বাংলাদেশে নির্বাচনী আমেজ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এক ধরনের চাঞ্চল্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে৷ চলছে সভা-সমাবেশ৷ তবে সব দলের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সব দলকে নির্বাচনে আনাটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সভা-সমাবেশ করা ভালো, কিন্তু সমস্যা হল- নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা একেবারে দূর হয়ে যায়নি৷ অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যাপারে এখনো অনড়, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের অধীনেই হবে নির্বাচন, অর্থাৎ সংবিধান মেনে৷

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক পরিষদ বা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচনের বিষয়টি কিন্তু আগের মতো না৷ এবার বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে৷ কারণ নির্বাচনে না এলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে৷ আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে যে পরিবেশ ছিল, সেরকম বোমাবাজি করার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না৷ আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক ধরনের টেনশন কাজ করছে৷ তবে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, যেসব সমস্যা বা সংকট আছে তা দূর হবে বলেই আমার বিশ্বাস৷''

নির্বাচন কমিশনের সংলাপ থেকে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি বলে মনে করেন তিনি৷ জানান, ‘‘সব দলের সুপারিশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি গ্রন্থ প্রকাশ করতে চাচ্ছে৷ সেটা করলে এই মুহূর্তে আমাদের কোন উপকারে না লাগলেও ভবিষ্যতে যারা আসবেন তাদের জন্য ওই গ্রন্থটা অনেক কাজে লাগবে৷ আমি মনে করি তারা ঠিক পথেই আছে৷''

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য, পরামর্শ, প্রত্যাশা এবং শঙ্কা-আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে এই সংলাপে৷ নির্বাচন কমিশনও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের প্রত্যাশা এবং করণীয় সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে৷ তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক এটা সবারই প্রত্যাশা৷

গত সপ্তাহে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করেছে৷ ওই সমাবেশটা অনেকটা নির্বাচনী সমাবেশে রূপ নেয়৷ অন্যদিকে শনিবার একই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক কমিটি৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন৷ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন৷ এখানে নির্বাচনের কথা খুব বেশি না এলেও এটা যে বিএনপির পাল্টা সমাবেশ এবং নির্বাচনী শো-ডাউন ছিল সেটা অনেকটা পরিষ্কার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছিল বিএনপির চেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণের কথা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচন হতে এখনো এক বছর বাকি৷ বাংলাদেশে এক বছর আগে কিছু পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়৷ কারণ ৬ মাস পর অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে৷ সবাই আগামী নির্বাচন নিয়ে যতটা ইতিবাচক, আমি কিন্তু অতটা না৷ আমাদের সামনে অনেক ঝামেলাই রয়ে গেছে৷ রাজনৈতিক দলগুলো এখনও কোন সমঝোতায় আসতে পারেনি৷ সবাই যে যার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন৷ ফলে শঙ্কাও কম নয়৷ তবে নির্বাচন কমিশন যে সংলাপটা শেষ করল সেটা থেকে কিছুটা অর্জন তো হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস৷ সংলাপ করলে কিছু না কিছু কাজে লাগে৷ এই সংলাপের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের তারা কিন্তু চিনল৷''

বিএনপি-আওয়ামী লীগ এর সমাবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি তো মনে করি এটা ভালো দিক৷ তবে পরিবেশ যেন শান্ত থাকে, সবার একই রকম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে৷ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে এই ধরনের সভা-সমাবেশ আরো বাড়বে৷'' আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সব দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ পাশাপাশি সব দলকে নির্বাচনে আনাও একটা বড় কাজ৷ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না৷ সবাইকে নিয়ে ভালো নির্বাচন করাই এখন প্রধান কাজ নির্বাচন কমিশনের৷'' -ডয়েচেভেলে

 

 

 

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:৪৯