচালনা করলে যথাযথ হতো। যেহেতু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই সেহেতু যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। ’৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে প্রথম বঙ্গবন্ধুকে দেখেছিলাম, দেখেছিলাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। তারপর এই প্রথম সরকারি ছায়ায় আওয়ামী লীগের জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন। আশা করি এখন অরাজনীতিকদের হাত থেকে রাজনীতি মুক্ত হয়ে রাজনীতিকদের হাতে আসবে।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন বেশি শক্তিশালী। তার কথা ষোল আনা নয় আঠারো আনা সত্য, অন্যদিকে এত জৌলুসের একটা মারাত্মক ক্ষতিকর দিকও থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জননেত্রী যখন বললেন, আমার জীবদ্দশায় আপনারা নতুন নেতৃত্ব ঠিক করে নিন। মনে হয় শতভাগ কাউন্সিলর চিৎকার করে উঠেছিলেন, তা হবে না। তাকেই সভাপতি থাকতে হবে। এটা তার দলে যথার্থ জনপ্রিয়তার প্রমাণ। এ উপমহাদেশে এখন দলীয় ফোরামে তার চেয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রী হয়তো আর একজনও নেই। কিন্তু তোতা পাখির মতো এক সুরের খারাপ দিকও যে নেই তা তো নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিস্ময়কর বিশ্বমানের জনপ্রিয় নেতা হয়েও কখনো দলে নিরঙ্কুশ ছিলেন না। তার প্রমাণ প্রথম প্রথম ছয় দফা অনেকেই সমর্থন করেননি। স্বাধীনতাযুদ্ধে ঘরবাড়ি ছাড়ার কারণে অনেকেই তাকে যা তা গালাগাল করেছেন। তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে আসুন এটাও অনেকে চাননি। আল্লাহর রহমতে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি যখন ফিরে আসেন তখন প্রতি পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে বাইরের শত্রু যেমন ছিল, তেমন ঘরের শত্রুও ছিল। জেনারেল এম এ জি ওসমানী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, নূরে আলম সিদ্দিকীর মতো নেতারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বক্তৃতা করে দল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। রামের লঙ্কা জয়ে অনেকেই বিভীষণকে ঘরের শত্রু বলে মনে করেন। কিন্তু বিভীষণকে ভালো করে জানলে, বুঝলে কেউ ঘরের বন্ধু না বলে শত্রু বলবে না। রাবণ ছিল সর্বগ্রাসী অহংকারী, মানুষের প্রতি নির্মম নির্দয়, সবাইকে পদতলে রাখা ছিল তার স্বভাব। পরের রাজ্য গ্রাস, পরনারী হরণ ছিল তার কামনা-বাসনা। অন্যদিকে বিভীষণ ছিলেন এক দেশপ্রেমিক পণ্ডিত। লঙ্কাকে অন্যের হাতে তুলে দিতে নয়, উন্মাদ রাবণের কারণে লঙ্কা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য তিনি শ্রীরামের পক্ষ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। বিশ্বরাজনীতি ছিল আমাদের বিরুদ্ধে।

আজ যেভাবেই হোক বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশ একটা জায়গা করে নিয়েছে। সেই জায়গা করার মর্যাদা অর্জনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কোনোক্রমেই অস্বীকার করা যাবে না, অবশ্য অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে। তা না হলে বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিনয় প্রভাকর জননেত্রীর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অমন অসাধারণ বক্তব্য কেন দেবেন— শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশ, ভারতের জনপ্রিয় নেতা নন তিনি সমগ্র এশিয়ার নেতা। রাজ্যসভায় বিরোধী দলের নেতা, যে রাজ্যসভায় ভারতের বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জি বহুদিন নেতা ছিলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী আজাদ চমৎকার বক্তব্য দিয়েছেন। মুম্বাইভিত্তিক শারদ পাওয়ারের কংগ্রেস নেতা তিনিও তার বক্তৃতায় এক অসাধারণ স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশেষ করে আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল মহন্ত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র হিসেবে শরণার্থী শিবিরে এটাওটা পৌঁছে দিয়ে গর্ববোধ করতেন। প্রফুল্ল মহন্ত যখন ছাত্র হিসেবে সারা আসাম মাতিয়ে তুলেছিলেন আমি তখন ভারতে। তাদের আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা এবং মুক্তকণ্ঠে আমার দেশের প্রশংসা করা সত্যিই এক মহাগৌরবের ব্যাপার। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

লেখক : রাজনীতিক।

২৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:২৩:২৬