আসন ভাগের জোট, নির্বাচনের জোট
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা শনিবার খুলনায় বলেছেন, ৩০ অক্টোবরের পর নির্বাচনের কাউন্ট ডাউন শুরু৷ নভেম্বরে তফসিল৷ রাজনৈতিক দলগুলোও জোটবদ্ধ হয়ে এখন নির্বাচনের ট্রেনে৷ আলোচনা আসন ভাগাভাগি নিয়ে৷ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শনিবার পটুয়াখালিতে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনে গিয়ে সবাইকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এর আগেই তিনি একইভাবে বিভিন্ন সমাবেশে ভোট চেয়েছেন৷ আর বিএনপি'র প্রাধান্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বুধবার সিলেটের প্রথম সমাবেশে ভোটের কথাই বলেছেন৷ শনিবার তাদের চট্টগ্রামের সমবাবেশও ভোটই প্রাধান্য পেয়েছে৷ তাই এখন নির্বাচনী জোট গুলোর মধ্যে আসন ভাগভাগি গুরুত্ব পাচ্ছে৷ আসন ভাগাভাগির হিসাব না মেলায় বিকল্পধারা শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেই যোগ দেয়নি৷

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে৷ ওই নির্বাচন বিএনপি জামায়াত জোট বর্জন করে৷ কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে৷ ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ সব দল অংশ নেয়৷ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে৷ আর বিএনপির নেতৃত্বে ৪ দলীয় জোট বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যায়৷ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০টি আসন পায়৷ জোটের শরীক জাতীয় পার্টি পায় ২৭টি আসন৷ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ৩টি, ওয়ার্কার্স পাটি ২টি এবং এলডিপি ১টি আসন পায়৷

৪ দলীয় ঐক্যজোটে বিএনপি এককভাবে ৩০টি আসন পায়৷ জামায়াতে ইসলামী ২টি এবং বিজেপি ১টি আসন পায়৷

ওই নির্বাচনে মোট ৪ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ নির্বাচনে ভোট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ এককভাবে ৪৯ ভাগ ভোট পেয়েছে৷ আর জাতীয় পার্টি পেয়েছে ৭ ভাগ৷ অন্যদিকে বিএনপি এককভাবে ভোট পেয়েছে ৩৭.২ ভাগ৷ আর তাদের শরীক জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪.৬ ভাগ৷ উভয় জোটের অন্যান্য শরীক দলের ভোট দশমিকের ঘরে৷

এবারে আওয়ামী লীগ এখন মহাজোটের পরিবর্তে ১৪ দলীয় জোট হিসেবে কাজ করছে৷ কারণ ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করে৷ বিএনপি-জমায়াত নির্বাচনে না যাওয়ায় মহাজোটের আরো অনেক দল আলদা নির্বাচন করে৷ আর বিএনপি'র ২০ দলীয় জোট আছে৷ তবে তারা এখন ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছে৷

জানা গেছে, এবার দুই জোটই শরীকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতকে প্রাধান্য দিয়ে৷ আর সেই ক্ষেত্রে এরশাদের জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করে, অথবা ছাড় দিয়ে নির্বাচন করে তাহলে জাতীয় পার্টিই আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকষিতে এগিয়ে থাকবে৷

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন তারা সবাই বিএনপি'র ওপর নির্ভরশীল৷ কারণ ড. কামাল হোসেন , মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রব এদের কোনো আসন নেই৷ অন্যদিকে জামায়াত ঐক্যফ্রন্টে না থাকলেও বিএনপির ২০ দলে আছে৷ তবে জাময়াতের নিবন্ধন নেই৷ তাদের প্রতীকও নেই৷ তারা দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে পারবে না৷ স্বতন্ত্রভাবে করতে হবে৷ জামায়াতের সিদ্ধান্তও তাই৷ তারা বিএনপি'র ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে না৷ জানা গেছে, এবারে নির্বাচনে তাদের সঙ্গে বিএনপি সমঝোতা করে কিছু আসনে প্রার্থী দেবে না৷ তবে সেইসব আসনেই এই সমঝোতা হবে যেখানে জামায়াতেরই ভোট বেশি৷

২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটগতভাবে ৩৯টি ও ৪টিতে এককভাবে নির্বাচন করে৷ সেই বিবেচনায় বিএনপি এবার সব মিলিয়ে ৫০টির বেশি আসন ছাড় দেবে না৷ জামায়াতের সঙ্গে ৩৫-৪০টি আসনে সমঝোতা করতে পারে৷ আর ফ্রন্টের শরিকদের সর্বোচ্চ ৮-১০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে৷ দু-একটি আসন ২০ দলীয় জোটের অন্য শরীকদের দেয়ার কথাও শোনা যায়৷

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দেশে যদি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হয়, আর আমরা যদি সেই নির্বাচনে যাই তাহলে অবশ্যই ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বসে আমরা আসন ভাগাভগি করবো৷ তবে সেটা কার জন্য কত হবে তা বলার সময় এখনো আসেনি৷ আর এই আসন ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে আমরা জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বরেণ্য ও গুণী ব্যক্তিদেরও প্রাধান্য দেব৷ যারা এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আছেন তাদের বিষয়ও গুরুত্ব দেয়া হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘জামায়াত ২০ দলীয় জোটে থাকবে কি থাকবে না তা এখনো বলা যায় না৷ কারণ একেক পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক ধরনের সিদ্ধান্ত হয়৷ আর সেই সিদ্ধান্ত হলেই জাময়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রশ্ন আসবে৷

গতমাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদ মাধ্যমকে জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীক দলগুলোকে ৬৫ থেকে ৭০ টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে৷ তবে শরীক দলগুলোর ১০০টি আসন দাবি করছে৷

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলো ৬০ টি আসনে প্রার্থিতা চাইলেও পেয়েছিল ১৮টি আসন৷ তবে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করে৷ এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪ এবং জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসন পায়৷ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিল ৮৬ আসনে৷ এই নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোট অংশ নেয়নি৷

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘১৪ দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট৷ দু:শাসন , জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে এই জোট৷ এখানে আসন ভাগাভাগি মুখ্য নয়৷ তারপরও জোটের শরীকদের আসন তো দেয়া হবে৷ আর এরশাদও মনে করেন তাঁর নিজের দলের আস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের সঙ্গেই থাকতে হবে৷ আগে নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে যে রকম আসন ছাড় দেয়া হয়েছে, এবারও সেরকমই হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘শুধু আসন ভাগাভাগি করলে তো হবে না৷ প্রার্থীকে তো জিততেও হবে৷ তাই যোগ্য প্রার্থীইকেই মনোনয়ন দেয়া হবে৷ শরীকদের যার অবস্থান যেখানে ভালো তা বিবেচনায় নেয়া হবে৷'' ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য শরীকদের ৪৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল৷ তবে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শরীকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ আসন ছাড়তে পারে৷

 

২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৩:৪৮