অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ, বাড়ছে শাস্তি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ৷ বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্তটা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে৷ এ কারণে শাস্তিও বেড়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব নয়৷ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো গত ১৭ ডিসেম্বর এক প্রতিবেদনে বলেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিতে সহযোগিতা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে হরহামেশা৷ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তেও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে৷ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৭ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর৷ মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে গত ৩১ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের পুলিশের জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়৷ প্রথম দফায় বলা হয়, যেসব পুলিশ সদস্য মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের চিহ্নিত করে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা, প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এরপর জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে হিসাব পাওয়া যায়নি৷ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ মাসের শেষে বাকি ছয় মাসের মোট হিসাব পাওয়া যাবে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘‘পুলিশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে এটা বলবো না৷ বলা উচিত এই প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে৷ আগে সেভাবে গণমাধ্যমে আসত না, এখন আসছে৷ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও আগে সেভাবে খেয়াল রাখত না, এখন রাখছে৷ ফলে বিষয়টি সামনে চলে এসেছে৷ আমি মনে করি, পুলিশের মধ্যে কোন পরিবর্তন হয়নি৷ তাদের কিছু বিভাগ বেড়েছে সত্যি, কিন্তু সেই বৃটিশ নিয়মেই তারা চলে৷ আর এই সংস্কারটা হচ্ছে না- এর কারণ পুলিশকে অনেক বেশি রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়৷ পুলিশের মধ্যে এমন কোন ক্যারিশমেটিক নেতা আসেনি যে তারা নিজের উদ্যোগেই সংস্কার করবে৷ আর আমাদের অর্থনীতি যেভাবে বেড়েছে তাতে পুলিশের মধ্যে এই দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে৷ অনেকেই অল্প দিনে ধনী হতে চান ফলে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন৷''

হিসাবে দেখা গেছে, মাদকে জড়িত থাকার অভিযোগ যে ৬৭ জন পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের গুলশান, ওয়ারী, মতিঝিল ও তেজগাঁও অঞ্চল, পুলিশের কল্যাণ ট্রাস্ট, পরিবহন শাখা ও দাঙ্গা দমন বিভাগের (পিওএম) ২৩ জন, যশোরের ১০ জন, টাঙ্গাইলের ৭ জন, বগুড়ার ৪ জন, নোয়াখালীর ৩ জন, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও হাইওয়ে পুলিশের ২ জন করে, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, বরিশাল, সিলেট পুলিশের ১ জন করে এবং র‌্যাবের ৩ জন সদস্য আছেন৷

পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) আবদুল আলিম মাহমুদ বলেন, ‘‘বাহিনীর কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা মাত্রই আমরা কিন্তু তাদের শাস্তি নিশ্চিত করছি৷ কারো কারো ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে, আবার কারো ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলাও দেয়া হচ্ছে৷ আমরা শাস্তির মাধ্যমে তাদের বোঝাতে চাই, অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না৷''

মোটিভেশনাল কাজটা হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তারা অপরাধ করলে কোন ভাবেই মুক্তি মিলবে না৷''

এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিমাসে সাড়ে ৩শ' থেকে ৪শ' অভিযোগ জমা হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তরে৷ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে অনেকেই নানাভাবে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, আবার অনেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে নানা অপরাধ করছে৷ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, পোস্টিং ও পদোন্নতির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে৷ বিশেষ করে জেলা শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি৷

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, ‘‘অপরাধ যে অপরাধই এটা সব পুলিশ সদস্যই জানে৷ ফলে তাদের মোটিভেশনের এখানে কোন প্রয়োজন নেই৷ তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই অপরাধ প্রবণতা কমবে৷ আর মাদকসহ এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷ কারণ পুলিশ এখানে রক্ষক৷ এই রক্ষকই যদি মাদক সেবন বা উদ্ধার করা মাদক বিক্রি করে দেয় তাহলে তাকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে৷'' -ডয়চেভেলে

 

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:০৬:৫৯